২৬শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

আল হাইয়াতুল উলইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ আয়োজিত শোকরানা মাহফিলে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা দ্বীন ইসলামের খেদমত করছেন তাদের মাঝে উপস্থিত হতে পারাটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। ইসলাম শান্তির ধর্ম, ইসলাম ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। যারা দ্বীন ইসলামের শিক্ষা দেন তারা কেন অবহেলিত থাকবেন? তাদের অবহেলিত থাকতে দেয়া যায় না।

রবিবার(৪নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে তিনি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোকরানা মাহফিলের  সভামঞ্চে পৌঁছান।

এর আগে সকাল ৯টায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শোকরানা মাহফিল শুরু হয়।

কওমি মাদ্রাসা শিক্ষার সর্বোচ্চ সনদ দাওরায়ে হাদিসকে (তাকমিল) সাধারণ শিক্ষার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমান স্বীকৃতি দেয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আজ সংবর্ধনা দেবেন এ সেক্টরের আলেমরা।

অবশ্য তারা এ অনুষ্ঠানকে বলছেন- শোকরানা মাহফিল। এতে সভাপতিত্ব করছেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

এদিকে এর আগেই আলেমদের সমাগমে এক প্রকার জনসমুদ্রে পরিণত হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। সারা দেশের ১০ লক্ষাধিক আলেমের সমাগমের জন্য প্রস্তুত সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মঞ্চ ও প্যান্ডেল।

জানা গেছে, সোহরাওযার্দী উদ্যানে বিশাল এলাকাজুড়ে প্যান্ডেল, বসার জন্য চেয়ার, বিভিন্ন স্থানে পর্য়াপ্তসংখ্যক টয়লেট ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা রয়েছে। ভোর থেকেই সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন আলেমরা।

গায়ে পাঞ্জাবি-পায়জামা আর মাথায় টুপি পরে স্রোতের মতো টিএসসি ও মাজারগেট দিয়ে মাহফিল স্থানে প্রবেশ করছেন সারা দেশ থেকে আসা বিভিন্ন মাদ্রাসার আলেমরা।

রাজধানীতে এ বড় সমাবেশ সামনে রেখে এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছে।

আজকের পূর্বনির্ধারিত জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। ৯ নভেম্বর সকাল ৯টায় ওই পরীক্ষা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফউল্যা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংবর্ধনার স্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান শনিবার দুপুরে পরিদর্শন করেন জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও জমিয়াতুল উলামার চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসউদ।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এটি নির্বাচনী সমাবেশ নয়; প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কওমি মাদ্রাসার জন্য নজিরবিহীন একটি কাজ করেছেন, যা এর আগে কেউ-ই করেনি। আমরা তাকে শুকরিয়া জানাতেই একত্র হচ্ছি।

হেফাজতে ইসলাম একসময় সরকারের বিরুদ্ধে রাজধানীর শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়েছিল, এখন পক্ষে চলে এসেছে কীভাবে- এমন প্রশ্নের উত্তরে আল্লামা মাসউদ বলেন, হেফাজতে ইসলাম সরকারের বিরুদ্ধে ছিল না।

তারা শাপলা চত্বরে তাদের দাবি সরকারের কাছে পেশ করেছিল। আর এখন তো অনেক বড় একটি কাজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করে দিয়েছেন। কওমি মাদ্রাসা স্বীকৃতি, আইন পাস করানো ছোট কোনো বিষয় নয়। এটি নজিরবিহীন।

আলেমদের এ সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কোনো দাবি রাখা হবে কিনা জানতে চাইলে মাসউদ বলেন, সে রকম কোনো বিষয়ে সম্মিলিত পরামর্শ হয়নি। তবে জামায়াত নিষিদ্ধকরণ, কাদিয়ানিদের মিথ্যাচার প্রচারের বিরুদ্ধে আলোচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও ভালো ভূমিকা রাখতে পারেন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দ্বীনি মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের সহসভাপতি মাওলানা ইয়াহয়া মাহমুদ, মহাসচিব মুফতি মুহাম্মদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ইমদাদুল্লাহ কাসেমী, বাংলাদেশ জমিয়াতুল উলামার মহাসচিব মাওলানা আবদুর রহিম কাসেমী, অভিভাবক পরিষদ সদস্য মাওলানা আইয়ুব আনসারী, ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক মাওলানা মাসউদুল কাদির প্রমুখ। সারা দেশে ১৩ হাজার ৯০২টি কওমি মাদ্রাসায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী আছে।