৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

নিউইয়র্ক থেকে ঝুলন সেন *

নিউইয়র্ক সিটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বৃহত্তম ও শক্তিশালী মহানগর। এটি এখানের সবচেয়ে জনবহুল নগরী।নিউইয়র্ক শহরে বহুসংখ্যক আবাসিক ও অনাবাসিক এলাকা রয়েছে।এগুলোকে প্রশাসনিকভাবে পাঁচটি প্রশাসনিক অঞ্চল বা ‘বরো’ (Borough) তে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, ম্যানহাটন, ব্রকলিন, দ্য ব্রংকস, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ড। করোনা মহামারির কারণে সমগ্র নিউইয়র্ক শহরের চেহারা আমূল পাল্টে গেছে। অফিস আদালত, স্কুল-কলেজ, বাণিজ্যকেন্দ্রসহ সর্বত্র নীরব নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে।এখানের জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে আছে।

কবে নাগাদ এ অচলাবস্থার অবসান হবে- তা কেউ বলতে পারছে না। সারা বিশ্বের মধ্যে এখানেই সবচে বেশি লোক করোনায় মৃত্যুবরণ ও আক্রান্ত হয়েছে। এখানে তিনশতাধিক বাঙালি করোনায় প্রাণ হারিয়েছে ,আক্রান্ত হয়েছে অনেকেই। নিউইয়র্ক শহরের দর্শনীয় স্থানগুলোতে এখন লোকজনের সেই ভিড় ও আনাগোনা নেই, নেই কোনো কোলাহল। এখানের সেন্ট্রাল পার্ক নামক বিশাল নাগরিক উদ্যান,বর্ণিল নিয়ন আলোয় আলোকোজ্জ্বল টাইমস স্কোয়ার চত্ত্বর ও এর সংলগ্ন ব্রডওয়ে মঞ্চপাড়া, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শিল্পকলা যাদুঘর মেট্রোপলিটান মিউজিয়াম অফ আর্ট, গুগেনহাম জাদুঘর, আধুনিক শিল্পকলা যাদুঘর মিউজিয়াম অফ মডার্ন আর্ট,টেলিভিশন স্টেডিও ভবন রকাফেলার সেন্টার, অনুবদ্য স্থাপত্যশৈলির গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল রেলস্টেশন, উচ্চমানের পোশাকশৈলির দোকান, অভিজাত মার্কার দোকান, শিল্পকলা চিত্রশালা সমৃদ্ধ সোহো এলাকা, বিজ্ঞান যাদুঘর আমেরিকান মিউজিয়াম অফ ন্যাচারাল হিস্ট্রিরি, ত্রিভুজ আকৃতির ফ্ল্যাট আয়রণ বিল্ডিং, সঙ্গীত ও অন্যান্য শিল্প পরিবেশন কেন্দ্র, ব্রংক্স জু চিড়িয়াখানাসহ সকল দর্শনীয় স্থানে দর্শণার্থীদের কোনো চিহ্ন নেই। সমুদ্রসৈকতগুলোতেও নেই মানুষের কোনো উপস্থিতি। নিউইয়র্ক শহরের ১১০টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১৭০০টি সরকারি করোনা সংক্রমণের কারণে তালা ঝুলছে। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার দারুণ বিঘ্ন ঘটছে।,ব্যবসাবাণিজ্যে স্থবিরতা বিরাজ করছে। এখানের বাংলাদেশি দোকানিরাও চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে। কোভিড-১৯ এর কারণে সরকারিভাবে নগরবাসীকে ৬শ ডলার দেয়া হতো কিন্তু গত ৩১জুলাই তা বন্ধ করে দেয়ায় অনেকে আর্থিক সঙ্কটে পড়েছে। সবকিছু মিলিয়ে করোনাঝাঁকুনিতে স্বর্গশহর নিউইয়র্ক এখন নরক-এ রূপান্তরিত হয়েছে।