১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ঝুলন সেন *

একসময় মনে করতাম, বাংলাদেশই কেবল প্রাকৃতিক দুর্যোগের দেশ। কিন্তু না, স্বপ্নের দেশ আমেরিকাতেও এ থেকে রেহাই নেই। এমনিতেই করোনাভাইরাসের প্রচণ্ড ছোঁবলে এ দেশটি সবচে বেশি মহাবিপর্যস্ত,  জনজীবন প্রায় স্থবির, সেখানে যদি আবার হারিকেন তাণ্ডব চালায়- তাহলে অবস্থা কেমন হয়, তা সহজেই অনুমেয়। আধাঘণ্টার ঝড়ের তাণ্ডলীলায় নিউইয়র্ক সিটিকে তছনছ করে ফেলে। বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর  নিউইয়র্কে আরেকটি ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার অভিজ্ঞতা হলো।

সাইক্লোন, হারিকেন ও টাইফুন শোনতে তিনটি ঝড়ের নাম মনে হলেও আসলে এগুলো এলাকাভেদে ঘূর্ণিঝড়েরই ভিন্ন ভিন্ন নাম। সাধারণভাবে ঘূর্ণিঝড়কে সাইক্লোন বা ট্রপিক্যাল সাইক্লোন বলা হয়। আটলান্টিক মহাসাগর  এলাকা তথা আমেরিকার আশেপাশে ঘূর্ণিঝড়ে বাতাসের গতিবেগ যখন ঘণ্টায় ১১৭ কিলোমিটারের বেশি হয়, তখন জনগণকে এর ভয়াবহতা বোঝাতে হারিকেন শব্দটি ব্যবহার করা হয়।মায়া দেবতা হুরাকান- যাকে বলা হতো ঝড়ের দেবতা, তার নাম থেকেই হারিকেন শব্দটি এসেছে। তেমনিভাবে প্রশান্ত মহাসাগর এলাকা তথা চীন, জাপানের আশেপাশে হারিকেনের পরিবর্তে টাইফুন শব্দটি ব্যবহৃত হয়। অনেকে মনে করেন ফার্সি বা আরবি শব্দ তুফান থেকে টাইফুন শব্দটি এসেছে।

গত ৪ আগস্ট দুপুর ১২টায় হারিকেন ইসাইয়াস প্রচণ্ড আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে। হাজার হাজার বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। রাস্তায় চলাচলকারী গাড়িগুলোও এ থেকে রক্ষা পায়নি। সড়কে চলমান গাড়ির ওপর গাছ ভেঙ্গে পড়ায় বহু গাড়ি ক্ষতেগ্রস্ত হয়। কোথাও কোথাও ঘরবাড়িও ভেঙ্গে রাস্তায় পড়ায় যোগাযোগব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। আমার গাড়িটিও ভেঙ্গে মুচড়ে যায়। অল্পের জন্যে নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছি- এতেই ভাগ্যের ব্যাপার। ঘূর্ণিঝড়ে নর্থ কেরোলাইনায় ২জন, মেরিল্যান্ডে ১জন ও নিউইয়র্ক শহরের ব্রায়ারউডে ১জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর আগে ক্যারিবিয়ান অঞ্চল ও বাহামায় ঘূর্ণিঝড়ে মারা যায় আরও ২জন।