যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় ইরানকে সমর্থন জানিয়েছে চীন।
সোমবার (২ মার্চ) টেলিফোনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপকালে এই সমর্থনের কথা জানান চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি এই খবর নিশ্চিত করেছে।

শনিবার থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় ডজনখানেক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা শুরু করে। এসব হামলায় ইরানে এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এর জবাবে ইসরায়েল, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ এবং সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ একটি সামরিক ঘাঁটির দিকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।
ফোনালাপে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে ওয়াং ই বলেন, বেইজিং চীন ও ইরানের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্বকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। তিনি ইরানের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও জাতীয় মর্যাদা রক্ষায় চীনের সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় সমর্থন জানান।
চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্দেশে বলেন, তাদের অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, উত্তেজনা যেন আরও না বাড়ে এবং এই সংঘাত যেন গোটা মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে না পড়ে সেদিকে নজর দিতে হবে।
একই দিন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও ফোনালাপ করেন ওয়াং ই। ওই আলাপে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনা করে বলেন, তারা ইচ্ছাকৃতভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ উসকে দিয়ে জাতিসংঘ সনদের মূল লক্ষ্য ও নীতিমালা লঙ্ঘন করছে।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারোর সঙ্গেও টেলিফোনে আলাপ করেন চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই আলাপে তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এখন ‘জঙ্গলের আইনে’ ফিরে যাওয়ার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সিসিটিভিকে দেয়া বক্তব্যে ওয়াং ই আরও বলেন, প্রধান শক্তিগুলো শুধু নিজেদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের ওপর ভর করে অন্যান্য দেশের ওপর ইচ্ছামতো হামলা চালাতে পারে না।

