[bangla_date] || [english_date]

চলতিমাসের ১ ডিসেস্বর চট্টগ্রাম ১৫- আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মোতালেব সাতকানিয়া থানাধীন দেওদীঘি এলাকায় তার সমর্থকের গাড়ি বহর আটক, একই দিন কেরানীহাট এলাকায় তার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল, কুশপুত্তলিকা দাহ এবং তার গাড়িবহর দেখে অসভ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়-ভীতি প্রদর্শন, একটি সমাবেশে নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন করে এমপি ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর বিরুদ্ধে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির অভিযোগ এনে এবং অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান তার মনোনয়নপত্রে সংযুক্তি হিসেবে দাখিলকৃত এক শতাংশ সমর্থনকারী ভোটার তালিকার ক্রম ৩১০ সৈয়দুল আলম, সাং- পুটিবিলা, লোহাগাড়াকে এমপি ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর চট্টগ্রাম শহরস্থ চান্দগাঁও রূপালী আবাসিকের বাসার তৃতীয় তলার অফিস কক্ষের পাশের কম্পিউটার রুমে আটকে রাখায় ৪ নভেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই বাচাইকালে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে হাজির হয়ে সাক্ষর দিতে পারেননি মর্মে যে অভিযোগ অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান বরাবর দায়ের করেছেন তাকে সর্বৈব মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে এক বিবৃতি প্রদান করেছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

বুধবার (৬ডিসেম্বর) চাটগাঁর বাণীতে পাঠানো বিবৃতিতে তিনি বলেন, এসব ঘটনার সাথে আমি এবং আমার কোনো সমর্থক মোটেই জড়িত নয়।

নেজামুদ্দিন নদভী বলেন, আমি বিগত দুইটার্মে জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত দুই দুইবারে সংসদ সদস্য হই এবং অত্র সংসদীয় আসনে বিগত ১০ বছরে জনগণের ভাগ্যন্নোয়নে ও জীবনমান উন্নতকরণের লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছেন তা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছি। তিনি বলেন, বিগত ১০ বছরে আমি কোনো সন্ত্রাসীকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেইনি এবং অত্র সংসদীয় এলাকায় থানা প্রশাসনের মাধ্যমে সন্ত্রাসীদের জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করেছি। ড. নদভী এমপি বলেন, জনমানুষের দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃক আমাকে পুনরায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ঘোষণার পর এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দিপনা ও গণ-জাগরণে ক্ষীপ্ত হয়ে, সর্বোপরি তাদের মনোনয়ন ফরমে ক্রটি-বিচ্যুতি ও তথ্য বিভ্রাট থাকায় মনোনয়ন বাছাইয়ের দিন তাদের মনোনয়ন ফরম বাতিল হয়ে যাওয়ায় দুই স্বতন্ত্রপ্রার্থী যথাক্রমে আব্দুল মোতালেব ও ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে উপরোক্ত মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগ দায়ের করেন। ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি বলেন, তফশিল ঘোষণার পর প্রতিশ্রুতি তো দূরের কথা, আমি কোনো সমাবেশ অংশও নেইনি। ২৯ নভেম্বর নমিনেশন পেপার জমাদানের পর সোজা চট্টগ্রাম শহরের বাসায় চলে আসি। ১ ডিসেম্বর সাতকানিয়া মাদার্শা বাবুনগরে গ্রামের বাড়িতে অবস্থানের পর ২ডিসেম্বর আবার চট্টগ্রাম শহরে চলে আসি। গত ২ ডিসেম্বর নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার এবং নির্বাচন কমিশনকে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদানে বদ্ধপরিকরের কথা উল্লেখ করে আমি নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সহকারী জজ শাহনেওয়াজ মনির বরাবর জবাব প্রদান করেছি। অপর স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. মিনহাজর রহমান কর্তৃক তার সমর্থকদের উপর বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করে এবং সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি করে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাঁধা সৃষ্টি করার অভিযোগ প্রসঙ্গে ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী এমপি বলেন, আমি আমার মনোনয়ন ফরমের কাগজপত্র নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম, আমি অথবা আমার কোনো সমর্থক এই ধরনের কোনো ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত নই। অধিকন্তু, এ ধরনের কোনো ঘটনা সম্পর্কেও আমি ওয়াকিবহাল নই। যেহেতু আমি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তাই আমার মানসম্মান নষ্ট করার কু-মানসে এবং আমার জনপ্রিয়তা নষ্ট করার অপচেষ্টায় আমার প্রতিপক্ষ প্রার্থীরা আমার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের ষড়যন্ত্র ও প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে দুর্নাম রটাচ্ছে। মিথ্যা অপবাদ দিয়ে, মিথ্যা তথ্য জনসমক্ষে উপস্থাপন করে, আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালাচ্ছে, আমি এসব অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।