৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দেশের তিনবারের নির্বাচিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি’র চেয়ারম্যান বেগম খালেদা জিয়া এখন পারিবারির বলয়ে দিনযাপন করছেন। দু’বছরের বেশি সময় কারাবন্দি থাকার পর মানবিক কারণে সরকার দণ্ড স্থগিত করে ৬মাসের জন্যে তাঁকে মুক্তি দিয়েছে। এতোমধ্যে মুক্তির তিনমাস পেরিয়ে গেছে বেগম খালেদা জিয়ার।গত ২৫মার্চ২০২০ থেকে তিনি গুলশানের বাসা ফিরোজায় আছেন। বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা স্থিতিশীল।উন্নতি হয়নি আবার অবনতিও হয়নি।পূর্ণসুস্থতার জন্যে দীর্ঘসময় লাগবে।আধুনিক চিকিৎসার প্রয়োজন- যা বাসায় দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ৭৫বছর বয়সী খালেদা জিয়ার ব্রিউম্যোটয়েড আথ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, চোখ ও দাঁতের সমস্যায় ভোগছেন।করোনার পরিস্থিতির কারণে চিকিৎসার জন্যে তিনি বিদেশ যেতে পারছেন না।পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চিকিৎসার জন্যে সরকারের কাছে অনুমতি চাইবেন। বিএনপি সূত্রমতে, বিদেশ যাওয়ার জন্যে খালেদা জিয়াকে শর্ত দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ মুহূর্তে তাঁর বিদেশচিকিৎসা বেশি প্রয়োজন।বিশেষকরে লন্ডনে যেতে তিনি বেশি আগ্রহী। বেগম জিয়ার উন্নতচিকিৎসা করাতে জামিনের জন্যে আইনী লড়াই চালানো হয়েছিল। তাতে সফল না হয়ে সমাঝোতার মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে তখন জামিন নেয়া হয়েছিল।করোনা মহামারিতে সেসব শর্ত মেনে না নেয়ার বিকল্প ছিল না। এদিকে করোনার মধ্যে আত্মীয়দের সান্নিধ্যে তাঁর সময় কাটছে।প্রায় প্রতিদিন বিকেল বা সন্ধ্যায় ফিরোজায় যান বোন সেলিনা ইসলাম, ভাই শামীম এসকান্দার ও তার স্ত্রী কানিজ ফাতেমা। মাঝেমধ্যে যান ভাতিজা শাকিল এসকান্দার ও তার স্ত্রী অরণী এসকান্দার, ভাতিজা অভিক এসকান্দার ও ভাগ্নে শাহরিয়া হক।এছাড়া তাঁর সময় কাটে নামাজ, এবাদত, পত্রপত্রিকা পড়ে ও টিভি দেখে।খালেদা জিয়া নিয়মিত লন্ডনে অবস্থানকারী বড়ছেলে তারেক রহমানের সাথে কথা বলেন।কুশল বিনিময় করেন পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমান ও নাতনী নাইমা রহমানের সাথে।ছোটছেলে মরহুম আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও সন্তানদের সাথেও প্রতিদিন কথা বলেন বেগম জিয়া।প্রয়োজন মতো দলের নেতাদের সাথেও কথা বলছেন। দলীয়সুত্রে জানা গেছে, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ খালেদা জিয়ার মুক্তির সময়সীমা ৬মাস শেষ হওয়ার আগেই আবেদন করা হতে পারে মেয়াদ বৃদ্ধি ও দণ্ডাদেশ বাতিলের ।