১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১লা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

 

নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেকেই নৌকা ঠেকাতে চান, নৌকা ঠেকানো কেন, অপরাধটা কী?’

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।   

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ ভাষার অধিকার পেয়েছে, স্বাধীনতা পেয়েছে, উন্নয়নশীল দেশে উন্নিত হতে পেরেছে বাংলাদেশ। তাহলে কি নৌকা ঠেকিয়ে রাজাকার, যোদ্ধাপরাধীদের আবার ক্ষমতায় আনতে চান? আমি জানি, যারা সামরিক শাসকদের উচ্ছিষ্ট খেয়ে বড় হয়েছে তাদের মুখেই কথা মানায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অনেকেই বলেন, গণতন্ত্র আনবে, কোথায়? স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স আমরা নিয়ে এসেছি। আমাদের শাসনামলে ছয় হাজারের বেশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সিটি করপোরেশন নির্বাচন হয়েছে। গণতন্ত্র না থাকলে মানুষ নির্বাচনে ভোট দিল কীভাবে? ২০১৪ সালে বাধা দিয়েছে, উৎখাত করতে পারেনি।

দেশের প্রবৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের উচ্চ প্রবৃদ্ধির হার কেনএটাকে অনেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেন। তারা বলেন, উচ্চ প্রবৃদ্ধি নাকি ভালো না। বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বাড়লে কাদের আঁতে ঘা লাগে, যারা হাড্ডিকঙ্কালসার মানুষকে দেখিয়ে দেখিয়ে বিদেশ থেকে অর্থ আনে, সম্পদের পাহাড় গড়ে তাদেরই আঁতে ঘা লাগে।

সংবর্ধনা জনগণকে উৎসর্গ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন,  “কবিগুরুর ভাষায় বলতে চাই, ‘ মনিহার আমায় নাহি সাজে।আমার সংবর্ধনার প্রয়োজন নেই, আমি জনগণের সেবক। জনগণ কতটুকু পেল সেটাই আমার কাছে সবথেকে বিবেচ্য বিষয়। আজকে যে সংবর্ধনা, সংবর্ধনা তো আমার প্রয়োজন নেই। সংবর্ধনা আমি উৎসর্গ করছি বাংলার জনগণকে, উৎসর্গ করছি দেশের মানুষকে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সকাল থেকেই রাজধানীসহ আশেপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জড়ো হয়েছেন দলটির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। ব্যানার এবং ফেস্টুন নিয়ে খণ্ড খণ্ড মিছিলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিভিন্ন ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছেন তারা। সেখানে তল্লাশি পেরিয়ে একে একে ভেতরে প্রবেশ করছেন নেতাকর্মীরা

সময় নেতাকর্মীদের হাতে জাতীয় পতাকা, দলীয় পতাকা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাতে পুরো অনুষ্ঠানের সময় এটি বর্ণিল সাজে দেখায় সবাইকে। এর আগে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বর্ণিল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি ছিল। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সাংস্কৃতিক পরিবেশের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সংগঠনটির আনুষ্ঠানিকতা

আজকের এই অনুষ্ঠান সফল করার জন্য গত ১৫ দিন ধরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কাজ করছেন বলে জানা গেছে। অনুষ্ঠানে ঢাকা আশেপাশের প্রায় ৬০ কিলোমিটার মধ্যে যেসব নেতাকর্মী আছেন তারা এসে উপস্থিত হন।  

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীরা যাতে দেশবাসীর মাঝে নৌকা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণা চালাতে পারে সে বিষয়ে আজ প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিতে পারেন বলে জানা গেছে

গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়ার সময় আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের সদস্যদের কথা স্মরণ করতেই আবেগ-আপ্লুত হয়ে পড়েন সময় অনুষ্ঠানস্থলের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে অনেককে চোখের পানি মুছতে দেখা গেছে

বাকরুদ্ধ বঙ্গবন্ধুকন্যা নিজেকে সামলে নিয়ে বলেন, সংবর্ধনা আমি দেশের জনগণকে উৎসর্গ করেছি

ভারতের আসানসোলের কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিলিট ডিগ্রি অর্জন, মহাকাশে সফলভাবে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট পাঠানো, অষ্ট্রেলিয়ার সিডনি থেকে গ্লোবাল উইমেন্স লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড অর্জন স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত করা, চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া এবং দেশের উন্নয়ন অর্জনে অনন্য সফলতার জন্য গণসংবর্ধনা দেয়া হয়

এর আগে দুপুর ১টা থেকে বিকেল সোয়া ৪টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে। এর আগে বিকেল সাড়ে তিনটায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে আসেন

পবিত্র কোরআন, গীতা, বাইবেল ত্রিপিটক থেকে পাঠের মাধমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। শুরুতে অভিনন্দন পত্র পাঠ করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সময় সংবর্ধনামঞ্চে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়াও কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে গ্যাস বিক্রির মুচলেকা দেইনি বলে ক্ষমতায় যেতে পারিনি। বিএনপি সেই মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় গেছে। কিন্তু তারাও বিদেশে তো দূরে থাক, বাংলার মানুষকেই গ্যাসবিদ্যুৎ দিতে পারেনি। এর আগে ৯৫ সালে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় গেছে বিএনপি। কিন্তু মানুষের আন্দোলনের মুখে টিকে থাকতে পারেনি

তিনি বলেন, ঘরেবাইরে অনেক আঘাত এসেছে। কিন্তু কখনো নীতি থেকে সরে দাঁড়াইনি। সবসময় নীতিআদর্শের মধ্যে থেকেছি। অর্জন সেসব নেতাকর্মীর, যারা দলের জন্য রক্ত দিয়েছেন, আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন। আমি জনগণের সেবক। তাদের সেবা করেই নিজের সার্থকতা খুঁজে পাই। জাতির পিতা মানুষের ভোট ভাতের অধিকারের জন্য কাজ করেছেন। আমি তার কন্যা হিসেবে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। তার স্বপ্নের উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে কাজ করে যাচ্ছি

এর আগে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্মানে দেয়া মানপত্র পাঠ করা হয়। পরে মানপত্রের বাঁধাই করা একটি স্মারক তার হাতে তুলে দেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের