১৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২রা ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পোশাক কারখানা মালিকদের প্রস্তাবিত ৬ হাজার ৩৬০ টাকা মজুরি প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিক নেতারা বলেছেন, শিগগিরই ১৬ হাজার টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা না হলে আগামী সেপ্টেম্বরে গার্মেন্টস শ্রমিকরা কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলবে।

আজ মঙ্গলবার (১৭জুলাই) রাজধানীর তোপখানা রোডে গার্মেন্টস শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনের এ হুঁশিয়ারি দেন গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন কমিটির সমন্বয়কারী মাহবুবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে শ্রমিক নেত্রী মোশরেফা মিশুসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। একই স্থানে বাংলাদেশ সংযুক্ত গার্মেন্ট শ্রমিক ফেডারেশন নামের একটি শ্রমিক সংগঠন একই দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক অধিকার আন্দোলন কমিটির সমন্বয়কারী মাহবুবুর রহমান বলেন, গার্মেন্টস শ্রমিকরা বর্তমানে যে মজুরি পায়, তাতে তাদের জীবন ধারণ খুব কঠিন। ১৬ হাজার টাকা নিম্নতম মজুরি ঘোষণা না হলে সেপ্টেম্বর মাসে গার্মেন্টস শ্রমিকরা কঠিন আন্দোলন গড়ে তুলবে।

১৬ জুলাই মজুরি বোর্ডের বৈঠকে পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৬ হাজার ৩৬০ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন মালিকরা। আর শ্রমিক প্রতিনিধিদের প্রস্তাবিত মজুরি ছিল ১২ হাজার ২০ টাকা। এর কোনটি মানেননি শ্রমিকরা। বৈঠকের ঘোষণা শোনার পর পরই তারা তা প্রত্যাখ্যান করেন।

মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশের রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশ অর্জনকারী শ্রমিকদের শ্রমে ও ঘামে গড়ে ওঠেছে বিলিয়ন ডলারের এ শিল্প। তাই এ শিল্পের বিকাশের জন্য এদের মজুরি বাড়ানো জরুরি।কিন্তু বিষয়টি মালিকপক্ষ এখনো বুঝতে সক্ষম হননি।

তিনি বলেন, মালিক এবং বায়ারদের (ক্রেতা) বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার লাভের এ ব্যবসার খুব সামান্য লভ্যাংশ দিলেই শ্রমিকরা উৎপাদনের চাকাকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে নিতে পারতো। এতে কোন সন্দেহ নেই।

মজুরি বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত রয়েছেন জাতীয় শ্রমিক লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার ভূঁইয়া। তিনি মূলত মজুরি নির্ধারণে শ্রমিকদের হয়ে ন্যূনতম মজুরির প্রস্তাবনা জমা দিয়েছেন।

আর পড়ুন:   ওবায়দুল কাদেরের অবস্থা উন্নতির দিকে

এই শামসুন্নাহার ভূঁইয়াকে উদ্দেশ্য করে মাহবুবুর রহমান বলেন, শ্রমিক প্রতিনিধিরা সব সংগঠনের মতামত নিয়ে ১৬ হাজার টাকা প্রস্তাব দিবেন বলে আমাদের কথা দিয়েছিলেন। অথচ কী কারণে, কোন চাপের মুখে তিনি কথা রাখলেন না এবং শ্রমিকদের দাবিকে অবমাননা করে কেন ১২ হাজার ২০ টাকা প্রস্তাব করলেন; তা এখন স্পষ্ট।

“তিনি (শামসুন্নাহার ভূঁইয়া) যে প্রক্রিয়ার মজুরি বোর্ড সদস্য হয়েছেন তা থেকেই বোঝা যায় তিনি প্রকৃত শ্রমিক প্রতিনিধি নন। যার প্রমাণই তিনি দিয়েছেন তার প্রস্তাবনার মাধ্যমে।”

শ্রমিক নেতা মাহবুবুর রহমান বলেন, অন্যান্য সেক্টরের মতো এ সেক্টরের শ্রমিকরাও বর্তমানে দেশি-বিদেশি পূজিবাদের নির্মম শোষণের শিকার। শ্রমিক তার পরিবার পরিজন নিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অর্ধাহারে অনাহারে পুষ্টিহীনতায় জীবন যাপন করেন। তাই শ্রমিকদের ১৬ হাজার টাকা মোট মজুরির প্রস্তাবনা মেনে নেয়ার জন্য মালিক প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

উল্লেখ্য, দেশের পোশাক শিল্পের মজুরি কাঠামো সর্বশেষ পর্যালোচনা হয় ২০১৩ সালে। সেই বছর ন্যূনতম মজুরি হার নির্ধারণ হয় ৫ হাজার ৩০০ টাকা। ওই বছরের ডিসেম্বরে নতুন মজুরি কাঠামোর ঘোষণা দেয়া হয়। শ্রম আইন অনুযায়ী, পাঁচ বছর পরপর মজুরি কাঠামো পর্যালোচনা করতে হবে বলে আইনে বলা হয়েছে। যা ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে।