৪ঠা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২০শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কখনো প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক এপিএস এর দায়িত্বে, কখনো গোয়েন্দা সংস্থার মিটিংএ- এমন সব মনগড়া কথা বলে প্রতারক সাহেদ পাওনাদারদের  ঘুরিয়েছেন দিনের পর দিন, বছরের পর বছর  । পাওনা টাকার জন্য চাপ দিলে অস্ত্র আর গানম্যান দিয়ে  দেখানো হতো ভয়। কাওকে কাওকে নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয়ও দেখিয়েছেন। সাহেদ গ্রেপ্তারের পর প্রতারণার স্বীকার ব্যবসায়ীরা এভাবেই তাদের অভিযোগের কথা জানান।  এসব নিয়ে সাহেদের বিরুদ্ধে প্রথম দিনেই র‍্যাবের কাছে এসেছে ৯২টি অভিযোগ।

শুধু স্বাস্থ্যখাতে নয় রিজেন্টের সাহেদ পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ভূমি উন্নয়নের কাজও করেছে। ২০১৯ সালে তার প্রতিষ্ঠানকে এস্কেভেডর, ডাম্প ট্রাকসহ প্রায় ৩শ জনবল সরবরাহ করে দয়াল এন্টারপ্রাইজ।  তবে পাওনা চাইতে গেলেই বদলে যায় সাহেদের ব্যবহার।  নানা অজুহাতে ঘোরাতে শুরু করেন। অনেক দেন-দরবার করে ৪৩ লাখ টাকার বিলের মধ্যে মাত্র ১৯ লাখ টাকা উদ্ধার করতে পেরেছেন দয়াল এন্টারপ্রাইজের পরিচালক রিয়াদ রহমান।

এ ব্যাপারে দয়াল এন্টারপ্রাইজ এর পরিচালক রিয়াদ রহমান বলেন, ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী আমরা তাদের পূর্বাচল প্রজেক্টে ডাম্প ট্রাক, এস্কেভেডর, সাপ্লাই দেই। তিনি আমার কাছে পরিচয় দেয়, তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক এপিএস। সেটা শুনে আমার মনে একটু খটকা লাগে। সেনাবাহিনীর প্রধানের সাথে তার মিটিং আছে। এধরনের কথা বলতেন তিনি।  মানে হাস্যকর কথা বার্তা বলতেন তিনি।

সাহেদ চেক দিলেও তা ব্যাংক থেকে বার বার ফেরত আসে। এসব কথা তুললেই দেখানো হতো অত্যাধুনিক অস্ত্র আর গানম্যানদের।

রিয়াদ রহমান বলেন, আমাদের গালাগালি করে, বন্দুক দেখায়। আমরা তিনজন পার্টনার ছিলাম, আমাদের তিনজনকেই বন্দুক দেখায় এবং পুলিশের ভয় দেখিয়ে অফিস থেকে বের করে দেয়। তিনজন গ্যানম্যান পাশে বসে, অনেক রকমই কথা বলতেন। সেগুলো দেখলে আমাদের একটু ভয় হত, আতঙ্কে থাকতাম।  তিনি আমাকে ম্যাগাজিনসহ বন্দুক দেখিয়ে পরিচয় করিয়ে দেয় নাইন এমএম বলে। সেটা সে টেবিলে রেখে কথা বলতো, মানে ভয় দেখাতেন।

আর পড়ুন:   পদ্মা সেতু ৫ কিলোমিটার দৃশ্যমান হলো

রাজধানীর শাহাজানপুরের ব্যবসায়ী শামীম আহাম্মেদ বলেন, ২০১৯ সালে আমার কাছ থেকে দশ লাখ টাকার চিনি নেয় সাহেদ। এরপর   একটি টাকাও পরিশোধ করেনি। বরং টাকা চাইতে গেলে নারী নির্যাতন মামলা দেয়ার ভয় দেখানো হয়।

বছরের পর বছর প্রতারিত হলেও, সাহেদের প্রভাব প্রতিপত্তি দেখে থানায় অভিযোগ করারও সাহস করেনি কেও। র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক আশিক বিল্লাহ জানান, সাহেদের প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের  হটলাইনের মাধ্যমে অভিযোগ নেয়া হচ্ছে। তাদের আইনি সহায়তা দেয়া হবে।  তিনি আরও বলেন, আমরা শুনেছি তিনি গ্যানম্যান ব্যাবহার করতেন। এখন দেখার বিষয় গানম্যানের বন্দুকগুলোর লাইসেন্স আছে কিনা এবং সে বন্দুকগুলো কোথায় আছে।  এগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি।

তবে ভীত না হয়ে সাহেদের অপকর্ম জানাতে ভুক্তভোগীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে র‍্যাব।