৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ২৩শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ঈদ উদযাপনকে ঘিরে গত ১০ দিনে সারাদেশে ৯৭ জন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৫১ জনই ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। অর্থাৎ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৫৭ শতাংশের বয়স ছিল ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত সারাদেশে ১৭৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন মোট ২৪৯ জন। নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল আরোহী ছিলেন ৯৭ জন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। নিহত ৫১ জনের বয়স ছিল ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৫৭ শতাংশ ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এতো বেশি নিহতের কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের ঈদযাত্রায় গণপরিবহনের বিকল্প হিসেবে মোটরসাইকেল ব্যবহৃত হয়েছে। তাই দুর্ঘটনাও বেশি হয়েছে।

সংস্থাটির অপর একটি পরিসংখ্যান বলছে, গত ১ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত ১১২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। একই সময় ৫৬ জন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। যা মোট মৃত্যুর ৪০ দশমিক ২৮ শতাংশ।

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বেশি হওয়ার কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শহর থেকে মানুষ গেছেন। এই যাত্রায় বাস, লঞ্চ এবং ট্রেনের পাশাপাশি এবার ব্যাপকহারে যুক্ত হয়েছে মোটরসাইকেল। যেসব মোটরসাইকেল রাজধানীতে রাইড শেয়ার করতো, তারাই বাড়ি যাওয়ার সময় নিজ নিজ এলাকার যাত্রীদের নিয়ে চলে গেছেন। মোটরসাইকেলের চাপে এবার ফেরিঘাটগুলোতে আলাদা ফেরি দিতে হয়েছিল। আর এ কারণে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনাও বেশি ছিল।

মোটরসাইকেল গণপরিবহন না, তবে গণপরিবহন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সড়কের ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, এখন অনেকেই কোনোরকম মোটরসাইকেল চালানো শিখেই রাস্তায় যাত্রীবহন করতে নেমে পড়ছে। এতে যাত্রী ও চালকের দুজনের ঝুঁকি বাড়ছে।

‘মানুষ বাধ্য হয়ে গণপরিবহন হিসেবে মোটরসাইকেল ব্যবহার করছে’ বলে মনে করেন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান। তিনি বাংলা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমাদের গণপরিবহন ব্যবস্থা নাজুক। তাই মানুষ মোটরসাইকেলকে বিকল্প হিসেবে দেখছে। এতে অনেকে স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পারলেও তাদের জীবনের ঝুঁকি রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গণপরিবহন ব্যবস্থা জনবান্ধব করলে এসব মৃত্যু থেকে মানুষকে রক্ষা করা যাবে।’