৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৪শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

মহামারি করোনাকালে  শিক্ষাব্যবস্থার যে ক্ষতি হলো, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব না। তবে সাধারণ বা সাপ্তাহিক ছুটি কমিয়ে এনে ক্ষতি কিছুটা কমিয়ে আনা যাবে।

 বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী এসবকথা বলেছেন । তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো সময়ের দাবি। শিক্ষার উন্নয়ন করতে হলে অবশ্যই শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ সুযোগ বাড়াতে হবে।

করোনা পরিস্থিতি এবং শিক্ষাব্যবস্থায় এর প্রভাব নিয়ে কাছে এভাবেই  গণমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন  গবেষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

 তিনি বলেন, ‘‌শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘ ছুটির ফাঁদে । এমন পরিস্থিতি দেখা যায়নি স্বাধীনতার পর । একই অবস্থা পৃথিবীর সর্বত্রই । প্রকৃতির কাছে প্রকাশ পাচ্ছে মানুষের অসহায়ত্ব ।  বেঁচে থাকার তাগিদেই এটি মেনে নিতে হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে বড় বিপর্যয় নেমে এসেছে বলে মনে করি। এ ক্ষতি সহজে পূরণ করা সম্ভব নয়। বিকল্প ব্যবস্থাও আমরা গড়ে তুলতে পারিনি- যা দিয়ে ক্ষতি পোষানো সম্ভব হবে।’

ছুটি কমিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেয়া সম্ভব বলে মনে করেন এ শিক্ষাবিদ। তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি কেটে গেলে সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল করা যেতে পারে কিছুদিনের জন্য। তবে আমি যে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেব, তা হচ্ছে পরীক্ষা কমিয়ে আনতে হবে। পাবলিক পরীক্ষা অধিক হওয়ার কারণেই ক্ষতি বেশি হচ্ছে। এখন এ সমস্যা আরও জটিল হবে। এ ব্যবস্থার পরিবর্তন অতি জরুরি।’

‌‌‘আর শ্রেণিকক্ষের ক্লাস-পরীক্ষায় অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।  পরীক্ষার ব্যবস্থা হোক ক্লাসেই। নইলে শিক্ষার্থীদের আর মনোযোগী করা সহজ হবে না। এজন্য শিক্ষকদের বাড়াতে হবে বেতন-ভাতা । অন্য পেশার সঙ্গে তুলনা করে শিক্ষকদের মূল্যায়ন করলে গলদ থেকেই যাবে।’

 ‘বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। অনুৎপাদনশীল খাতের বরাদ্দ কমাতে হবে। যে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে আগামী বিশ্বে টিকে থাকতে হবে, তার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে ’।