১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চার দিনের সফরে রিয়াদ গেছেন। আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর।

মঙ্গলবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ভিভিআইপি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী ফ্লাইটটির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় রিয়াদের বাদশাহ খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

বিমানবন্দরে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বেসরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী শাহজাহান কামাল, আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

সফরসূচি অনুযায়ী, বুধবার (১৭ অক্টোবর) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউন্সিল অব সৌদি চেম্বার (সিএসসি) ও রিয়াদ চেম্বার অব কমার্সের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

একইদিন বিকেলে প্রধানমন্ত্রী সৌদি রাজপ্রাসাদে সেদেশের বাদশাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন; অংশ নেবেন তার সম্মানে দেওয়া মধ্যাহ্নভোজেও।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরবের যুবরাজ ও উপ-প্রধানমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গেও বৈঠক করবেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী সৌদি রাজধানী রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায় বাংলাদেশ চ্যান্সেরি ভবনের উদ্বোধন করবেন।

প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় পবিত্র নগরী মদিনার উদ্দেশে রিয়াদ ত্যাগ করবেন এবং রাত ৯টায় মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। এদিন রাতে তিনি পবিত্র মসজিদে নববীতে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (স.) এর রওজা মোবারক জিয়ারত করবেন।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেদ্দার উদ্দেশে মদিনা ত্যাগ করবেন এবং বেলা সোয়া ১১টায় বাদশাহ আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। ওই দিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রী জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের চ্যান্সেরি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

এশার নামাজের পর মক্কায় পবিত্র ওমরাহ পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

শুক্রবার (১৯ অক্টোবর) সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী সোমবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরকালে ২টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এগুলো হলো- প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং আইসিটি খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)।

আর পড়ুন:   ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে ‘ উদ্ভূত পরিস্থিতির’ জন্য সরকার দায়ী থাকবে’

বৈঠককালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়েও আলোচনা হবে।

দুই নেতার বৈঠকের আলোচ্য বিষয়ে থাকবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী বিষয়গুলো ছাড়াও শ্রমিক কল্যাণ, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য ও সমৃদ্ধি প্রভৃতিও।