৮ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২২শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ইসলাম ও ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সা.) এর শিক্ষা হচ্ছে, যাকাত নির্ভরতা নয়, গরীব মানুষকে যাকাতের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল করে তোলা। সমাজের গরীব, অসহায় মানুষদের দুঃখ- দুর্দশা লাগব আর শিক্ষা বিস্তারে সীতাকুণ্ডের বিত্তবানদের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পগ্রুপকেও এগিয়ে আসার আহবান জানান বক্তারা। শনিবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে সীতাকুণ্ড সমিতি-চট্টগ্রাম এর উদ্যোগে উপজেলা সদরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে  আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন অতিথিরা। ‘সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠান ২০১৮’ শিরোনামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সীতাকুণ্ড সমিতির যাকাত তহবিল ১৪ লাখ টাকা বিতরণ উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সীতাকুণ্ড সমিতি-চট্টগ্রামের যাকাত কমিটির আহ্বায়ক ও রামগড় সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. নূরুন্নবীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর ড. মো. ফসিউল আলম, ট্যুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম বিভাগের এডিশনাল ডিআইজি মুহাম্মদ মুসলিম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ ইকরাম, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ নূরুল মোস্তফা কামাল চৌধুরী, ব্যবসায়ী আলহাজ্ব মো: ইমরান, পিএইচপি ফ্লোটগ্লাস ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) অভিজিৎ চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর একেএম তফজল হক, নব নির্বাচিত সভাপতি অধ্যাপক মো.আবুল মনছুর ভূঁঞা, নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক লায়ন নাছির উদ্দিন মানিক বক্তব্য রাখেন।

সমিতির সভাপতি লায়ন মো: গিয়াস উদ্দিন ও যাকাত কমিটির সদস্যসচিব ছানাউল্লাহ মাসুদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে শিক্ষাবিদ ড. ফসিউল আলম বলেন, মানবতার জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ অসহায় মানুষের সহায়তা। এ কাজে সহযোগিতার জন্য পিএইচপি পরিবারের চেয়ারম্যান সূফি মিজানুর রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে এমন সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহবান জানান তিনি।

ট্যুরিস্ট পুলিশ কর্মকর্তা মুহাম্মদ মুসলিম বলেন, সীতাকুণ্ডের যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান আছে তারা এগিয়ে এলে এখানকার মানুষ স্বাবলম্বী হয়ে নিজেরাই যাকাত দেয়ার সামর্থ লাভ করবে। মানবসেবায় সীতাকুণ্ড সমিতির উপর আস্থা রাখায় তিনিও পিএইচপি পরিবারের প্রতি ধন্যবাদ জানান। ব্যবসায়ী মো. ইমরান গরীব মানুষের কল্যাণে সূফি মোহাম্মদ মিজানের পথ অনুসরণ করে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহবান জানান। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইমতিয়াজ ইকরাম আজকের ১৪ লাখ টাকার ফান্ড যেন আগামীতে এক কোটি টাকার হয়, সেই আশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে পিএইচপি ফ্যামিলির পক্ষে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) অভিজিৎ চক্রবর্তী সীতাকুণ্ড সমিতির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পিএইচপি শুধু শিল্প প্রতিষ্ঠান নয়, এই শিল্পগ্রুপ মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে থাকে। এরকম মহৎ কাজে পিএইচপি আগামীতে আরো বেশী সহায়তা করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে সীতাকুণ্ড সমিতির যাকাত তহবিল থেকে ৯টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ১৯২জনকে প্রায় ১৪ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে  আত্মকর্ম সংস্থানখাতে-৮,২৯,৬০০ টাকা, শিক্ষা সহায়তায়-২,৪৫,০০০ টাকা, চিকিৎসা সহায়তায়-১,৭৫,০০০ টাকা, গৃহনির্মাণে ৮৭,৩০০ টাকা, কন্যাদায়গ্রস্ত সহায়তা-৬০,০০০ টাকা।  উপকার ভোগীরা নগদ টাকা, রিক্সা, ভ্যান, গরু, ছাগল, সেলাই মেসিন, কম্পিউটার, ফ্যান ও ঢেউটিন পান।

উল্লেখ্য, কোনো সামাজিক সংগঠন কর্তৃক সীতাকুণ্ডে প্রথমবারের মতো একসাথে এত অর্থ সহায়তার্  বিতরণ করলো। সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ছাড়াও পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সূফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান একাই দশ লাখ টাকা দেন সীতাকুণ্ড সমিতি-চট্টগ্রাম-এর যাকাত তহবিলে।