[bangla_date] || [english_date]

মুর্শিদা খাতুন ব্যাট হাতে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি পাননি । তাতে অবশ্য আক্ষেপ থাকল সামান্যই। কেননা ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবার আড়াইশ ছোয়া সংগ্রহ পায় বাংলাদেশের মেয়েরা। এরপর দুর্দান্ত বোলিংয়ে সাউথ আফ্রিকাকে দেড়শর আগেই আটকে ফেলে বাংলাদেশের মেয়েরা। যার সুবাদে প্রোটিয়াদের মাটিতে প্রথমবার ওয়ানডে জয়ের স্বাদ নিল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। তাও বিজয়ের দিনে ইতিহাস গড়ে।

শনিবার (১৬ ডিসেম্বর) ইস্ট লন্ডনের বাফেলো পার্ক স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে মুর্শিদা খাতুনের ১০০ বলে অপরাজিত ৯১ রানে ভর করে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ পুঁজির রেকর্ড গড়েছিল বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে স্কোরবোর্ডে ২৫০ রান তোলে টাইগ্রেসরা।

পরে বোলিংয়ে নেমে প্রোটিয়া ব্যাটারদের নিয়ে ছেলেখেলায় মাতলেন নাহিদা-ফাহিমারা। বাংলাদেশের বোলিং তোপে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং অর্ডার। শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকরা অলআউট হয়ে গেছে মাত্র ১৩১ রানে। ১১৯ রানের বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ।

এ দিন ব্যাট করতে নেমে টাইগ্রেসদের ভালো শুরু এনে দেন শামিমা-ফারজানা জুটি। ১৪.২ বল স্থায়ী জুটিতে আসে ৬৬ রান। এলিজ-মারি ম্যাক্সের বলে শামিমা উইকেটের পেছনে ধরা পড়লে এই জুটি ভাঙে। ৪৮ বলে ৫ চারে ৩৪ রান করেন শামিমা।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আরও ৫৪ রান যোগ করেন ফারজানা ও মুরশিদা। দলীয় ১১০ রানে টাকার এই জুটি ভাঙেন। আউট হওয়ার আগে ৭৬ বলে ৩ চারে ৩৫ রান করেন ফারজানা।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে দ্রুত রান তোলায় নজর দেন মুরশিদা ও অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। এই জুটি ৮৭ বলে ৮০ রান যোগ করে। দলীয় ১৯০ রানে এমলাবার বলে বোল্ড হন ৪৮ বলে ৫ চারে ৩৮ রান করা জ্যোতি।

এরপর আর কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ। স্বর্ণা ও মুরশিদার জুটি শেষ ৫৩ বলে ৬০ রান যোগ করে। সেঞ্চুরির কাছাকাছি গিয়েও ওভার না থাকায় আক্ষেপ নিয়ে ফিরতে হয়েছে মুরশিদাকে। ১০০ বলে ১২ চারে ৯১ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। আরেক অপরাজিত ব্যাটার স্বর্ণা ২৮ বলে ২ চারে ২৭ রান করেন।

জয়ের জন্য ২৫১ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় দক্ষিণ আফ্রিকা। দলীয় ৯ রানে পরপর দুটি উইকেট হারায় দলটি। এরপরে ৪১ রানের একটি জুটি হয়। কিন্তু তারপরেই আবার নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে তাকে স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত ১৩১ রানে গিয়ে সবকটি উইকেটের বিদায় ঘটে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩৫ রান করেন এলিজ-মারি মার্কস। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নেন নাহিদা আক্তার।