৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রামের তিনটি হাসপাতালে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) রোগীদের চিকিৎসায় জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকার ভেন্টিলেটরযুক্ত আইসিইউ, হাই ফ্লো অক্সিজেন প্রদন করলো দেশের শীর্ষ স্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপ। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (চমেক), চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের কাছে এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম হস্তান্তর করা হয়েছে। এস আলম গ্রুপ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

চট্টগ্রামের তিনটি হাসপাতালে ৮টি হাই ফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলা প্রদান করা হয়েছে। যা নিউজিল্যান্ডের তৈরি প্রতিটি এয়ারবু হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার বাজার মূল্য ১৫লাখ টাকা। চট্টগ্রামের তিন হাসপাতালে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিতে ৬টি আইসিউযুক্ত ভেন্টিলেটর প্রদান করা হয়েছে। যা যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি ফিলিপস্ ব্যান্ডের প্রতিটি ভেন্টিলেটরের বাজার মূল্য সাড়ে ২৭ লাখ টাকা।

চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়া ও রোগীর মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ার কারণে বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা.মো.ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী ও সভাপতি ডা মুজিব এস.আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ পি. এস আকিজ উদ্দীন চৌধুরীর মাধ্যমে এস আলমের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ –এর  কাছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালের জন্য চট্টগ্রামবাসীর চিকিৎসা সেবার জন্য অপ্রতুল আই ,সি ,ইউ বেড,ভেন্টিলেটর, ও হাই ফ্লো ন্যাসাল ক্যানুলার কথা উল্লেখ করে সরবরাহের জন্য আহ্বান জানান ডা.মো.ফয়সল ইকবাল চৌধুরী।

আহ্বানে সাড়া দিয়ে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের পক্ষ থেকে আজ  মঙ্গলবার (২ জুন) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য ৪টি ভেন্টিলেটর, ৪টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের জন্য ২টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের জন্য ২টি ভেন্টিলেটর ও ২টি হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা দেয়া হয়েছে।

এই দিকে এস আলম গ্রুপ বিএমএ চট্টগ্রামের আহ্বানে সাড়া দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য ৫ শত টি পিপিই, চিকিৎসকদের ডিউটি রুমের জন্য ২ টি ২ টনের এসি, ২ টি নমুনা সংগ্রহ বুথ, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কোয়ারান্টাইন এ থাকা চিকিৎসকদের খাওয়ার জন্য নগদ ১ লক্ষ টাকা, ১ টি ২ টনা এসি, ২ টি নমুনা সংগ্রহ বুথ, বিআইটিআইডির চিকিৎসকদের ডিউটি রুমের জন্য ১ টি ২ টন এসি, ২ টি নমুনা সংগ্রহ বুথ ও চট্টগ্রামের ১৪ টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিটিতে ৫০ টি করে ৭ শত পিপিই প্রদান করা হয়। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে গতকাল সোমবার ঢাকা মেডিকেল ও মুগদা মেডিকেলে একটি করে ভেন্টিলেটর দেয়া হয়েছে।

আর পড়ুন:   খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে  মিছিল

এদিকে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের পরিবারে হানা দিয়েছে করোনাভাইরাস। করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ২২ মে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যানের বড় ভাই মোরশেদুল আলমের মৃত্যু হয়।                                                                                                                                                                                                                           এছাড়া ভাইরাসটিতে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের মা-ছেলে, ভাই-ভাবিসহ পরিবারের আট সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন।

সর্বশেষ মোরশেদুল আলমের পুত্রবধূ ইশফাক আরা জাহান রাফিকা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। রাফিকা মৃত মোরশেদুল আলমের ছেলে মাহমুদুল আলম আকিবের স্ত্রী ও চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের মেয়ে।

চট্টগ্রামের এলিট সোসাইটির এ পরিবারে কীভাবে করোনায় সংক্রমিত হলো এ নিয়ে শুরু থেকেই নানা কথা শোনা যাচ্ছিল। জানা গেছে, চলতি মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশজুড়ে যখন লকডাউন চলছিল, তখন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের মেয়ে জেবা জামান চৌধুরীর সঙ্গে এস আলম পরিবারের আরেক সন্তান ও ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ লাবুর ছেলে আতিকুল আলমের বাগদান সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানের পর থেকেই করোনায় আক্রান্ত হতে থাকেন পরিবারটির সদস্যরা ।