২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

জনস্বার্থে ফিজিওথেরাপি কলেজ ও কাউন্সিল বাস্তবায়নের দাবীতে চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় পূর্বঘোষিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আজ রবিবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১ টা পর্যন্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রাঙ্গনে শান্তিপূর্ণভাবে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। “সম্মিলিত ফিজিওথেরাপি পরিষদ” আয়োজিত এই মানববন্ধন কর্মসূচিতে কয়েক শতাধিক স্নাতক ফিজিওথেরাপি  শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পেশাজীবী, জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা  রোদ-বৃষ্টি আর তীব্র গরম উপেক্ষা করে মানববন্ধনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধন চলাকালীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদ তিন দিনের মধ্যে বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি এবং কাউন্সিল বাস্তবায়নের উদ্যোগ এবং সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন। সে আশ্বাসের প্রেক্ষিতে বক্তব্যের এক পর্যায়ে সম্মিলিত ফিজিওথেরাপি পরিষদ এর মুখপাত্র ডা. দলিলুর রহমান বলেন, “ বেঁধে দেয়া তিন দিনের মধ্যে কোনো সমাধানের মুখ না দেখলে তিন দিন পর রাজধানীতে অবস্থান কর্মসূচি, ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচী দেয়া হবে ।” এতে আরও বক্তব্য রাখেন ডা. ইয়াসমিন আরা ডলি, ডা. ফরিদ উদ্দিন, ডা. মাকসুদুল আলম, ডা. খাইরুল ইসলাম, ডা. আরিফ জুবায়ের, ডা. আজিজুল ইসলাম, ডা. সাইফুল ইসলাম, ডা. মহসিন কবির লিমন,   ডা. মাসুম বিশ্বাস,ছাত্র প্রতিনিধি জাকারিয়া তমাল, জহিরুল হক, মারুফ, শান্তনু, পাপ্পু, নিরব, প্রান্তসহ আরও অনেকে। বক্তারা অবিলম্বে জনস্বার্থে ফিজিওথেরাপি কলেজ ও কাউন্সিল বাস্তবায়ন  এর দাবী জানান ।  উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই ২০১৮  তারিখে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জনস্বার্থে ফিজিওথেরাপি কলেজ ও কাউন্সিল বাস্তবায়ন দাবীতে সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ফিজিওথেরাপি পেশার জন্য একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়তে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মহাখালীতে ফিজিওথেরাপি কলেজের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সোয়া পাঁচ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। কলেজ ভবন নির্মাণের দাবিতে ছাত্র-ছাত্রীরা কয়েক বছরে রাজধানীতে চার দফায় ৫২ দিন আমরণ অনশনসহ অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করার পর ২০০৯ সালে ওই জায়গায় কলেজ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক এবং অতপর বস্তি উচ্ছেদ করা হয় এবং দরপত্র আহাবনের মাধ্যমে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার অনুমতি প্রদান করা হয়। কিন্তু কলেজভবনের কাজ গত ৭ বছরে আর শুরু হয় নি । তাই আবারো বস্তি হয় । ইতিপূর্বে বস্তিবাসীর পক্ষে রিটের নিষ্পত্তি করে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবৈধ দখলদারদের দুই মাসের সময় দিয়ে ফিজিওথেরাপি কলেজের জন্য জমি ছেড়ে দেওয়ার আদেশ ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ জারি করলেও এখনও পর্যন্ত কোনো উদ্যোগই নেয়নি। এমনকি মহামান্য রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে ফিজিওথেরাপি কলেজ বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দিলেও কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না ।