৫ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মোহাম্মদ ইউসুফ *  সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জননেতা খোরশেদ আলম সুজন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মনোনীত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খোরশেদ আলমকে প্রশাসক নিয়োগ করে তাঁর রাজনৈতিক ত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করেছেন। স্থানীয় সরকারের বিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রে কর্মরত প্রথমশ্রেণির যেকোনো কর্মকর্তা অথবা উপযুক্ত যেকোনো ব্যক্তিকে প্রশাসক নিয়োগের বিধান আছে। এরই আলোকে প্রধামমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমলার পরিবর্তে একজন উপযুক্ত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে বেছে নিয়েছেন। দুদিনধরে প্রশাসক হওয়ার খবরটি চট্টগ্রামশহরে প্রচারিত হলেও আজ তা সরকারিভাবে ঘোষিত হয়।

এদেশে যেসব নেতা দেশ, মাটি ও নীতি-আদর্শকে ভালোবেসে রাজনীতির শেখড় থেকে শিখড়ে ওঠেছেন খোরশেদ আলম সুজন তাঁদেরই একজন। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে অর্ধশতবছরের বেশি সময় ধরে তিনি রাজনীতির মাঠে সরব রয়েছেন। আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে তিনি ছিলেন নেতাকর্মীদের সারথি ও সাহসী ঠিকানা। স্বৈরাচার, সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক সংগ্রামে ছিল তাঁর প্রবাদতুল্য অবদান। চট্টগ্রাম মহানগরের তিনি একজন পরীক্ষিত নেতা।নগরবাসীর,বিদ্যুৎ,পানিসহ সকল জনদুর্ভোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। বর্তমান করোনা মহাদুর্যোগেও তিনি একজন সাহসী করোনাযোদ্ধা হিসেবে নগরবাসীর পাশেই আছেন এবং মানুষের বিভিন্ন সমস্যা লাঘবে সার্বক্ষণিক সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। খোরশেদ আলম সুজন চসিকএর প্রশাসক মনোনিত হওয়ায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ এবং সহয়োগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ নগরের সকল শ্রেণিপেশার মানুষ ভীষণ খুশি হয়েছেন। দুদিন ধরে সুজনের কাট্টলির বাসভবনে নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষ তাঁকে শুভেচ্ছা জানাতে ছোটে আসতে দেখা গেছে। পরস্পরকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ-উল্লাস করছেন আবেগ-আপ্লুত নেতাকর্মীরা। করোনাভাইরাসের(কোভিড-১৯)কারণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন দ্বিতীয় দফায় স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।গত ১৪জুলাই এ সংক্রান্ত একটি চিঠি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমানেও করোনার প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকায় স্থাস্থ্যবিধি মেনে চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন করা সম্ভব হচ্ছে না।এছাড়াও অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ধসের আশঙ্কা বিবেচনায় চসিক নির্বাচন মেয়াদকালের মধ্যে আয়োজন করা সম্ভব হচ্ছে না।এর আগে গত ১৬ফেব্রুয়ারি ২০২০ চসিক নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত২৯মার্চ চট্টগ্রাম সিটির ভোটগ্রহণের কথা ছিল।কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে একসপ্তাহ আগে গত ২১মার্চ প্রথম দফায় চসিক নির্বাচন স্থগিত করা হয়। উল্লেখ্য, ২০১৫সালের ২৮এপ্রিল চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভোট হয়।এ সিটির মেয়াদ শেষ হবে ২০২০সালের ৫আগস্ট।নির্বাচনি আইন অনুযায়ী,৫আগস্টের পূর্ববর্তী ১৮০দিনের মধ্যে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।কিন্তু করোনার কারণে ইসি তা স্থগিত করেছে।এখন কবে নাগাদ চসিক নির্বাচন হবে তা অনিশ্চিত।বর্তমান পর্ষদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় চসিক পরিচালনার জন্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজনকে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছেন। নিয়োগকৃত প্রশাসককে সহযোগিতা করার জন্যে আলাদা একটি পরিষদ গঠন করা হবে। লেখক- প্রধান-সম্পাদক, সাপ্তাহিক চাটগাঁর বাণী ও চাটগাঁরবাণীডটকম