২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীন  চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল  । ৬ মে মেয়র হিসেবে শপথ নেন ।২৬ জুলাই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন ।

একই সময়ে নির্বাচিত  হওয়া ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন এবং ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রয়াত আনিসুল হককে ২০১৬ সালের ২১ জুন মন্ত্রী পদমর্যাদা দেয়া হলেও দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনকে এ পদমর্যাদা দেয়া হয়নি।এ নিয়ে নগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে যেমন আক্ষেপ ছিলো, তেমনি কষ্টও ছিলো। তবে অনেকে অপেক্ষায় ছিলেন আওয়ামী লীগের দু:সময়ে দলের হাল ধরা নেতা আ জ ম নাছির উদ্দীনকে শেষ পর্যন্ত মূল্যায়ন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর চট্টগ্রামের ২৩টি আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের মান-অভিমান ভুলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ঐক্যবদ্ধ হন আওয়ামী লীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব শক্তি।

ঐক্যবদ্ধ এ শক্তির নেতৃত্ব দেন সিটি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। সবাইকে নিয়ে নৌকার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ প্রচারণা চালান নগরের ৬টি সংসদীয় আসনসহ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও ফেনীতেও।

নির্বাচনে চট্টগ্রাম নগরের ৬টি আসনসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের সব আসনে আওয়ামী লীগ ও মহাজোটের প্রার্থীদের জয়ী করতে নিরলস পরিশ্রমের ‘পুরস্কার’ হিসেবে তাই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনকে মন্ত্রী পদমর্যাদা দেয়া হতে পারে –এমন আভাষ মিলেছে।

এ প্রসঙ্গে আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের একজন অনুসারী হিসেবে- জননেত্রী শেখ হাসিনার একজন কর্মী হিসেবে দিনরাত দলের জন্য পরিশ্রম করেছি। আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের জয়ী করতে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সবাইকে নিয়ে কাজ করেছি। সবাই জয়ী হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া কথা রাখতে পেরেছি।

তিনি বলেন, নিজে কী পেলাম, কী পেলাম না- এসব নিয়ে ভাবি না। নেত্রী সব জানেন। তিনিই সবাইকে মূল্যায়ন করবেন।

জানা গেছে, বর্তমানে চালু থাকা ওয়ারেন্ট অব প্রেসিডেন্স অনুযায়ী মেয়ররা মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর মর্যাদা পান না। ঢাকা সিটি করপোরেশনসহ কোনো সিটি করপোরেশনের মেয়রেরই পদমর্যাদার বিষয়টি কোথাও নির্দিষ্ট করা নেই।

এছাড়া সিটি করপোরেশন আইনেও মেয়রদের পদমর্যাদা বিষয়ে কিছু বলা নেই। তাই সরকার নিজের মতো করে মেয়রদের পদমর্যাদা নির্ধারণ করে দেয়। মেয়রদের পদমর্যাদা দেয়া হবে কি না, তা নির্ভর করে প্রধানমন্ত্রীর সুপারিশ ও রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের ওপর।