২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

মোহাম্মদ ইউসুফ*

আজ বুধবার(৫ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে৯টায় চমেক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ (ইন্নালিল্লাহি- রাজেউন) করেন শ্রমজীবী মানুষের বিশ্বস্ত ও নির্ভরশীল নেতা, গরীব-দুঃখী মেহনতি মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক, একসময়ের রাজনৈতিক অঙ্গনে (সীতাকুণ্ড উপজেলা বাকশালের সাধারণ সম্পাদক) আমার অগ্রজ সহযোদ্ধা ও অভিভাবক, সীতাকুণ্ডের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্লাটুন কমান্ডার, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক,বীরমুক্তিযোদ্ধা নুর আহমেদভাই (৮০)।।কিছুদিন আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনালের হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন।মৃত্যুকালে তিনি ৪মেয়ে ২ছেলেসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। আজ বাদআছর সীতাকুণ্ড সরকারি হাইস্কুল মাঠে প্রথম নামাজে জানাজা ও বাদমাগরিব নিজগ্রাম সীতাকুণ্ডের মুরাদপুর ইউনিয়নের গুলিয়াখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দ্বিতীয় জানাজাশেষে পারিবারিবারিক কবরস্থানে রাষ্ট্রীয়মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হবে বলে মরহুমের ছোটভাই মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড, জুবিলী রোড শাখার ব্যবস্থাপক নুরুল আমিন মুঠোফোনে জানান।
শ্রমিকনেতা নুর আহমেদ, আমাদের প্রিয় নুর আহমেদদা।সীতাকুণ্ডের একসময়ের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা ছিলেন তিনি।সীতাকুণ্ড শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক-কর্মচারিদের যিনি ছিলেন অত্যন্ত আপনজন ও সুখ-দুঃখের সাথী।শ্রমজীবী মানুষের এ প্রিয়নেতাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে একসময় শ্রমিক-জনতা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলসড়ক অবরোধ তেরি করে সারাদেশের যোগাযোগব্যবস্থা অচল করে দিলে তখনকার শাসকগোষ্ঠী তাঁকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।বাড়বকুণ্ডের প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ (যেখানে তিনি চাকরি করতেন) থেকে শুরু করে সীতাকুণ্ড সদরের বর্ণালী ক্লাব ও সংগীতশিল্পী কুমার বিশ্বজিতের কাকার মালিকানাধীন ইউনাইটেড ফার্মেসী’র দোতলায় ছিল তাঁর বসারস্থান।শিল্প-কারখানার শ্রমিক-কর্মচারিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নানা সমস্যা নিয়ে নুর আহমেদদার কাছে ছুটে আসতো। মনোযোগসহকারে তিনি সকলের কথা শোনতেন এবং সাধ্যমতো তা সমাধানের চেষ্টা করতেন। তাঁর কাছে কোনো ছলচাতুরি ছিল না, ছিল না কোনো ভণ্ডামি।অত্যন্ত সৎ, ন্যায়পরায়ণ ও আদর্শবান নেতা ছিলেন তিনি।নীতির প্রশ্নে তিনি ছিলেন আপোসহীন ও অটল।১৯৮৮ সালে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করার কথা। কিন্তু কেন্দ্রবন্ধ করে জালভোট দ্বারা প্রতিপক্ষ তাঁকে পরাজিত করে।একইভাবে ভোট নেয়ার তাঁরও শক্তি-সামর্থ সবই ছিল কিন্তু তিনি অনিয়মের আশ্রয় নেননি।তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রকাশ্যে বলেছিলেন, “দু’নম্বরী করে আমার উপজেলা চেয়ারম্যান হওয়ার কোনো দরকার নেই।”
যেখানে যান দাদা, সুখে থাকুন, শান্তিতে থাকুন- সৃষ্টিকর্তার কাছে সে-ই আবেদন করছি।