১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী থানা এলাকা থেকে মাদক ব্যবসায়ীসহ ২জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭। এ সময় এক মাদক ব্যবসায়ীর গুদামঘরে মাটি খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় ২ লাখেরও বেশি ইয়াবা ও ২টি ওয়ানশুটারগান ও ২ রাউন্ড কার্তুজ । গ্রেপ্তাররা হলো- কর্ণফুলী থানার শাহমীরপুর গ্রামের মৃত সুলতান আহমদের ছেলে মো. আজম উদ্দিন চৌধুরী (২৬) ও মো. আব্দুল নুরের ছেলে মো. ছৈয়দ নুর প্রকাশ রুবেল হোসেন (৩০)।

র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এম.এ ইউসুফ আজ রবিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর চান্দগাঁও ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলনে জানান এসব তথ্য।

র‌্যাব অধিনায়ক জানান, গত ৪/৫দিন ধরে টেকনাফ-উখিয়াসহ মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, বিয়ার ও সিগারেটের বিশাল চালান জব্দ করা হয়। এ সময় ওই এলাকা থেকে জব্দ করা হয় ইয়াবার একটি বড় চালানও। এসব চালান থেকে মাদক ডিলার সম্পর্কে আমরা তথ্য পাই। এ তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় নগরীর কর্ণফুলী থানার শাহমিরপুর বাদামতল এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ২জনকে আটক করি। পরে তাদের দেয়া তথ্যমতে গ্রেপ্তার আজিমের গুদামঘরের মাটির নিচে লুকানো ২ লাখ ২০ হাজার ইয়াবা ও পানির নিচে বিশেষ কায়দায় পলিব্যাগে লুকিয়ে রাখা দুটি ওয়ানশুটারগান ও দুই রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তা আরও বলেন, পাঁচ ছয় বছর আগে থেকে ইয়াবা ব্যবসায় সাথে জড়িয়ে পড়ে তারা। শুরুর দিকে ইয়াবা বহনের কাজ করলেও পরে তারা বড় চালান পেয়ে নিজেরা ব্যবসা শুরু করে। এর মধ্যে নিজের বাড়িতে মাটির নিচে ইয়াবা, অস্ত্র ও গোলাবারুদ এনে রাখে। পরে সেখান থেকে খুচরা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছে ছোট ছোট প্যাকেটে করে ইয়াবার চালান সরবরাহ করত। অস্ত্রগুলো দিয়ে তারা স্থানীয়ভাবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার, প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও বহনে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যবহার করতো। উদ্ধার অস্ত্র-গোলাবারুদ বাঁশখালীর কথিত অস্ত্র ব্যবসায়ী শহিদ এবং ছৈয়দের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানায়।

গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তি মতে র‌্যাব অধিনায়ক  আরও বলেন, গ্রেপ্তাররা  দীর্ঘদিন ধরে সাগরপথে মিয়ানমার থেকে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা সংগ্রহ করে পরে তা দেশের বিভিন্ন জায়গায় খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে। উদ্ধার ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৬কোটি ৬০ লাখ টাকা। গ্রেফতারকৃত আসামী এবং উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য, অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংক্রান্তে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।