১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) ভর্তির সুপারিশ করেছে তার জন্য গঠিত মেডিকেল বোর্ড। রোববার(১৬সেপ্টেম্বর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএমইউর পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহ আল হারুন এ কথা জানান। তিনি বলেন, কয়েকটি সুপারিশসহ মেডিকেল বোর্ড তাদের প্রতিবেদন কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছে।

এ প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কারাবন্দি খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে রিউমেটিক আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন। তার বাম হাঁটুর জয়েন্টে বাতজনিত সমস্যা আছে। তার পিঠে হাড়ক্ষয়জনিত সমস্যা আছে। তার একটি চোখে অ্যালার্জিজনিত সমস্যা আছে। শনিবার তাকে মেডিকেল বোর্ড পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছে এবং তার অসুস্থতাজনিত সমস্যাগুলোর সমাধানের জন্য ওষুধপত্রের ব্যবস্থাপত্র দিয়েছে।

তিনি জানান, মূলত চিকিৎসক হিসেবে একজন রোগীকে দেখার পর যা যা ব্যবস্থাপত্র দেয়া দরকার চিকিৎসকরা তা খালেদা জিয়াকে দিয়েছেন। ওই প্রতিবেদনে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন তাকে যেন একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক্ষেত্রে উনার চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা যে হাসপাতালে আছেন ও দরকারি সব ধরনের চিকিৎসাসেবা দেয়া সম্ভব এমন একটি হাসপাতালে তাকে ভর্তি করার জন্য বলেছেন। এক্ষেত্রে তারা বিএসএমএমইউতে ভর্তির জন্য সুপারিশ করেছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএসএমএমইউ এর পরিচালক বলেন, তাকে কতদিনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে প্রতিবেদনে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা হয়নি।

খালেদা জিয়াকে বিএসএমএমইউ ভর্তি করানোর ব্যাপারে আগ্রহী কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই তাকে ভর্তি করার জন্য প্রস্তুত আছি। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসা দেয়ার জন্য বিএসএমএমইউ সব সময় প্রস্তুত আছে।

খালেদা জিয়ার পছন্দ অনুযায়ী তার আইনজীবী ও দলীয় নেতারা তার চিকিৎসার জন্য বার বার একটি বেসরকারি হাসপাতালের নাম প্রস্তাব করে আসছেন। এজন্য তারা সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎও করেছেন। সেক্ষেত্রে খালেদা জিয়া বিএসএমএমইউতে ভর্তি হতে রাজি হবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বিগ্রেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহ আল হারুন সাংবাদিকদের জানান, আমাদের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্রসহ প্রতিবেদন দিয়েছেন। এখানে তাকে একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তির সুপারিশ করা হয়েছে। তবে কোন হাসপাতালে কখন তাকে ভর্তি করা হবে এটা কারা কর্তৃপক্ষের ব্যাপার।

আর পড়ুন:   বঙ্গবন্ধুর খুনিসহ ৫২ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ বাতিল

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে এই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে পুরনো ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন খালেদা জিয়া। বন্দি থাকা অবস্থায় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য একবার মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। তখন স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর মেডিক্যাল বোর্ড বলেছিল, খালেদা জিয়ার অবস্থা গুরুতর নয়। তখন চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা করতে ৭ এপ্রিল খালেদা জিয়াকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে নেয়া হয়। তবে বিএনপির নেতারা শুরু থেকেই খালেদা জিয়াকে বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করানোর দাবি জানিয়ে আসছে। সর্বশেষ গত ৯ সেপ্টেম্বর মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে বিএনপির ১০ জন নেতা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করে তার সুচিকিৎসার দাবি জানান। এরপর খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আবারও এই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।