২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রসৈকত  ও দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর ঘেরা চট্টগ্রামের  পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে আন্তর্জাতিক মানের সব আধুনিক পর্যটন সুবিধা এবং অককাঠামোগত আধুনিক নির্মাণ শৈলীতে গড়ে তোলা হচ্ছে।  নতুন এ পর্যটন কেন্দ্র হবে বিশ্বমানের।

এ বিচে  থাকবে  অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা । প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে  পর্যটকদের হাঁটার জন্য ।  বিচে আলাদাভাবে থাকবে কিডস জোন শিশুদের বিনোদনের জন্য  । বিভিন্ন রাইড থাকবে  বড়দের জন্য । সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন,  আগামী মার্চের মধ্যে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতকে পর্যটকদের বিনোদনের উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হবে বলে ।

চট্টগ্রাম উন্নয়ণ কর্তৃপক্ষ(সিডিএ)-এর প্রধান প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক কাজী হাসান বিন শামস কাজের অগ্রগতি সম্পর্কে বলেন, পাঁচ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের মধ্যে প্রায় ৩ থেকে চার কিলোমিটারের কাজ শেষ। আমরা খুব দ্রুত কাজ করছি। আগামী মার্চের মধ্যেই আমরা জোন ওয়ান (পতেঙ্গা বিচ এলাকা) জনসাধারণের জন্য বিনোদনের উপযোগী করে তুলবো। জোন ওয়ানের মধ্যে ৩০ ফিটের সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার ওয়াকওয়ে এবং একটি বিশাল প্লাজা থাকবে। এ প্লাজাটি তিনভাগে ভাগ করা হবে। তিনি আরো জানান, প্রায় ৭০০ গাড়ি রাখার জন্য পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। গাড়ি পার্কিংয়ের রাস্তাটি হবে ট্যানেল এবং বিচ রোডের মাঝামাঝি। এখন বিচের প্রধান সড়ক যেটি আছে, সেটাকে ৮০ ফিট প্রশস্থ করা হবে। ওই রোড দিয়ে মূলত সব গাড়ি প্রবেশ করবে এবং বের হবে। বিচ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য টিকেটের ব্যবস্থা করা হবে।

বিচের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বলেন, বিচ এলাকায় বাচ্চা ও বড়দের জন্য বিভিন্ন রাইড থাকবে। ছোট বাচ্চাদের জন্য কিছু সিম্পল রাইড থাকবে। সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার ওয়াকওয়ের ওপরে ক্যাবল কার থাকবে। এই প্রজেক্টের জন্য বর্তমানে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ আছে। জোন ওয়ানের কাজ শেষ করতে আরো প্রায় ২০ কোটি টাকা লাগবে।

পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত সম্পর্কে সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকত আমরা ব্যবহার করে আসছি। কিন্তু বিনোদনের জন্য যে সব উপাদান প্রয়োজন, সেসব উপাদান পতেঙ্গা বিচে ছিল না। বর্তমানে সেই শূন্যতা পূরণ হতে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধাসহ পতেঙ্গাকে একটি বি্শ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। সেই অনুযায়ী কাজ চলছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এই পতেঙ্গাকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে চট্টগ্রামের মানুষ দেখবে ইনশাল্লাহ।

তিনি আরো জানান, একসাথে ৫০ হাজার মানুষ হাঁটতে পারবে ৫ কিলোমিটার ওয়াকওয়েতে । পরবর্তীতে জেটি নির্মাণ করা হবে। পতেঙ্গা এলাকাটি দু’টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। জোন ওয়ান ও জোন টু। জোন ওয়ান হচ্ছে পঙ্গেতা বিচ। আর জোন টু হচ্ছে পাঁচ কিলোমিটার শেষে রিং রোড। সেখান থেকে আসা-যাওয়ার জন্য ক্যাবল কারের ব্যবস্থা থাকবে। পর্যায়ক্রমে ফাইভস্টার হোটেল, কনভেনশন হল, শপিং মলসহ থাকবে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ।