৮ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মোহাম্মদ ইউসুফ  *

৬আগস্ট ২০২০ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বগ্রহণের পর ৭দিনেই নবনিযুক্ত প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন তাঁর ক্যারিসমেটিক নেতৃত্বের যাদুতে নগরবাসীকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার

দুর্নীতিবিরোধী “জিরোটলারেন্স নীতি” অনুসরণে চসিকের বিরাজমান দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে  প্রশাসক সুজন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও সড়কসংস্কারসহ নানান কর্মযজ্ঞে আত্মনিয়োগ করেছেন। মাঝে একদিনের ঢাকাঅভিযান ছাড়া বাকি ৬দিনই তিনি মাঠেই ছিলেন। নগরবাসীর দুর্ভোগ নিরসনে তিনি বিরামহীন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। চসিক প্রশাসন কীভাবে পরিচালনা করতে হয়, প্রশাসক সুজন  তা অক্ষরে অক্ষরে সকলকে বুঝিয়ে দিলেন। যেভাবে প্রশাসক সুজন অত্যন্ত দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সাথে তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য  পালন করছেন, আগামিতে যিনি মেয়র হয়ে আসবেন, তার পক্ষে সুজনের শুরুকরা কাজের গতি বজায় রাখা যে বেশ কঠিন হবে- তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

প্রশাসক সুজন ইতোমধ্যে ৪১টি ওয়ার্ডের মানুষকে ঘোষণায় জানিয়ে দিয়েছেন, কোন এলাকার কী সমস্যা আছে তা সরাসরি প্রশাসককে অবহিত করতে। সাধ্যের আওতায় থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে সেটির সমাধান করে দিচ্ছেন তিনি। নগরবাসীকে তিনি ‘কুরিয়ার সার্ভিস’ দিতে সর্বদা প্রস্তুত।

দায়িত্বগ্রহণের পরপরই প্রশাসক সুজন দীর্ঘদিনধরে অবহেলায় পড়ে থাকা খানাখন্দ ও গর্তে পরিণত হওয়া নগরীর পোর্টকানেক্টিং রোডে অভিযান চালান।

ক্লান্তিহীন দিনশেষে রাতেও নামছেন‘অ্যাকশনে’।যখন যেখানে অনিয়ম দেখছেন,নিজেই সরেজমিনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে  সেখানে হাজির হচ্ছেন, সমস্যা সমাধানের দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।চসিক প্রশাসকের এমন উদ্যমী প্রয়াস সবমহলে দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছে।

গত৬আগস্ট (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রাম সিটিকরপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার প্রথম দিন কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময়কালে অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি কিন্তু উদারমনা, যারা দুর্নীতি করছেন বিসমিল্লাহ করে তারা তওবা করে ফেলুন আজ থেকে।যারা দায়িত্বের সাথে বেঈমানি করবেন, নগরবাসীকে কষ্ট দেবেন, তাদের ছাড় দেবোনা, ক্ষমা করবো না।না পারলে দায়িত্ব ছেড়ে দেবো, তবুও অন্যায়ের সাথে কখনো আপোস করবোনা।’

চসিক কর্মকর্তাদের প্রশাসক সুজন বলেন, এখানে যারা আছেন সবাই জ্ঞানী-গুণী মানুষ, আপনাদের জ্ঞান-প্রজ্ঞাকে কাজে লাগান।আজ সকালে আসার সময় নিউমার্কেট জিপিও’র সামনে ময়লা দেখেছি সকাল নয়টার সময়।কেন এতো সকালে ময়লা থাকবে।পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তাদের আহ্বান জানাবো, ভবিষ্যতে এ ময়লা আর দেখতে চাইনা।বর্জ্যব্যবস্থাপনা নিয়ে নাছিরভাই অনেক কাজ করেছেন, সেটা সফল করতে হবে। যেদিন বৃষ্টি হবে সেদিন আমিও থাকবো, কোথায় পানি জমছে তা সরেজমিনে দেখবো।ঘরে বসে কাজ করার দিন শেষ।আমরা মহিউদ্দিন চৌধুরীর কর্মী, কিভাবে কাজ করতে হয় তা আমরা জানি।

চসিককে দলীয় কার্যালয় করা হবেনা জানিয়ে সুজন বলেন, প্রশাসক হিসেবে আমার যা দায়িত্ব তার শতোভাগ এখানে পালনের আপ্রাণ চেষ্টা করবো। এছাড়া আমাকে যিনি দায়িত্ব দিয়ে প্রশাসকের চেয়ারে বসিয়েছেন সেই বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনা এ শহরের উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিয়েছেন। তাই, এ নগরের উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করার কোনো কারণ নেই।

৬আগস্ট :

পিসি রোড উন্নয়নে ৫দিনের আল্টিমেটাম

৬আগস্ট চসিক প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের সাথে সাথে নগরীর পোর্টকানেকটিং রোডে চলে যান এবং ৫দিনের মধ্যে এইরোডকে যানচলাচলের উপযোগী করার আল্টিমেটাম দেন সুজন।সেদিনপোর্টকানেকটিং (পিসি) রোড পরিদর্শনকালে প্রশাসক সুজন বলেছিলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে পোর্টকানেকটিং সড়কটি অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ।কিন্তু দীর্ঘসুত্রিতায় নিমজ্জিত হয়ে বছরের পর বছর এসড়কের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়নি-যা অত্যন্ত দু:খজনক।এনিয়েস্থানীয় এলাকাবাসীর মনে ক্ষোভ সৃষ্টি ও চট্টগ্রামের সৌন্দর্যও সুনামের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।৫দিনের মধ্যে যানচলাচলের ব্যবস্থা করতে না পারলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি বাতিল করার সুপারিশ করা হবে মন্ত্রণালয়ে।

আর সময় ক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই।এসড়কে আগামী ৫দিনের মধ্যে যতগর্ত রয়েছে তা ভরাট করে যানচলাচলের উপযোগী ও আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যে অবশ্যই কাজ সম্পাদনের কড়া নির্দেশনা দেন প্রশাসক সুজন। তিনি আরও বলেন,

‘এই শহর আমাদের শহর।পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরের একটি চট্টগ্রাম।জলাবদ্ধতা এই শহরের   প্রধান সমস্যা।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখহাসিনা সেনাবাহিনীকে দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করাচ্ছেন।উনারারাতদিন পরিশ্রম করছেন।আশা করছি, একবছরের মধ্যে একটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আমরা পৌঁছতে পারবো।’

৭আগস্ট :

দুর্নীতি বিরোধী অ্যাকশন শুরু

চসিকের তেলচুরির সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত এক চালককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন চসিক প্রশাসক সুজন।

দায়িত্ব নেয়ার পর দিন ৭আগস্ট (শুক্রবার) সকাল ১০টার দিকে চসিক পরিচালিত মেমন হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স থেকে তেল চুরি করে বিক্রির দৃশ্য ধরা পড়ে স্থানীয় বাসিন্দা শরিফের ক্যামেরায়৷মুহূর্তেসেটা ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে।

এঘটনা জানার পরপরই প্রশাসক সুজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী সুদীপ বসাককে বিষয়টি তদন্ত করার নির্দেশ দেন।এপ্রেক্ষিতে তদন্ত করে অভিযুক্ত চালক কাজল চন্দ্রসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা মেলে।একারণে চালকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সুপারিশ করেন তিনি।তেলচুরির সত্যতা পাওয়ায় চালককে সেদিনই অব্যাহতি দেওয়া হয়।

৮আগস্ট

রাজধানীতে ব্যস্তসময় অতিবাহিত

সকাল ১০টায় নবনিযুক্ত চসিক মেয়র খোরশেদ আলম সুজন ধানমণ্ডির ৩২নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। অতঃপর তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নসরুল হামিদ মিলনায়তনে চিটাগং জার্নালিস্ট ফোরাম-ঢাকা’র আয়োজনে মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

আর পড়ুন:   জার্মান মন্ত্রীর আত্মহত্যা করোনা নিয়ন্ত্রণের দুশ্চিন্তায়!

সিজেএফ এর সভাপতি শাহেদ সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোর্শেদ নোমানের সঞ্চালনায় চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন করোনার এ মহাসঙ্কটকালে কর্পোরেশনের দায়িত্ব তাঁর ওপর ন্যস্ত করায় বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

সিজেএফ এর সাংবাদিকদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রশাসক সুজন চট্টগ্রামের সিটির বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তোলে ধরে বলেন, “ কর্পোরেশনের দায়িত্ব পালনে আমি আপনাদের সহযেগিতা চাই। আপনারা আমার গঠনমূলক সমালোচনা করবেন, সমস্যা তোলে ধরবেন। স্বল্পতম এ সময়ে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো নগরের বিরাজমান সমস্যা সমাধানের। তবে আমি নগর রাস্তাঘাট সংস্কার, পরিস্কার -পরিচ্ছন্নতা ও পানি নিস্কাষণে বেশি মনোযোগ দেবো।।”

দুর্নীতির ব্যাপারে নিজের অবস্থান তোলে ধরে প্রশাসক সুজন বলেন, গত ৬আগস্ট চসিকের দায়িত্বগ্রহণের দিন কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিয়েছি, যারা দুর্নীতি করছেন আজ থেকে বিসমিল্লাহ করে তওবা করে ফেলুন। ছোট-বড় কাউকে আমি দুর্নীতি করতে দেবো না, যারা ঘুসখেয়ে,দুর্নীতি করে নগরবাসীকে কষ্ট দেবে তাদের আমি ক্ষমা করবো না। দায়িত্ব গ্রহণের দ্বিতীয় দিনে ফেসবুকের মাধ্যমে কর্পোরেশনের তেলচুরির খবর আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তাৎক্ষণিকভাবে ওই তেলচোর কর্মচারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।

মিট দ্য প্রেসের পর প্রশাসক সুজন স্থানীয় সরকার, পল্লীউন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী তাজুল ইসলাম ও আওয়ামী লীগ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে সৌজন্যসাক্ষাৎ করেছন।

৯আগস্ট :

নগরের সড়ক সংস্কার মিশনে সুজন

বর্ষার কারণে নগরীর বিভিন্ন সড়কে তৈরি হয়েছে খানাখন্দ।ফলে নিত্যদিন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে পথ চারীদের।

গত ৯আগস্ট (রবিবার) সকাল থেকে নগরীর জাকির হোসেন রোডের ওমেন কলেজ মোড়, দেওয়ান হাটব্রীজ, নন্দন কানন বোস ব্রাদাস মোড়, সদর ঘাট মেমন হাসপাতাল মোড়সড়ক, মুরাদপুর সিডিএ এভিনিউ, এফ আই ডিসি রোড, সল্টগোলা ক্রসিং, হালিশহর ও একেখান মোড়সড়কগুলোরবিভিন্ন অংশে খানাখন্দে ভরা গুরুত্বপূর্ণ নয়টি স্পটে চলছে মেরামতের কাজ।

১০আগস্ট :

উচ্ছেদ অভিযান শুরু

চট্টগ্রাম নগরীর রিয়াজুদ্দিন বাজার ও দেওয়ানহাট এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশন (চসিক)।এসব অভিযান পরিচালনা করেন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী ও স্পেশালম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রাজজ) জাহানারা ফেরদৌস।

এ উচ্ছেদ অভিযানে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন স্টেশন রোডের রিয়াজুদ্দিন বাজারসংলগ্ন ফুটওভারব্রীজেরনিচ থেকে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হয়।এছাড়া আশপাশের ফুটপাত থেকে অবৈধ দোকান পাট উচ্ছেদ করে ফুটপাত ও ফুটওভারব্রীজেরনিচের অংশ অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়।

সোমবার বিকেলে টাইগার পাসের চসিক নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠককালে চসিক প্রশাসক সুজন বলেছিলেন, সড়ক উন্নয়ন কাজে ঠিকাদারের গাফিলতি দেখলে সাথে সাথে লাইসেন্স বাতিল ও কালো তালিকাভুক্ত করা হবে।খেয়াল রাখতে হবে ওয়ার্ক অর্ডারে বর্ণিত সময়ের মধ্যেই ঠিকাদার কাজ সম্পন্ন করছে কিনা।

চসিক প্রকৌশলীদের উদ্দেশ্য প্রশাসক বলেছিলেন, চসিকের প্রকৌশল বিভাগের কাছে নগরবাসীর প্রত্যাশা অনেক।এবিভাগে কাজগুলোর সফলতা যেমন দৃশ্যমান তেমনি ভুল-ভ্রান্তিগুলোও জনগণের কাছে দৃশ্যমান।এসব ভুলভ্রান্তি সংশোধন করে এগিয়ে যেতে হবে।প্রকৌশলীরা হচ্ছেন এশহর উন্নয়নের রূপকার।নগরেরগুরুত্বপূর্ণসড়কগুলোর কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের ওপর জোর দেন তিনি।

১১আগস্ট :

অবৈধস্থাপনা সরাতে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম

সকালে সাগরিকা মোড় থেকে নয়াবাজার পর্যন্ত পোর্টকানেকটিং সড়কউন্নয়ন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শনকালে নগরীর সাগরিকা মোড় হতে নয়াবাজার পর্যন্ত সমস্ত অবৈধ স্থাপনা, ফুটপাতের ওপর বসানো দোকানপাট ও স্তুপকৃত মালামাল আগামী ২৪ঘন্টার মধ্যে সরিয়ে নেয়ার আল্টিমেটাম দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশনেরপ্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

পোর্টকানেকটিং সড়ক উন্নয়ন কাজ সরেজমিনে পরিদর্শন কালে সুজন বলেন, চসিক প্রশাসক হওয়ার আগ থেকে এই রাস্তার হালচাল আমাকে ব্যথিত করতো।তাই দায়িত্ব নেয়ার পর পোর্টকানেকটিং সড়ক কাজ দ্রুতগতিতে সম্পন্ন করার অঙ্গিকার করেছি।

সুজন বলেন, আমিরাত-দিন এইরাস্তায় থাকবো, আমি দেখতে চাই এখানে বাধা কোথায়? যেখানে বাধা-সেখানেই লড়াই চরবে।আমি ছাত্ররাজনীতি করে এপর্যায়ে এসেছি রাস্তায়-ই আমার রাজনীতি আমি রাস্তাতেই থাকবো এবং সকল সঙ্কটের সুরাহা করার প্রয়াস চালাবো।

এসময় তিনি রাস্তার দু’পাশে অবস্থিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান যারা অবৈধভাবে চসিকের ড্রেন দখল করে যানচলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে,তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজকে আমি আপনাদের একজন হয়ে বলে গেলাম, নিজ দায়িত্বে এসব অপসারণ করেন নচেৎ আগামীকাল আমাকে দেখবেন প্রশাসকের ভূমিকায়।এসব অবৈধস্থাপনা না সরালে আগামী ২৪ঘন্টা পর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা ও জরিমানা গুণতে হবে।

পোর্টকানেকটিং সড়কের কোথায় কি পদক্ষেপ নিলে বা কি ধরনের কাজ করলে ভালো হয় সেবিষয়েও অনেকের কাছে পরামর্শ গ্রহণ করে বলেন, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে যেসময় নষ্ট হয়েছে তা আর সহ্য করা হবে না। এখন শুধু কাজ আর কাজ।এদুর্ভোগ কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

উপস্থিত বিপুলসংখ্যক এলাকার লোকজন জড়ো হয়ে প্রশাসক সুজনের এহেন প্রদক্ষেপের জন্য সাধুবাদ জানান।প্রশাসক ও ঠিকাদার এলাকাবাসীকে আগামী সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়ন সড়ক উপহার দেয়ার প্রতি শ্রুতিব্যক্ত করেন।

১২আগস্ট :

প্রশাসক সুজনের বিমানবন্দর সড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন

আর পড়ুন:   খালেদা জিয়া ৫৩ দিন পর বাসায় ফিরলেন

বিকেলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) বাস্তবায়নাধীন উড়ালসেতু ও এয়ারপোর্ট সড়কের উন্নয়ন কাজ পরিদর্শনে যান সুজন।আগামী ২০আগস্টের মধ্যে পানি চলাচলে বাধাসৃষ্টিকারী ওয়াসার পাইপগুলো সরিয়ে নিতে এবং রাস্তায় যতো গর্ত ও খানা-খন্দক আছে তা সংস্কার করে কার্পেটিংয়ের নির্দেশনা দেন।

২০আগস্টের মধ্যে এয়ারপোর্ট সড়ক কার্পেটিংসহ যানচলাচল উপযোগী করার নির্দেশ

নগরের বিমান বন্দর সড়কের চলমান উন্নয়ন কাজে সমন্বয়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে চসিক।তাই প্রশাসক চসিকের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের এবিষয়ে নজরদারি বাড়িয়ে ও কাজের গুণগত মান বজায় রাখতে নির্দেশনা দেন।

এর আগে সকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরশেন পরিচালিত মেমন হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের সাথে মতবিনিময় করেন চসিক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন চসিকের প্রধান স্বাস্থ্যকর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী।এসময় সাবেক মহিলা কাউন্সিলর নিলু নাগ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলী, মেমন হাসপাতালের ইনচার্জ ডাক্তার আশীষ মুখার্জি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

চিকিৎসার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সেবাদান ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসক সুজন বলেন, চসিকের মূল কাজ নগর আলোকায়ন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা।এর বাইরে গিয়ে চসিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করে আসছে।প্রয়াত সাবেক মেয়র আলহাজ্ব এ.বি.এম মহিউদ্দিন চৌধুরী নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবার কথা চিন্তা করে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা করেন।এই হাসপাতালের সুনাম ওঅর্জন কিছুটা স্তিমিত হয়েছে।এখন সময় এসেছে তাঁর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সেবার মানসিকতায় মেমন মাতৃসদন হাসপাতালের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারের।

