১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ঢাকার বনানীতে বিএনপির মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এতে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এরমধ্যে তাবিথের অবস্থা গুরুতর। তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্যরা এসব তথ্য জানিয়েছেন। তারা জানান, জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও পুলিশের গুলিতে দলের তিন নেতাকর্মী নিহতের প্রতিবাদে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি।

শনিবার বনানীর কাকলী থেকে গুলশান-২ নম্বর গোলচক্কর পর্যন্ত সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ কর্মসূচি হওয়ার কথা ছিল। এর এক ঘণ্টা আগে ওই রাস্তায় জড়ো হন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বিপরীত দিকে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির জন্য জড়ো হয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচি শুরুর আগে বক্তৃতা করছিলেন প্রধান অতিথি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার আগেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলায় আহত মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচি শুরু হওয়ার আগেই রাস্তার অন্যপাশে ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগ মিছিল করছিল। মোমবাতি প্রজ্বলনের আগে কর্মসূচিতে আসা নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তৃতা করছিলেন প্রধান অতিথি খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তার বক্তব্যের শেষ হওয়ার আগেই আমাদের ওপর হামলা চালায় আওয়াম লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।’

তিনি বলেন, ‘হামলায় বহু নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। অনেক নারী কর্মীও আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিকবিষয়ক কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়ালের অবস্থা গুরুতর। এভাবে কোনো শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা হতে পারে মাথায়ই আসে না।’

এদিকে, হামলায় আহত তাবিথ আউয়ালসহ অন্য নেতাকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় তিনি আহতদের খোঁজখবর নেন।

ভোলায় পুলিশের গুলিতে বিএনপির দুজন নেতাকর্মী নিহত হন। এরপর ২২ আগস্ট থেকে টানা কর্মসূচি শুরু করে দলটি। এরমধ্যে ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে নারায়ণগঞ্জে পুলিশের গুলিতে একজন কর্মী নিহত হন। এরপর ঢাকার ১৬ জায়গায় ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত  বিএনপি সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করে ।