৪ঠা আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

জাফর ছাদেক  *

প্রায় মাস খানিক হতে চলল সীতাকুণ্ডের পরিচিত মুখ, বিশিষ্ট সমাজসেবক, সদা হাস্যরসিক মানুষ, সীতাকুণ্ড পৌরসভার প্রাক্তন কমিশনার ইব্রাহিম ও ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম করোনায় আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন। মহান আল্লাহ যেন তাদের শহীদি মর্যাদা দেন।  তিন চারদিনের ব্যবধানে  এ দু’জন মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যু সৃষ্টিকর্তার অমোঘ বিধান। সবাইকে একদিন মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।কিন্তু কিছু কিছু মৃত্যু জীবনকে নাড়িয়ে দেয়। অস্বাভাবিক মৃত্যু সমাজের কাছে, রাষ্ট্রের কাছে প্রশ্ন রেখে যায়। সমাজের অনেক মৃত্যুর দায় সমাজ বা রাষ্ট্র এড়িয়ে যেতে পারে না। কমিশনার ইব্রাহিম একজন সমাজ সচেতন মানুষ, হাসি-খুশি মানুষ। ব্যক্তিগতভাবে আমার সাত আট বছরের বড়।বিগত কয়েক বছর যাবত তার সাথে সম্পর্ক। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ তিনি, নিজেকে সবসময় পরিপাটি করে রাখেন। মানানসই পোশাক- আশাকে যথেষ্ট রুচিবান একজন মানুষ। প্রতিদিন ফজরের নামাজ মসজিদে জামাতের সাথে পড়ে আমরা অনেকে মর্নিং ওয়াকে বেড়িয়ে যেতাম। কমিশনার ইব্রাহিম ও আমাদের সাথে শরিক হতেন।প্রায়সময় নানান বিষয়ে কথা উঠতো, অনেক বিষয়ে জ্ঞান রাখতেন। কথা দিয়ে সবাই কে অতি অল্প সময়ে আপন করে নিতেন। কুশলাদি বিনিময়ের স্টাইল ছিল আকর্ষণীয়। শিক্ষকতার পেশায় আছি বলে আমাকে যথেষ্ট সম্মান করতেন। আমি অভিভূত হয়ে যেতাম তার অমায়িক ব্যবহার দেখে। ভদ্রতা নম্রতা,শিষ্টাচারের কারণে অনেকের প্রিয়পাত্র হতে পেরেছেন ইব্রাহিম কমিশনার। সেই ইব্রাহিম কমিশনারও বিনা চিকিৎসায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনদিন বারান্দায় পড়ে ছিলেন। অবশেষে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।একজন ডাক্তার, নার্সও সেবার জন্য পাওয়া যায়নি। মাত্র তিনদিনের নোটিশে একজন সুস্থ মানুষ শুধুমাত্র চিকিৎসার অভাবে দুনিয়া থেকে বিদায় হয়ে গেলেন। তার মৃত্যু পরিবার ও সমাজের যে ক্ষতি হয়ে গেলো তা কোনোদিনও পূরণ হবার নয়। আরেকজন খুব চেনাজানা মানুষ ইঞ্জিনিয়ার শাহ আলম ।বয়সে আমার পাঁচ-ছয় বছরের ছোট। সীতাকুণ্ডের সববয়সের মানুষের কাছে অতি পরিচিত মুখ। ঠিকাধারী ব্যবসাছাড়াও সামাজিক নানান কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত। স্থানীয় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতেও জড়িত ছিলেন। উপজেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তাগণ এক নামে শাহ আলম কে চিনতো।আমার সাথে পরিচয় নব্বই দশকের গোড়ায়। কলেজজীবনে আমি ও শাহ আলম বিএনসিসি ’র সাথে জড়িত ছিলাম। আমার সময়ে আমি ন্যাশনাল প্যারেড এ অংশগ্রহণ করার সুযোগ হয়েছিল, পরবর্তী তে শাহ আলমও বিভিন্ন সময়ে জাতীয় কুচকাওয়াজে অংশগ্রহণ করে সুনাম অর্জন করে। শাহ আলম এর নেতৃত্বে পরবর্তীতে প্রাক্তন ক্যাডেটদের নিয়ে একটা ফোরাম তৈরী হয়েছিল, আমি ও সেই ফোরামের মেম্বার ছিলাম। সেই থেকে একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তাছাড়া সীতাকুণ্ড সদরে অবস্থিত ঐতিহ্য বাহী জামান ইন্টারন্যশনাল এর হজ্জ ওমরাহ কাফেলার সাথে আমরা উভয়ই জড়িত ছিলাম। বয়সে আমি বড় হিসেবে আমাকে যথেষ্ট সম্মান করতো। আজ তার শূন্যতা আমাকে প্রায়শ ভাবনায় ফেলে দেয়। শাহ আলম এত কম বয়সে চলে যাবেন ভাবতে পারিনি। কত ব্যস্ত মানুষ,  কাজ নিয়ে যেন ডুবে থাকতেন সব সময়। সেই মানুষটি আজ নেই। তিনিও বিনা চিকিৎসায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বারান্দায় মৃত্যুবরণ করেন।  মৃত্যুকালে  তিনি স্ত্রী ও দুটো অবুঝ শিশু রেখে যান। মহান প্রভূর দরবারে প্রার্থনা করি,আল্লাহ যেন শাহ আলম ও ইব্রাহিম কমিশনারকে শহীদি মর্যাদা দান করেন। শোকাহত পরিবার এর প্রতি রইল সমবেদনা।

আর পড়ুন:   সাতকানিয়ায় তথ্য অধিকার আইনবিষয়ক প্রশিক্ষণ

লেখকঃ প্রধানশিক্ষক, সাদেক মস্তান (রঃ) উচ্চ বিদ্যালয়, সীতাকুণ্ড।