২১শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ৬ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বেপরোয়া বাইকারদের থামাতে চালক, অভিভাবক, বিআরটিএ, আইনশৃংখলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান উপদেষ্টা এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন। আজ শুক্রবার (১৩ মে) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তিনি মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনা রোধে সকলের প্রতি এ অনুরোধ জানান।

এসময় তিনি বলেন স্বল্প সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য মোটরসাইকেল একটি জনপ্রিয় বাহন। বর্তমান সময়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার পুরুষরা উল্লেখযোগ্য হারে এ বাহন ব্যবহার করছে। সম্প্রতি নারীরাও এ বাহনে চলাচলে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে। মূলত স্বল্প খরচে দৈনন্দিন কার্যাদি সম্পাদনের জন্য কয়েক বছরের মধ্যে ব্যাপকহারে মোটরসাইকেলের চলাচল বেড়েছে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে বর্তমানে এ বাহনটি স্বাক্ষাত মৃত্যুদূতের মতো আবির্ভূত হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে গত কয়েকমাসে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু এবং আহতের সংখ্যা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। যার একটি বিশাল অংশ হচ্ছে কিশোর বয়সের। যাদের অধিকাংশই ১৮ বছরের নীচে। তাছাড়া দুর্ঘটনার পাশাপাশি বাইকাররা যান ও জন চলাচলে বিরক্তির সৃষ্টি করে। চলাচলের ফুটপাতে একের পর এক মোটরসাইকেল নিয়ে ওঠে যায়। পথচারীদের থামিয়ে দিয়ে উচ্চ শব্দে হর্ন বাজিয়ে চলাচল করে বেপরোয়া বাইকাররা। তাদের এ চলাচলের কারণে সমস্যায় পড়তে হয় অন্যান্য যানবাহনের চালকদের। এ বাইকাররা কোনো রকম ট্রাফিক সিগন্যালের পরোয়া করে না। সুযোগ বুঝেই দ্রুত সিগন্যাল অমান্য করে ছুটে যায়। এভাবে সড়কজুড়ে বাইকাররা নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী বেপরোয়া গতিতে বাইক চালায়। বাইকারদের কারণে রাস্তায় হঠাৎ করে গাড়ির ব্রেক কষতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছে অন্য যানবাহনগুলো। খোঁজ নিলে জানা যাবে এসব বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালকদের অধিকাংশেরই নেই কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্স। তারপরও প্রতিনিয়ত সড়ক দাপিয়ে বেড়ায় তারা। তাই বেপরোয়া বাইকারদের এখনই থামাতে হবে। নচেৎ এ বাইকে চড়তে গিয়ে মৃত্যু এবং পঙ্গু হওয়ার হার বাড়তেই থাকবে। এজন্য ব্যক্তি সচেতন হওয়ার কোনো বিকল্প নেই বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি। বেপরোয়া গতি, ওভারটেকিংয়ের চেষ্টা, ট্রাফিক আইন না মানা, চলন্ত অবস্থায় মুঠোফোনে কথা বলা, হেলমেট ব্যবহার না করা এ কারণগুলো এড়িয়ে চলতে পারলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে বলে আশাবাদ সুজনের। এক্ষেত্রে প্রথমেই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে হবে আমাদের অভিভাবকদের। কেননা অধিকাংশ বাইক চালকই হচ্ছে কিশোর বয়সের। তারা মোটর বাইকটাকে আনন্দ এবং বিনোদনের বাহন হিসেবে মনে করে। কিন্তু এই বাইকটিই যে জীবন হরণের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াবে সেটা কখনোই চিন্তা করে না তারা। তাই অপ্রয়োজনীয় বাইক কিনে না দিতে অভিভাবকদের প্রতি সবিনয় অনুরোধ জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা রোধে বিআরটিএ এবং প্রশাসনকে আরো কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিটি মোটরসাইকেল যেন নিবন্ধিত হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। ১৮ বছরের নিচে যাতে কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স না পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। উচ্চগতির মোটরসাইকেল আমদানি এবং চলাচল নিষিদ্ধ করতে হবে। দেশের সকল সড়কে গতি পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন চালকদের আইনের আওতায় আনতে হবে। হেলমেটবিহীন কেউ যাতে সড়কে মোটরসাইকেল চালাতে না পারে সেজন্য কঠোর জরিমানার ব্যবস্থা করতে হবে। পরিশেষে আমাদের সকলের সচেতনতা এবং প্রশাসনের কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমেই বেপরোয়া বাইকারদের থামানো যাবে বলে মত প্রকাশ করেন খোরশেদ আলম সুজন।