প্রশাসক দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত নগরবাসীর চিকিৎসাসেবায় চিকিৎসকদের নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, একজন সংকটাপন্ন মানুষের অসহায় মুহূর্তে ডাক্তারই পারেন মুখে হাসি ফোটাতে।একজনরোগীকে নিরাময় করে পরিবার পরিজনকে স্বস্তি দেওয়ার চেয়ে মহৎ কাজ আর কিছু হতে পারেনা বলে তিনি মন্তব্য করনে।তিনি আরো বলনে, এটা অনেক বড়মানবতার কাজ।চিকিৎসাপেশা একটি মহৎপেশা।এ পেশার মাধ্যমে নগরবাসীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নিরসলভাবে কাজ করতে হবে।

পরিদর্শনকালে প্রশাসক চিকিৎসক, সেবিকা, কর্মচারী ও রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন, ইপিআই কেন্দ্র, প্রসূতি ও শিশুরোগীর বহির্বিভাগ, সাধারণ, ভিআইপি ও ডিলাক্স কেবিন ঘুরে দেখেন।

১৩ আগস্ট

রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে প্রশাসকের বৈঠক

চসিকের অস্থায়ী নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে বৈঠকে প্রশাসক সুজন বলেন, “দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান আমার।নগরীতেঅবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে চসিক-এর বেহাত সম্পত্তি উদ্ধার করতে হবে।

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের চিত্র দেখে প্রশাসক অসন্তোষ প্রকাশ করে আগামী একমাসের মধ্যে রাজস্ব আদায় বাড়াতে এবং নগরীর সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেন।

এরআগে বুধবারই রাজস্ববিভাগের ২৪কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করেন সুজন।

রাজস্ববিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের উপরই চসিক-এর আর্থিক সঙ্গতি নির্ভরশীল।বকেয়াহোল্ডিংট্যাক্স, ট্রেডলাইসেন্সসহআয়-সংশ্লিষ্টখাতসমূহকে শক্তিশালী করতে রাজস্ববিভাগে কর্মরতদের ভূমিকা অপরিসীম।” রাজস্ব আদায়কারীদের মধ্যে যারা লক্ষ্য অর্জন ও আয়বর্ধক কাজে অবদান রাখবেন, তাদের পুরস্কৃত করা হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় চসিক-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দোহা, সচিব আবু শাহেদ চৌধুরী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মুফিদুল আলম, প্রশাসকের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল হাশেম, রাজস্ব কর্মকর্তা সাহেদা পারভীন, সহকারি এস্টেট অফিসার আবদুল্লাহ আল মামুন, কর কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার নগরীর প্রবেশপথ সিটিগেট থেকে অলংকার মোড় পর্যন্ত এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে চসিক-এর স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্মজেলাওদায়রাজজ) জাহানারা ফেরদৌস ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলীর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে অলংকার মোড়ে অবৈধ দুটিদোকান ও নির্মাণাধীন স্থাপনা উচ্ছেদ করে রাস্তা ও ফুটপাতের জায়গা অবৈধদখলমুক্ত করা হয়।

ওই সড়কে থেকেযাওয়া আরও কিছু অবৈধ দোকান-পাট ২৫অগাস্টের মধ্যে সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

তা না করলে চসিক উচ্ছেদ করবে এবং উচ্ছেদের সমস্ত ব্যয়ভার জরিমানা হিসেবে আদায় করা হবে বলেও জানিয়ে দেওয়া হয় স্থাপনা মালিকদের।

প্রশাসক সুজন চসিক প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি রাজস্ববিভাগের ২৪জন কর্মকর্তাকে বদলী করেছেন। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে সিটি এলাকায় সেবাদানকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর (পুলিশ, বিদ্যুৎ, ওয়াসা, সিডিএ, বন্দর ইত্যাদি) প্রধানদের নিয়ে সমন্বয়সভা শুরু করবেন।এ প্রসঙ্গে চসিক প্রশাসক সুজনের বক্তব্য একেবারে খোলামেলা। তিনি বলেন, সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা আমার কাছে আসতে হবে না, নগরবাসীর স্বার্থে আমি তাঁদের কাছে যাবো; তাঁরাও জনগণের সেবক। মমত্ব দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে তাঁদের মনজয় করে  সকলে মিলে একসাথে নগরউন্নয়নে কাজ করবো।

লেখকঃ প্রধান-সম্পাদক, সাপ্তাহিক চাটগাঁর বাণী ও চাটগাঁরবাণীডটকম