২৬শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

হলুদ জার্সি, নীল শর্টস। সেই চেনা সাম্বা। এই ব্রাজিলকেই তো ভালোবাসেন বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা। এই  ব্রাজিলের খেলা দেখতেই নির্ঘুম রাত কাটে টেলিভিশন সেটের সামনে। বলা হয়, ফুটবল ব্রাজিলিয়ানদের কাছে শুধু খেলা নয়, ধর্মও। বেঁচে থাকার অবলম্বন। রিওর বস্তির যে মানুষটা না খেয়ে থাকেন তিনিও যন্ত্রণা ভুলতে আঁকড়ে ধরেন ফুটবলকে। সোমবার রাতে এমনই দিন এনে দিলেন নেইমার, জেসুস, রিচার্লিসনরা।

মরুর বুকে মাঠের সবুজ ঘাসে আলপনা এঁকে দিলেন তারা। যার সাক্ষী হয়ে থাকলো স্টেডিয়াম ৯৭৪ এর অর্ধ লাখেরও বেশি দর্শকসহ বিশ্বে কোটি কোটি মানুষ। এদিন সেলেসাওদের কাছে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। একটি করে গোল করেছেন, নেইমার, ভিনিসিয়ুস, রিচার্লিসন ও পাকেতা। যে জয় উৎসর্গ করা হয়েছে ফুটবল সম্রাট পেলেকে।

কাতার বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে এদিন যেন গোল উৎসবে নেমেছিল ব্রাজিল। ৭ মিনিটে দুর্দান্ত আক্রমণে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। গোল করেন ভিনিসিয়ুর জুনিয়র। ডান দিকে অসাধারণ পাস। বাঁ দিকে বল পান ভিনিসিয়ুস। গোল করেই গোটা দলের সাম্বা নাচ।

১০ মিনিটে আবারও গোল। রিচার্লিসনকে বক্সের মধ্যে ফাউল করেন দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলার। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। ঠাণ্ডা মাথায় গোল করলেন নেইমার। চলতি বিশ্বকাপে এটাই নেইমারের প্রথম গোল।

খেলার ২৯ মিনিটে রিচার্লিসন ঝলক। মাথায় বল নিয়ে জাগলিং করে সতীর্থকে সঙ্গে অনবদ্য পাস। সেখান থেকে সিলভার ফিরতি পাসে গোল করলেন রিচার্লিসন।

৩৬ মিনিটে ৪-০ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। এবার লুকাস পাকেতা। বাঁ দিক থেকে ক্রস দিয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। সেখান থেকে চলতি বলে শটে গোল পাকেতার।

দ্বিতীয়ার্ধে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক মনোভাব নেই ব্রাজিলের। যেন পরের ম্যাচগুলোর জন্য শক্তি বাঁচিয়ে রাখতে ‘এনার্জি সেভিং মুডে’ খেলছিলেন তিতের শীষ্যরা।

সেলেসাওদের আক্রমণ কমিয়ে দেয়ার সুযোগ নেয় দক্ষিণ কোরিয়া। ৬৭ মিনিটে দুর্দান্ত সেভ অ্যালিসনের। বাঁ দিক থেকে ক্রস করেছিলেন কোরিয়ার ফুটবলার। ডান দিক থেকে আর এক ফুটবলারের শট ঝাঁপিয়ে পড়ে বাঁচালেন তিনি।

৭৫ মিনিটে এক গোল শোধ দেয় দক্ষিণ কোরিয়া। ফ্রিকিক থেকে বল ক্লিয়ার করেছিলেন ব্রাজিলের ডিফেন্ডার। সেই বল সুন্দর রিসিভ করে বাঁ পায়ের জোরালো শটে গোল পাইক সিউং হো।

একে একে বদলি হিসেবে মাঠ ছাড়েন মিলিতাও, দানিলো, ভিনিসিয়ুস, অ্যালিসন বেকার ও নেইমার। কমে যায় আক্রমণের ধার।

বিশ্বকাপের বাকি সময় যাতে এই আক্রমণের আগুন নিভে না যায়—সেই প্রত্যাশা ব্রাজিল ভক্তদের।