৫ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৯শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

 

শোকাবহ জেলহত্যা দিবসে উপলক্ষে রাজধানীর পুরাতন কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতা প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। শনিবার (৩ নভেম্বর) নাজিমুদ্দিন রোডের পুরাতন কারাগারে চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করে মন্ত্রী-এমপিসহ বিশিষ্টজনরা তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

১৯৭৫ সালের আজকের দিনে (৩ নভেম্বর) কারাগারে বন্দি অবস্থায় জাতীয় চার নেতা- সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে হত্যা করা হয়।

দিনটি স্মরণে শনিবার সকালে নাজিমুদ্দিন রোডের কারাগারের ভেতরে চার নেতার প্রতিকৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন ও মহিউদ্দিন খান আলমগীর, বিএমএ সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, আইজি প্রিজন্স বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন, চার নেতার উত্তরসূরি, সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ৩ নভেম্বর সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় জেলহত্যা দিবস পালন করা হয়। সেটাই এখানে চলছে, এখানে শহীদ পরিবারের সদস্যরা আছেন, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা আছেন। আমরা নিহত নেতাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই।

কারাগারে নিহত সৈয়দ নজরুল ইসলামের পুত্র মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ শাফায়েতুল ইসলাম বলেন, আমি আশা করব ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যা, এরপর জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের যে সকল আসামির বিচার হয়নি তাদের অতি দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করা হোক। তাছাড়া এ হত্যাকাণ্ডের অন্তরালের যে সকল মুখোশধারী লোক রয়েছে তাদেরও বিচার করা হোক।

কারাগারে আগত অতিথিরা কারাগারের ভেতর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর বঙ্গবন্ধুর ও চার নেতার স্মৃতি সংরক্ষিত জাদুঘর ঘুরে দেখেন। এ ছাড়া শহীদ এম মনসুর আলী স্মৃতি যাদুঘরে মিলাদ মাহফিলে অংশ নেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিষয়ক একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হয়। যেখানে তুলে ধরা হয় জাতীয় চার নেতা হত্যার সঠিক ইতিহাস।

প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন শেষে আইজি প্রিজন্স বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন বলেন, এ কারাগার মুক্তিযুদ্ধের ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অনেক স্মৃতি বহন করছে। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে পরিকল্পনা করা হচ্ছে এখানে একটি বিনোদন কেন্দ্র ও জাদুঘর করা হবে- যা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আমরা আশা করছি, ২০২০ সালের মধ্যে এ জাদুঘর ও বিনোদন কেন্দ্রের প্রকল্প সম্পন্ন হবে।