৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ২৩শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. গিয়াস উদ্দীন আন্তর্জাতিক নার্স দিবসের আলোচনা সভায় বলেছেন, নার্সরা আমাদের জীবনের আসল নায়ক। সমাজের প্রতি নার্সদের অবদান ও মানুষের সেবায় যেভাবে তারা কাজ করেন তা সবার সামনে তুলে ধরতে এই দিনটি পালন করা হচ্ছে।তনি আরো বলেন, করোনা মহামারীতে সারাবিশ্ব  নার্সদের অবদান অতুলনীয়। চিকিৎসকদের মতো নার্সরাও কোভিড-১৯ এর মহামারীর সঙ্গে লড়াইয়ে প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। এই ভূমিকা রাখতে গিয়ে আমরা অনেক চিকিৎসক ও নার্সদের অকালে হারিয়েছি। সভায় তাদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে পরিবারের গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস উপলক্ষে কেক কাটছেন চসিক ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. গিয়াস উদ্দীন

বৃহস্পতিবার (১২মে)সকালে নগরীর ন্যাশনাল হাসপাতাল ও ম্যাক্স হাসপাতালে নার্স দিবস পালন উপলক্ষে পৃথক পৃথক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ মোহাম্মদ ইউছুপ, নির্বাহী পরিচালক ডা. আবু নাসের, পরিচালক ডা. আনোয়ার, মো.শহীদ, প্রফেসর মো. মাজারুল হক নাসিম, ডা. আব্দুস সালাম , ডা. এস.এম কামরুল হক, ম্যাক্স হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী খাঁন, মেডিকেল পরিচালক আবুল কাসেম মাসুদ, ডা. রঞ্জন প্রসাদ দাশগুপ্ত, মেট্রোন কামরুল নাহার প্রমুখ।

ভারপ্রাপ্ত মেয়র আরো বলেন, আধুনিক নার্সিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলকে সম্মান জানিয়ে এই বিশেষ দিন উদযাপন করা হয়। মাতৃস্নেহে অচেনা অজানা অসুস্থ রোগীকে সেবায় ও যত্নে সুস্থ করে তোলেন এই নার্সরাই। দুঃখজনকভাবে হলেও সত্য যে, দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশ গুলোর মধ্যে নার্সিং সেবা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান সবচেয়ে নিচে। তিনি এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নার্সদের উচ্চশিক্ষা ও উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিভাগীয় ও শাখা প্রধানদের সাথে মতবিনিময়

চসিক বিভাগীয় ও শাখা প্রধানদের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. গিয়াস উদ্দীন

ভারপ্রাপ্ত মেয়র মো. গিয়াস উদ্দীন বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর নগরীকে স্মার্ট সিটিতে রূপান্তর করতে প্রকৌশল বিভাগসহ সকল বিভাগ ও শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তুরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। নগরীর সড়ক উন্নয়ন, আলোকায়ন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা এবং মশার উপদ্রপ কমাতে চসিক যে কাজগুলো হাতে নিয়েছে, তার সফলতা অর্জন করতে হবে। তিনি পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে যথা সময়ে কোরবানী বর্জ্য অপসারণে প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশনা প্রদান করেন।  আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাটালি হিলস্থ নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে চসিক বিভাগীয় ও শাখা প্রধানদের সাথে মতবিনিময়কালে এ আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদ মাহমুদের সঞ্চলনায় এতে আরো উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর গাজী মো. শফিউল আজম, মো. মোরশেদ আলম, আব্দুস সালাম মাসুম, জহুরুল আলম জসিম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষা কর্মকতা লুৎফন নাহার, আইন কর্মকর্তা মো. জসিম উদ্দিন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী, প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাসেম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু ছালেহ, মনিরুল হুদা, আকবর আলী, ঝুলন কুমার দাশ, উপ-সচিব আশেক রসুল চৌধুরী টিপু।

ভারপ্রাপ্ত মেয়র আরো বলেন, চট্টগ্রাম নগরীর উন্নয়নে যে সকল প্রকল্প চলমান আছে তা দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করতে হবে। বহদ্দারহাট বারই পাড়া থেকে কর্নফুলি নদী পর্যন্ত খাল খননে সরকারী তহবিল থেকে এক হাজার ৩৬২ কোটি টাকা এবং নগরীর রাস্তা, অলি-গলি, নালা এবং এয়ারপোর্ট রোড চারলেনে উন্নীতকরণে ২ হাজার ৫ শত কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। সেই প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু করতে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। বর্ষা মৌসুমের মধ্যেই দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ করে, বর্ষা শেষ হওয়া মাত্রই যাতে পুরোদমে কাজ শুরু করা যায় তার ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন সড়কের পার্শে উন্মুক্ত অবস্থায় থাকা বড় নালা-নর্দমা সামান্য বৃষ্টি হলেও সড়কের সঙ্গে একাকার হয়ে যায় সে স্থানগুলো চিহিৃত করে বেষ্টনী দেয়াসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থার প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চট্টগ্রামে উন্নয়নের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ, বে-টামিনাল নির্মাণ, চট্টগ্রাম হতে কক্সবাজার পর্যন্ত রেল লাইন চালু, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ ও মীরসরাইতে অর্থনৈতিক জোন তৈরী করা হচ্ছে। এই প্রকল্প গুলো কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। চট্টগ্রামকে ঘিরে  যে সকল উন্নয়ন কাজ হচ্ছে তা সমাপ্ত হলে চট্টগ্রাম হবে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক হাব। সে বাস্তবতায়  চট্টগ্রাম নগরীকে সাজানো না গেলে চট্টগ্রামের উন্নয়ন দৃশ্যমান হবে না।

ফুটপাত ও রাস্তার উপর লোহা এবং মেশিনারী রাখার দায়ে ৪ প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার নগরীতে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী’র নেতৃত্বে পাহাড়তলী থানা রোডের উভয় পার্শ্বের রাস্তা ও ফুটপাত দখল করে পুরাতন লোহা ও মেশিনারী সামগ্রীর ব্যবসা করার দায়ে ৪ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা রুজু পূর্বক ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। একই অভিযানে পলিথিনমুক্ত পরিবেশ-বান্ধব নগরী গড়ার লক্ষ্যে পাহাড়তলী থানাধীন আবদুল আলী হাট কাঁচাবাজারে পলিথিনবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। এই সময় দু’টি দোকান থেকে পলিথিন ব্যাগ জব্দ করা হয় এবং পলিথিন ব্যাগ বর্জনের জন্য  দোকান মালিক ও ক্রেতা সাধারণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়। অভিযানকালে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ  ম্যাজিস্ট্রেটকে সহায়তা প্রদান করেন।