৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস  যথাযোগ্য মর্যাদায় ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে   পালিত হয়েছে চট্টগ্রামে।

দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (১৫ আগস্ট) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সব সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে উত্তোলন করা হয়। নগরজুড়ে মাইকে প্রচার করা হয় বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ, কোরআন তেলাওয়াত ও দেশাত্মবোধক গান।

দিনের শুরুতে সকাল ৯টায় নগরের শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির শুরু করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি চৌকস দল এ সময় সশস্ত্র সালাম জানায়।

পরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান। এরপর চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ডিআইজি, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার এস এম রশিদুল হক, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. শাহাবুদ্দিন, মহানগর মুক্তিযোদ্ধা ইউনিট কমান্ডার মোজাফফর আহমদ জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এরপর চট্টগ্রামের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে সর্ব সাধারণের জন্য তা উন্মুক্ত করে দেয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, শোক র‌্যালি, আলোচনা সভা, দরিদ্রদের মাঝে খাবার বিতরণসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করে স্থানীয় প্রশাসন, আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন।

পাশাপাশি নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে মিলাদ মাহফিলেরও আয়োজন করা হয়েছে। অনুরূপভাবে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও একই কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

এদিকে সকাল ১০টায় নগরের দোস্ত বিল্ডিংয়ের দলীয় কার্যালয়ে কোরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ। এছাড়া দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও দলীয় কার্যালয়ে কোরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন

চসিক

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদেরকে মানুষ নামের হায়েনা ও শয়তানের প্রেতাত্মা বলে আখ্যা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

আজ শনিবার সকালে টাইগারপাসস্থ অস্থায়ী নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে বঙ্গবন্ধুর ৪৫ তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন বলেন, আজ ১৫ আগস্ট। জাতির জন্য এক কলঙ্কময় দিন। জাতীয় শোক দিবস। ৪৫ বছর আগে ১৯৭৫ সালের এই দিনে পাক হায়েনাদের প্রেতাত্মা তথা একদল বিপদগামী সেনাবাহিনীর একটি চক্রান্তকারী চক্র সপরিবারে হত্যা করে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ৪৮, ৫২,৬৬, ৬৯, ৭০ সহ বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুর দ্বার হতে বার বার ফিরে এসেছিলেন, ৭১-এ পাকিস্তানি হায়েনারা যা করতে পারে নি, সেই কাজটিই অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় ও পূর্বপরিকল্পিতভাবে সম্পাদন করে পাপিষ্ঠ ঘাতকরা। ওরা মানুষ নামের হায়েনার দল, ওরা শয়তানের প্রেতাত্মা। ওরা জঘন্য। ওরা বিপদগামী হিংস্র জানোয়ারের দল।

একই অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট শহীদ হওয়াদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় খতমে কোরআন, মিলাদ ও বিশেষ দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে নগর ভবনের সামনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রশাসক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম সুজন।

এসময় চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ৃয়া, প্রধান প্রকৌশলী লে.কর্ণেল সোহেল আহমেদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুফিদুল আলম, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা.সেলিম আকতার চৌধুরী, স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা জজ) জাহানারা ফেরদৌস, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা আকতার নেলী, প্রশাসকের একান্ত সচিব আবুল হাশেম, রাজস্ব কর্মকর্তা শাহেদা পারভীন, প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি এ.কে.এম রেজাউল করিম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দীকি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল

হায়েনারা বঙ্গবন্ধুর নশ্বর শরীরকে হত্যা করলেও তাঁর অবিনশ্বর চেতনা ও আদর্শ মৃত্যুঞ্জয়ী বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

আজ শনিবার সকালে চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল আয়োজিত জাতীয় শোক দিবস-২০২০ ও মুজিব শতবর্ষ পালন উপলক্ষ্যে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খোরশেদ আলম সুজন বলেন, বাংলার ইতিহাসে আজ সেই দিন। বৃষ্টিঝরা শ্রাবণের অন্তিম দিনে সেদিন বৃষ্টি নয়, ঝরেছিল রক্ত। বাংলার ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের মতো বিশাল তাঁর বুক থেকে রক্তগোলাপের মতো লাল রক্ত ঝরেছিল ঘাতকের বুলেটে। সেদিন আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর বাসগৃহে, বত্রিশ নম্বরের সেই বাড়িতে, আমাদের ইতিহাস তীর্থে, হত্যা করা হয়েছিল কেবল তাঁর নশ্বর শরীরকে, কিন্তু তাঁর অবিনশ্বর চেতনা ও আদর্শ ছিল মৃত্যুঞ্জয়ী। ঘাতকের সাধ্য ছিল না ইতিহাসের সেই মহানায়কের অস্তিত্বকে বিনাশ করার।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু আর বাংলাদেশ যমজ শব্দ। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে তারা বাংলাদেশকেই হত্যা করতে চেয়েছিল, মুছে দিতে চেয়েছিল মুক্তিযুদ্ধজাত এই দেশটিকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকে। কিন্তু এত সহজেই কি মোছা যায় জনকের নাম আর জনকের স্বপ্নজাত দেশটিকে? দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ হাজার বছরের ইতিহাসে এই আমরাইতো একমাত্র জাতি যারা সশস্ত্র সংগ্রাম করে প্রত্যক্ষ যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছি একটি মানুষের ডাকে, তিনি বঙ্গবন্ধু।

আর পড়ুন:   গুল-এজার বেগম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন উদ্বোধন

সুজন বলেন, চিকিৎসা সেবায় চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল হচ্ছে দ্বিতীয় লাইফ লাইন। সম্প্রতি করোনা মহামারিতে যখন চট্টগ্রামের মানুষ দিশেহারা তখনই মানবতার হাত প্রসারিত করে অদ্যাবধি মানব সেবায় অবদান রেখে চলেছে চট্টগ্রাম মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতাল। এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে চসিক পরিচালিত জেনারেল হাসপাতাল (মেমন-২) তাদের সাথে সমন্বয় করে নাগরিক সেবা প্রদান করতে পারবেন।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস.এম মোরশেদ হোসেন এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. আঞ্জুমান আরা ইসলাম, ট্রেজারার মোহাম্মদ রেজাউল করিম আজাদ, প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলী আশরাফ, রেখা আলম চৌধুরী, লায়ন ড. মুহাম্মদ সানাউল্লাহ, প্রকৌশলী মো. জাবেদ আফসার চৌধুরী, মোহাম্মদ হারুন ইউসুফ, এম জাকির হোসেন তালুকদার, ডা. কামরুন নাহার দস্তগীর, মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ,এস এম কুতুব উদ্দিন, মা ও শিশু হাসপাতাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এস এম মোস্তাক আহমদ, হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হক,উপ পরিচালক এ কে এম আশরাফুল করিম, আওয়ামী লীগ নেতা জামশেদুল আলম চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি ইমরান আহমদ ইমু প্রমূখ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন ডা. শেফাতুজ্জাহান। পরে প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের প্রত্যেক ইউনিট পরিদর্শন করেন এবং এখানে অবস্থানরত ডাক্তার, নার্সসহ সেবা প্রত্যাশী রোগীদের সাথে কথা বলেন ও তাদের খোজ খবর নেন। এসময় তিনি এই হাসপাতালের উন্নয়নে চট্টগ্রামবাসীকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

বক্তব্য রাখছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ

বিএনপি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

১৫ আগস্ট (বুধবার) জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যার ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।

আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, বিএনপি সবসময় স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সাথে আঁতাত করে এদেশে পাকিস্তানী চেতনা কায়েম করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। ক্ষমতায় থাকাকালীন জিয়াউর রহমান জাতির জনকের আত্মস্বীকৃত খুনিদেরকে রাষ্ট্র যন্ত্রে স্যাটেল করেছে। তাদেরকে বিভিন্নভাবে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়ে গেছে। এদেশে যাতে জাতির জনকের হত্যার কোন বিচার না হয় সেজন্য পাস করেছিলেন ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ। তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও হেঁটেছেন স্বামীর দেখানো পথে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে যাতে জাতির হৃদয়ে প্রশ্নবিদ্ধ করে রাখা যায়, বঙ্গবন্ধুর মত এক মহীরুহ নেতাকে নিয়ে জাতি যাতে বিভ্রান্ত থাকে সেজন্য অপপ্রচার, প্রপাগান্ডা এহেন কোন কাজ নেই খালেদা জিয়া করেননি। শেষ পর্যন্ত জাতির কলঙ্কিত দিন এই ১৫ আগস্ট তারিখকে তিনি বানিয়েছেন তার জন্মদিবস। বিএনপির কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে জাতির জনকের হত্যাকাণ্ডের সাথে তারা জড়িত।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চসিক প্রশাসক নগর আওয়ামী লীগ সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, সহসভাপতি নঈম উদ্দিন চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী, এম এ রশিদ, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা মো ইয়াকুব, হাজী শফিকুল ইসলাম, আবুল মনসুর, হারুনুর রশীদ হারুন, মোমিনুল হক, আনসারুল হক, গিয়াস উদ্দিন, ইকবাল চৌধুরী, স্বপন কুমার মজুমদার, ইসকান্দর মিয়া প্রমুখ।

এসময় উপদেষ্টা শফর আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক নোমান আল মাহমুদ, শফিক আদনান, চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক চন্দন ধর,বন ও পরিবেশ সম্পাদক মসিউর রহমান চৌধুরী, ত্রাণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন, শ্রম সম্পাদক আবদুল আহাদ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবু তাহের, উপপ্রচার সম্পাদক শহীদুল আলম, কার্য নির্বাহী সদস্য বেলাল আহমদ, সাইফুদ্দিন খালেদ বাহার, থানা আওয়ামী লীগ নেতা মোজাহেরুল ইসলাম, মোহাম্মদ হোসেন হিরণ, সরাইপাড়া ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ আহবায়ক নুরুল আমিন শান্তি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ঃ

বাংলার অবিসংবাদিত নেতা, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতির আলোকবর্তিকা বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার।

তিনি আরও বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর আলোয় বাঙালি জাতি আজ বিশ্ব দরবারে স্বমহিমায় আলোকিত।

শনিবার (১৫ আগস্ট) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু’র জীবন ও কীর্তি’ এবং ‘শোকাবহ ১৫ আগস্ট’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু পরিবারের শহীদ সদস্যদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে উপাচার্য আর বলেন, ১৫ আগস্টের ক্ষতচিহ্ন বাঙালি জাতিকে বয়ে বেড়াতে হবে যুগ যুগ ধরে। এ মহাপুরুষ মা-মাটি ও মানুষকে ভালোবাসতেন বলেই বাঙালি জাতির জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। মৃত্যুঞ্জয়ী এ মহাপুরুষকে স্বপরিবারে হত্যা করে হায়নার দল চেয়েছিল বাঙালি জাতিকে বিশ্ব মানচিত্র থেকে নিশ্চিহ্ন করতে; কিন্তু তাতে তারা সফল হয়নি। পক্ষান্তরে হায়নার দল ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। অন্ধকারের কোন অপশক্তি এ গতি রোধ করতে পারবে না।

এতে সূচনা বক্তব্য রাখেন চবি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর এস এম মনিরুল হাসান। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চবি সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, অনুষদের ডিনবৃন্দ, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ, হলের প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগীয় সভাপতি, ইনস্টিটিউট ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, প্রক্টর ও সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, অফিস প্রধানবৃন্দ, বঙ্গবন্ধু পরিষদের নেতৃবৃন্দ, অফিসার সমিতি, কর্মচারী সমিতি ও কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যবৃন্দ।

আর পড়ুন:   আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু

এর আগে সকাল ১০ টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতারসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য সংগঠনগুলো। বঙ্গবন্ধুসহ ১৫ আগস্ট শাহাদাৎ বরণকারী অন্যান্য শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে ফজরের নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল মসজিদে দোয়া মাহফিল, বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের স্ব স্ব উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

                    বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করছেন চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশ

সিভাসু

যথাযোগ্য মর্যাদায় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) এই উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।  উপাচার্য প্রফেসর ড. গৌতম বুদ্ধ দাশের নেতৃত্বে এসব কর্মসূচীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ক্যাম্পাসে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করেন।

এরপর শিক্ষক সমিতি, অফিসার সমিতি, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম, অনুষদ, আবাসিক হল, কর্মচারী ইউনিয়ন, প্রগতিশীল কর্মচারী ফোরাম এর পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়।

এ সময় মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ নূরুল আবছার খান, ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. জান্নাতারা খাতুন, পোল্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার-এর পরিচালক প্রফেসর ড. পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, রেজিস্ট্রার মীর্জা ফারুক ইমাম, পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন, আইকিউএসি’র পরিচালক প্রফেসর ড. মো. কবিরুল ইসলাম খান, প্রক্টর প্রফেসর গৌতম কুমার দেবনাথ, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মনিরুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক ড. সুচন্দন সিকদার, অফিসার সমিতির সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আবু মোহাম্মদ আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

 

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ এর অংশগ্রহণে দোয়া মাহফিল

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ।

শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে আন্দরকিল্লা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

মাহফিলে ১৫ আগস্ট শাহাদাতবরণকারী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।

এর আগে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

কর্মসূচিতে অংশ নেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য মোছলেম উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রদীপ দাশ, দফতর সম্পাদক আবু জাফর, উপ-দফতর সম্পাদক বিজয় কুমার বড়ুয়া, দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিন দাশ রাহুল, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সম্পাদক রাশেদুল আরেফিন জিসানসহ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা।

 

 

করোনা আইসোলেশন সেন্টার

চট্টগ্রাম করোনা আইসোলেশন সেন্টারের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের পরাজিত করার মূলমন্ত্র হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ।

বক্তব্য রাখছেন চট্টগ্রাম করোনা আইসোলেশন সেন্টারের মুখপাত্র অ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা চৌধুরী

তিনি বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি এখনও দেশ ও জাতির অব্যাহত অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে নানা অপকৌশলে লিপ্ত রয়েছে।

স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং উন্নয়ন ও গণতন্ত্রবিরোধী চক্রের যেকোনো অপতৎপরতা ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করতে হবে।

শনিবার (১৫ আগস্ট) জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম করোনা আইসোলেশন সেন্টারে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সোহানা বলেন, বঙ্গবন্ধু আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মনির্ভরশীল জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এক অসাধারণ কারিগর। তিনি পরিণত জাতিসত্তা নির্মাণের দার্শনিক। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণে অবিচল থেকেছেন বঙ্গবন্ধু। তার আদর্শ ও চরিত্র আমাদের কর্মে ও জীবনে প্রতিফলিত করতে হবে।

করোনা আইসোলেশন সেন্টারের প্রধান সমন্বয়ক নূরুল আজিম রনি বলেন, এ জাতি পথ হারিয়েছিল আগস্টেই। আগস্টেই রচিত হয়েছিল বাঙালির ইতিহাসের এক কলঙ্কিত-কালো অধ্যায়। আগস্টেই বঙ্গবন্ধুকে থামিয়ে দিয়েছিল বর্বর হায়েনার দল।

‘কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের পথ চলা থামাতে পারেনি কেউ। বঙ্গবন্ধু ক্ষুধা, দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, দুর্নীতি এবং শোষণমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছিলেন- বাংলাদেশ সেই পথেই এগিয়ে চলেছে। ’

করোনা আইসোলেশন সেন্টারের পরিচালক গোলাম সামদানী জনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হয়তো আমরা আর পাবো না। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে দীপ্ত শপথ নিতে পারি এই আগস্টেই। তাই আগস্টের এই শোক হোক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার শক্তি।

সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে  উপস্থিত ছিলেন নুরুজ্জামান, সাদ শাহরিয়ার, মিজানুর রহমান মিজান, শাহজাদা চৌধুরী, তাজুল ইসলাম শিবলী, ঐশিক পাল জিতু, তৌহিদুল ইসলাম, আহমেদ অভি প্রমুখ।

 

সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগ

জাতীয় শোক দিবসে সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে  সীতাকুণ্ড উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক  অর্পণ  ও আলোচনার আয়োজন করেছে আজ সকালে। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের   সভাপতি  আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া। এতে উপজেলা , ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে বক্তব্য রাখছেন সীতাকুণ্ড উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল্লাহ আল বাকের ভূঁইয়া