১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

 

এখন দু’দেশে বাংলাদেশের দু’টি ফুটবল দল। মেয়েদের ফুটবল দল এখন ভুটানে, সাফ অনূর্ধ্ব—১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে লড়াই করছে। আর ছেলেদের ফুটবল ইন্দোনেশিয়ায়, এশিয়ান গেমস ফুটবলে অভিযান শুরু করেছে। ভালো ভালো খবর দিচ্ছে মেয়েদের ফুটবল । সুখবরই দিচ্ছে। একটার পর একটা ম্যাচ জিতে তারা দেশের ফুটবলকে রাঙ্গিয়ে দিয়েছেন। ছোট ছোট মেয়েরা দেশের ফুটবলের জন্য দেশের জন্য জীবন দিয়ে লড়াই করছেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সের মেয়েরা এখনও পৃথিবীর অনেক কিছুই দেখেনি। তারা দেশের জন্য জীবনবাজি রেখে ফুটবল মাঠে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। সাফ অনূর্ধ্ব—১৫ ফুটবলে নেপালকে হারিয়ে বি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে এখন সেমিফাইনালের অপেক্ষায় রয়েছে। আগামীকাল ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের সেমিফাইনাল। এর আগে প্রথম সেমিফাইনালে খেলবে ভারত ও নেপাল।

বাংলার মেয়েরা সেমিফাইনালের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সোমবার রাতে ৩-০ গোলে নেপালকে হারানোর পর ঘরে বসে নেই নাজমা, তহুরা, মনিকা, লাবনী, সাজেদা, নীলা, আঁখিরা। আগের দিন ম্যাচ হওয়ায় গতকাল সকালে মেয়েরা রিকভারী করতে মাঠে নেমে ছিলেন। অনুশীলনও করেছেন কোচ গোলাম রাব্বানী ছোটনের কাছে। মেয়েদের ফুটবলে কাজ করে যাচ্ছেন বাফুফের স্ট্র্যাটেজিক ডাইরেক্টর অস্ট্রেলিয়ান পল স্মলী।

ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশ আগেও খেলেছে। ম্যাচ জেতার অভিজ্ঞতাও আছে। গত বছর সাফ অনূর্ধ্ব—১৫ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ঢাকায় হয়েছিল। সেখানে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়। ভুটানের সঙ্গে খেলেছিল বাংলাদেশে। ৩-০ গোলে হারিয়েছিল। এবার বাংলাদেশকে খেলতে হবে ভুটানের নিজেদের মাঠে। আগের জয়টা যতটা সহজ হয়েছিল এবার সেটা হবে না। তা বুঝতে পারছেন কোচ ছোটন, পল স্মলী এবং তাদের ফুটবলাররা। ছোটনরা মনে করছেন আগের কমলাপুর স্টেডিয়ামে ভুটানকে হারানোটাও খুব একটা সহজ কাজ ছিল না।

ভুটান ঘরের মাঠে একবিন্দু ছাড় দেবে না তা বুঝতে পারছেন কোচ খেলোয়াড় বাংলাদেশের টিম ম্যানেজম্যান্ট। থিম্পুর চাংলিমিথান স্টেডিয়ামের মাঠে ভুটান গর্জে ওঠবে। সেই গর্জন থামিয়ে দিতে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব—১৫ নারী দল সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করবে।  মাহমুদা, আনাই মগিনি, শামসুন নাহার, নাজমা, আঁখি, নীলা, মনিকা, মারিয়া মান্ডারাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে শপথ নিয়ে রেখেছেন কোনো ভাবেই ভুটানকে ছাড় দেবেন না তারা।

আর পড়ুন:   ভারত-বাংলাদেশে যাতায়াত করা যাবে নতুন তিনটি শর্ত মেনে

প্রথম খেলায় ১৪-০ গোলে পাকিস্তানকে, ৩-০ গোলে নেপালকে হারালেও আনুচিং মগিনি, রিতুপর্ণা, মনিকা, মারিয়া, তহুরা খাতুন, সাজেদা খাতুনদের খেলায় ভুল চোখে পড়েছে। আক্রমণভাগে গিয়ে তারা সহজ সহজ সুযোগ নষ্ট করেছে। ভুটানের বিপক্ষে সেই সব ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে দেয়া যাবে না-কোচ ছোটন এবং পল স্মলী ছক তৈরি করছেন।

দুই খেলায় বাংলাদেশ ১৭ গোল করলেও বাংলার জালে বল প্রবেশ করেনি। এখনও অক্ষত আছে বাংলাদেশের গোলপোস্ট। ভুটানকেও কোনো সুযোগ দেবে না বাংলাদেশ। ফুটবলারদের কথা হচ্ছে আমরা টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন, এখনও কোনো গোল হজম করিনি। ভুটানের বিপক্ষেও কিছু হতে দেব না। সেমিফাইনাল খেলা হলেও আমাদের চোখ ফাইনালে।