১৫ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ২৯শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

উন্নয়ন সংস্থা ঘাসফুল কর্তৃক চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকায় পরিবহন সেক্টরে ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে নিয়োজিত শিশুদের উপর  গবেষণা প্রতিবেদনের মোড়ক উম্মোচন বুধবার(২২জুন)  বিকালে অনুষ্ঠিত হয়। ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম বিষয়ক গবেষণা প্রতিবেদনের মোড়ক উম্মোচন করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিন। বিভাগীয় শিশুশ্রম কল্যাণ  পরিষদ চট্টগ্রাম এর ১৪তম সভায় বিভাগীয় কমিশনার চট্টগ্রাম মো. আশরাফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে শুরু হয় ভার্চুয়াল সভা।সভার শুরুতে নিয়মিত কার্যবিবরণী উপস্থাপন করেন সদস্য সচিব কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর উপ-মহাপরিদর্শক আবদুল্লাহ আল সাকিব মুবারারত।

সভার  কার্যবিবরণী ও আলোচ্যবিষয় উপস্থাপন করেন কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর  পরিদর্শক বিশ্বজিৎ শর্মা। সমাজ বিজ্ঞানী ও গবেষক ড. মনজুর -উল-আমিন চৌধুরী ‘Children Working in the Hazardous Road Transport Sector in Chattogram City, Bangladesh – A Sociological Profile’ ডিজিটালি উপস্থাপন করেন। দৈবচয়ন পদ্ধতির মাধ্যমে চট্টগ্রামের ৩৫টি স্পট থেকে ৩৩৮জন ঝূঁকিপূর্ণ পরিবহন সেক্টরে যুক্ত শিশুর উপর জরিপ কাজ সম্পাদন করা হয়।  গবেষণা প্রতিবেদনে গবেষক ড.মনজুর-উল-আমিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম শহরে পরিবহন সেক্টরে বর্তমানে ১৫ হাজারেরও বেশী শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমের সাথে যুক্ত। হেলপার কাম অস্থায়ী ড্রাইভার হিসেবে কাজ করছে ৭১.৯০% শিশু। পরিবারের অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে ঝূঁকিপূর্ণ পরিবহন শ্রমে যুক্ত হয়েছে ৩৬.৬৯% শিশু। শারীরিক নির্যাতনের শিকার ৯১.৪২% শিশু। যৌন নির্যাতনের শিকার ১২.৭২% শিশু। পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত ২৪.৫০% শিশু। টিকটক তৈরি করে ৬.৮৩% শিশু। মাদকাসক্ত ১১.২৪% শিশু এবং এতে দেখা যায় কন্যা শিশু নয় ছেলে শিশুদের মধ্যেও ১৭.১৬% বাল্যবিবাহের শিকার। গবেষক তাঁর উপস্থাপনায় পরিববহন সেক্টরে যুক্ত শিশুদের উন্নয়ন ও সুরক্ষার জন্য যে সুপারিশমালা প্রস্তাব করেছেন তা হলো – জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে কলকারখানা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর, বিআরটিএ, ট্রাফিক বিভাগ ও পরিবহন মালিক শ্রমিক নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে শিশুশ্রম হ্রাস ও প্রতিরোধে কর্পোরেট হাউজ গুলো এগিয়ে আসলে চট্টগ্রামে শিশুশ্রম কমে আসবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষীপুর, ডিসি সিএমপি, উপমহাপুলিশ পরিদর্শক চট্টগ্রাম রেঞ্জ, পরিচালক সমাজসেবা অধিদপ্তর, পুলিশ সুপার শিল্পাঞ্চাল চট্টগ্রাম, পরিচালক বিভাগীয় শ্রম দপ্তর, উপপরিচালক বিআরএ, ঘাসফুলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আফতাবুর রহমান জাফরী, যুগান্তর সমাজ উন্নয়ন সংস্থা’র নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমীন পারভীন, ওয়ার্ল্ড ভিশন চট্টগ্রামের শ্যামল ফ্রান্সিস রোজারিও, ঘাসফুলের প্রকল্প ব্যবস্থাপক সিরাজুল ইসলামসহ বিভাগীয় শিশুশ্রম কল্যাণ পরিষদ চট্টগ্রাম’র প্রতিনিধিবৃন্দ।