সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

ক্লিন সিটি’র লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবে চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগ: মেয়র ডা. শাহাদাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্ন বিভাগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

- Advertisement -

রোববার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সমন্বয় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।

- Advertisement -shukee

মেয়র বলেন, আমরা ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছি—৪১টি ওয়ার্ডে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ প্রকল্পে নিয়োজিত ভেন্ডর এজেন্টদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত তারা বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করেছেন এবং ফেব্রুয়ারির বকেয়া টাকা মার্চ মাসে সংগ্রহ করবেন। আজ ১ মার্চ থেকে চসিকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি জানান, এখন থেকে পরিচ্ছন্ন বিভাগে কর্মরত প্রায় দুই হাজার পরিচ্ছন্নকর্মী সরাসরি বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করবেন। ফলে এপ্রিল মাস থেকে নগরবাসীকে বাসার ময়লা সংগ্রহের জন্য আলাদা কোনো টাকা দিতে হবে না।

মেয়র বলেন, পরীক্ষামূলকভাবে কিছু ওয়ার্ডে বেসরকারি ভেন্ডরদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, যাতে উৎপাদিত বর্জ্যের শতভাগ সংগ্রহ নিশ্চিত করা যায়। কিন্তু বর্জ্য সংগ্রহে সন্তোষজনক সেবা না পাওয়ায় ভেন্ডরদের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। এখন থেকে শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে পরিচ্ছন্ন বিভাগকে আরও সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, “ডোর-টু-ডোর প্রকল্পের আওতায় আমাদের যেসব কর্মচারী-কর্মকর্তা আছেন, তারা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। অতীতে যেভাবে কাজ করেছেন, তার চেয়েও বেশি দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও ফ্যাসিলিটি প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা নিশ্চিত করবেন।”

সভায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা টমটম গাড়ি সরবরাহ, শ্রমিক সংখ্যা বৃদ্ধি এবং জনবহুল এলাকায় ডাস্টবিন স্থাপনের প্রস্তাব দেন। মেয়র সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এসব বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, যেখানে ডাস্টবিন প্রয়োজন, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রামে উৎপাদিত বর্জ্যের একটি অংশ খাল-নালায় চলে যাওয়ার কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। যত্রতত্র ময়লা ফেলা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীরা যখন বাসায় ময়লা সংগ্রহ করতে যাবেন, নিয়মিত তাঁদের কাছে বর্জ্য হস্তান্তর করবেন। এতে রাস্তা ও ড্রেন পরিষ্কার থাকবে, মশার উপদ্রব কমবে এবং নগর পরিবেশ সুস্থ থাকবে।

তিনি জানান, চসিকের দুটি বর্জ্যাগারে জমাকৃত বর্জ্য থেকে বায়োগ্যাস, গ্রিন ফুয়েল ও জ্বালানি উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করে নগরীর আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে।

মেয়র বলেন, “ক্লিন সিটি” বাস্তবায়ন কেবল পরিচ্ছন্ন বিভাগের দায়িত্ব নয়; এটি নাগরিক ও সিটি কর্পোরেশনের যৌথ দায়িত্ব। শতভাগ বর্জ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করা গেলে জলাবদ্ধতা কমবে, পরিবেশের মান উন্নত হবে এবং চট্টগ্রাম একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।”

সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীসহ প্রকৌশল ও পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ।

 

সর্বশেষ

এই বিভাগের আরও