[bangla_date] || [english_date]

নিজস্ব প্রতিবেদক *

জয়া আহসান

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেকে তিনি নিয়ে গিয়েছেন অনন্য এক উচ্চতায়। অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তিনি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও হয়েছেন সফল। তাই তো গতকাল ১ জুলাই তার জন্মদিনে ভক্তদের পাশাপাশি তারকারাও জানিয়েছেন হৃদয় থেকে ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা। তবে জয়া এই দিনে ভক্তদের চমকে দিলেন। খবর দিলেন নতুন সিনেমার। একটি ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে তিনি জানান দিলেন নতুন কিছু নিয়ে আসছেন তিনি।

প্রকাশিত ভিডিওতে জয়াকে দেখা যায়, ঘোর অন্ধকারের মধ্যে আয়নার সামনে তিনি। তার চোখেমুখে বিষণ্নতা। দুই আঙুল দিয়ে আয়নায় কী যেন মুছছেন তিনি। ব্যাকগ্রাউন্ডে মিউজিক বাজছে। মাত্র ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওটি শেয়ার করে এই অভিনেত্রী ক্যাপশনে লিখেছেন, “চাঁদের কলঙ্ক কি পরিষ্কার হয়? জীবনের কলঙ্ক? সমাজের কলঙ্ক? উত্তর নিয়ে আসছে ‘ওসিডি’”।

জয়ার নতুন সিনেমার নাম ‘ওসিডি’। এটি পরিচালনা করছেন সৌকর্য ঘোষাল। এতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে গুণী এই অভিনেত্রীকে।

সিনেমাটি নিয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা হয় জয়ার। শুরুতেই তিনি বলেন, ‘জীবনের আরও একটি বসন্ত পার হলো। দর্শকদের ভালোবাসায় প্রতি বছরই দিনটি আমার জন্য স্পেশাল হয়ে থাকে। ব্যতিক্রম ছিল না এ বছরও। আমাকে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সহকর্মীরাও দিয়েছেন ভালোবাসা। সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। এভাবেই আমি সবার মাঝে বেঁচে থাকতে চাই। অর্জন করতে চাই কাজের মাধ্যমে সবার ভালোবাসা।’

এরপর ‘ওসিডি’ সিনেমার ফার্স্ট লুক প্রকাশ নিয়ে তিনি বলেন, “এরই মধ্যে আমার আসন্ন ‘ওসিডি’ সিনেমার ফার্স্ট লুক প্রকাশ পেয়েছে। অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার নিয়ে এর গল্প। এখানে অসাধারণ সব অভিনেতা কাজ করেছেন। গল্পটি খুবই দুর্দান্ত। আমি দর্শকদের জন্য এতটুকুই বলব, যারা অনেক ভালো কনটেন্ট দেখতে চান, অনেক স্ট্রং গল্প দেখতে চান, তাদের অবশ্যই এ সিনেমাটি দেখার অনুরোধ করব। এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে, শিগগির সিনেমাটির মুক্তির তারিখ ঘোষণা কর হবে। এ ছাড়া কাজটি আমার অত্যন্ত ভালো লাগার। তার জন্যই জীবনের বিশেষ এই দিনে দর্শকদের জন্য ‘ওসিডি’-এর ফার্স্ট লুক প্রকাশ করা হয়েছে। সিনেমার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমার হৃদয় থেকে ভালোবাসা।”

অভিনেত্রী জয়া আহসানের জন্ম ১৯৮৩ সালের ১ জুলাই গোপালগঞ্জ জেলায়। ক্যারিয়ারের শুরুতে ছোট পর্দায় সরব ছিলেন তিনি। নাটক ও বিজ্ঞাপনের মডেল হয়ে খুব অল্প সময়েই তিনি আলোচনায় চলে আসেন। হয়ে ওঠেন নির্মাতাদের পছন্দের একজন আর্টিস্ট।

ছোট পর্দার পর বড় পর্দায় জয়া আহসানের অভিষেক হয় মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ‘ব্যাচেলর’ সিনেমার মধ্য দিয়ে। এটি মুক্তি পায় ২০০৪ সালে। এরপর বড় পর্দায় একে একে অভিনয় করেন ‘ডুবসাঁতার’, ‘গেরিলা’, ‘ফিরে এসো বেহুলা’, ‘চোরাবালি’, ‘আবর্ত’, ‘পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রেম কাহিনী’, ‘জিরো ডিগ্রী’, ‘একটি বাঙালি ভূতের গপ্পো’, ‘রাজকাহিনী’, ‘ঈগলের চোখ’, ‘বিসর্জন’, ‘খাঁচা’, ‘পুত্র’, ‘দেবী’, ‘এক যে ছিলো রাজা’, ‘ক্রিসক্রস’, ‘বিজয়া’, ‘কণ্ঠ’, ‘অলাতচক্র’ ও ‘পেয়ারার সুবাস’-এর মতো সিনেমায়।

বর্তমানে দুই বাংলার সবচেয়ে প্রভাবশালী অভিনেত্রীর তালিকায় জয়া রয়েছেন সবার ওপরে। গল্পনির্ভর সিনেমায় তার বিকল্প নেই বললেই চলে।

অর্জনের দিক থেকেও তার পাল্লা বেশ ভারী। দেশ ও দেশের বাইরে এরই মধ্যে অর্জন করেছেন অসংখ্য পুরস্কার। তার মধ্যে জয়া এখন পর্যন্ত চারটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, চারটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ড ও ‘খয়র-ই-মান্দেগার’ স্মারকসহ অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেছেন।