১২ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৬শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের সংলাপের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর সূচনা বক্তব্যের পর বক্তব্য রাখেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ এবং যুক্তফ্রন্ট মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তি এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান শুরু থেকেই নিয়ে আসছে।

একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল এবং জোটগুলোর সঙ্গে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন ১৪ দলের চলমান সংলাপের দ্বিতীয় দিনে গণভবনে তিনি এসব কথা বলেন।

এরপরই তিনি জোটের পক্ষ থেকে ৭ দফা দাবি তুলে ধরেন:

সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে যুক্তফ্রন্টের দাবিসমূহ

১. নির্বাচন প্রার্থীদের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড অর্থাৎ সবার জন্য সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সংসদ ভেঙ্গে দিতে হবে, সম্ভব না হলে নিষ্ক্রিয় করতে হবে। এ জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ করতে হবে।

২. নির্বাচনের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত কর্মচারীদের নির্বাচন কমিশনের অধীনে ন্যস্ত করতে হবে। ক. নির্বাচন কমিশন ১০০% মাননীয় প্রেসিডেন্টের অধীনস্থ করতে হবে। খ. তফসিল ঘোষণার পর এমপিগণ সংশ্লিষ্ট এলাকায় কোনো প্রকল্প উদ্বোধন/ প্রতিশ্রুতি যাতে না দিতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।প্রয়োজনীয় আইন করে মন্ত্রী ও এমপিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রত্যাহার করতে হবে। গ. সরকারি দলের প্রার্থীদের বিল বোর্ড, ব্যানার, পোস্টার অপসারণ করা।

৩. নির্বাচনকালীন সরকার চাই। জাতীয় সরকার গঠন: প্রয়োজনে এক দিনের জন্য সংসদ ডেকে জাতীয় সরকার গঠন করা যেতে পারে। অথবা মন্ত্রীপরিষদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা জোট থেকে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় প্রদান করেও একটি সন্তোষজনক নির্বাচন কালীনসরকার গঠন করা যেতে পারে। নির্বাচনে সকল প্রকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সরকার অথবা বর্তমান সরকারের নির্বাচন বিষয়ে সম্পূর্ণ ক্ষমতা সীমিত করা।

৪. আমাদের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী আমাদের জন্য গর্বের। তারা বিভিন্ন দেশে নির্বাচনকালীন সহিংসতা রোধ ও শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজ সুনামের সাথে করে আসছে।

সুতরাং নির্বাচনের আগে ও পরে যাতে শান্তি-শৃঙ্খলায় বিঘ্ন না ঘটে-সেহেতু আমাদের প্রস্তাব: ক. আমাদের প্রিয় সেনাবাহিনীকে নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে এবং নির্বাচনের দুই সপ্তাহ পর পর্যন্ত মোতায়েন করতে হবে। খ. নির্বাচনের দিন সেনাবাহিনীকে সীমিত ক্ষমতা দিতে হবে যেমন, আটক রাখার ক্ষমতা ও তাদের ভোট কেন্দ্রে থাকতে দিতে হবে। যাতে করে ভোটের দিন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয় এবং ভোটারগণ নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান করতে পারে।

৫. ইভিএম: আধুনিক এবং বিজ্ঞানমনস্ক নির্বাচনে আমাদের অনেক আগ্রহ আছে, কিন্তু ইভিএম সম্পর্কিত যে সকল প্রশিক্ষণ অভিজ্ঞতা অর্জন প্রয়োজন তা আমাদের নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের যথেষ্ট নেই। সেই জন্য আমরা এই নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার সঠিক হবে না বলে মনে করি।

৬. নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক কারণে আটক বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে।

৭. নির্বাচন সম্পর্কিত মামলা নির্বাচনের পর এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন অতি সত্ত্বর প্রণয়ন করা।