২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

বিতর্ক এমন শক্তিশালী মাধ্যম, যার মাধ্যমে সহজেই যৌক্তিকভাবে সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। পড়ালেখার পাশাপাশি বিতর্কে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা যুক্তি-তর্ক আয়ত্ত করে নিজেদের মেধার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ থাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। তাই সহ-পাঠক্রমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘অতিরিক্ত জনসংখ্যাই পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী’এ বিষয়বস্তুকে কেন্দ্র করে সীতাকুণ্ড থানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত  এক বিতর্ক প্রতিযোগিতা বুধবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে বেগম সুফিয়া কামাল কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রতিযোগিতায় মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন সীতাকুণ্ড সরকারি মহিলা কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক গোলাম সারোয়ার মুরাদ। বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- সীতাকুণ্ড সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তাসলিমা খাতুন,  শেখেরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু জাহেদ ও সিসিসি উচ্চবিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষিকা  খালেদা আফরোজ।

বিতর্ক অনুষ্ঠানে মডারেটর ও বিচারকমণ্ডলী

বিষয়ের পক্ষের বক্তা নুসরাত জাহান আতিয়া, সমাপ্তি মিত্র, তুখলিফুল ইলদীন বেশ বুদ্ধিমত্তার সাথে বর্তমান বিশ্বে পরিবেশ বিনষ্টে প্রধানত নেতৃত্ব দিচ্ছে জনসংখ্যার অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণ, যারফলে হারিয়ে যাচ্ছে জীব- বৈচিত্র্যের সেই সমন্বয়সাধন।  অতিরিক্ত জনসংখ্যার ব্যবহৃত বর্জ্যের কারণে দূষিত হচ্ছে বিশ্বের মুক্ত বায়ু-এসব কথা তুলে ধরে।

আর বিষয়ের বিপক্ষের নুসরাত জাহান জেমি, সৌমেন বসু, রামিসা মোর্শেদ  জোরালোভাবে তুলে ধরে অতিরিক্ত জনসংখ্যাই নয়,মানুষের অসচেতনতা, অজ্ঞতা ও নৈতিক অবক্ষয়  পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী-এ সব মিলিয়ে নানা যুক্তি, পাল্টাযুক্তি  দিয়ে পক্ষ -বিপক্ষের কোমলমতি বিতার্কিকরা বিতর্ক অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত ও উপভোগ্য করে তোলে।

‘অতিরিক্ত জনসংখ্যাই পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী’ -এর বিপক্ষ দল তথ্য আর যুক্তি উপস্থাপনায় দক্ষতার প্রমাণ দেখিয়ে বিজয় লাভ করে। আর গোছানো ও যুক্তিনির্ভর উপস্থাপনায় বিপক্ষ দলের দলনেতা নুসরাত জাহান জেমি শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হয়।

বিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা

এর পর অনুষ্ঠিত হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও আলোচনা সভা। এতে প্রধানঅতিথি ছিলেন সীতাকুণ্ড সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ইউইও) মো. আলাউদ্দীন। বিতর্কের মাধ্যমে সৃজনশীলতা বিকাশের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনোবল বৃদ্ধি ও মেধার চর্চা শাণিত হয় উল্লেখ করে প্রধানঅতিথি বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি  বিতর্ক শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের পরিধি ,সাহস এবং দৃঢ় মনোবল বাড়িয়ে দেয়।  শিশুকাল থেকে এমন বিতর্কচর্চা সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে উপকারে আসবে।

বিদ্যালয় অভিভাবক সমিতির সভাপতি  রেজাউল করিম বাহারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক সুলতানা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন সহকারি শিক্ষিকা জোবেদা ইয়াছমিন । পরে প্রধানঅতিথি উভয়  দলের প্রত্যেকের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।