৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ২১শে মে, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সম্মিলিত ফিজিওথেরাপি পরিষদ আয়োজিত জনস্বার্থে ফিজিওথেরাপি কলেজ ও  কাউন্সিল  বাস্তবায়ন দাবী  বিষয়ে আজ মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) সংবাদ সম্মেলন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় । কয়েক শতাধিক ফিজিওথেরাপি ছাত্র, শিক্ষ্‌ক, পেশাজীবী, ফিজিওথেরাপি সেবা গ্রহণকারী ও ফিজিওথেরাপির বিভিন্ন সংগঠন এর নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে পরিষদের আহবায়ক অধ্যাপক ডা. এম এন আলম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য পেশ করেন সংগঠন এর মুখপাত্র ডা. দলিলুর রহমান । মূল বক্তৃতায় তিনি স্বাস্থ্য সেবায় ফিজিওথেরাপি পেশার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বিভিন্ন কারণে দেশের প্রায় ২ কোটি প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীকে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে কর্মক্ষম করে স্বাভাবিক জীবন-যাপন করানো সম্ভব, প্রয়োজন শুধু গৃহীত ফিজিওথেরাপি কলেজ ও কাউন্সিল উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন । তিনি বলেন, দেশের ১০ শতাংশ মানুষ নানা ধরনের প্রতিবন্ধীতায় আক্রান্ত এবং আরও লাখলাখ মানুষ সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক ও মনুষ্য সৃষ্টিজনিত দুর্যোগ, ডায়াবেটিস, স্থুলতা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ,  স্ট্রোক প্রভৃতি অসুস্থতা, বয়স্ক জনগোষ্ঠীর আধিক্য ও বার্ধক্য, জলবায়ুর পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে রোগ বালাই (যেমন চিকুনগুনিয়া,  জিকা ভাইরাস জনিত ব্যথা-আরথ্রালজিয়া), শিশুদের জন্মগত শারীরিক ত্রুটির ব্যাপক ঊর্ধ্বগতি,  বিভিন্ন রকম বাত ব্যথা, প্যারালাইসিসজনিত কারণসহ জীবনযাত্রা ও মানের পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাস ও  কাজের ধরনের  পরিবর্তনসহ বিভিন্ন উপায়ে শারীরিকভাবে অক্ষম বা কম কর্মক্ষম বা শারীরিক প্রতিবন্ধীকতার শিকার হয়ে  পরিবার, সমাজ ও দেশের কাছে বোঝা হিসেবে  জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন । এর ফলে যেমন সর্বক্ষেত্রে বিশাল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে তেমনি দেশের মানুষের বড় একটি অংশ  অবর্ণনীয় শারীরিক ও মানসিক কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন । অথচ উন্নত বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশের এ বিশাল জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশকে ফিজিওথেরাপিস্টরা  তাদের সমস্যা বা কষ্ট লাঘব করে সুস্থ ও স্বাভাবিক/প্রায় স্বাভাবিক  কর্মক্ষম জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে – ফলে তারা বোঝার পরিবর্তে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করতে ভুমিকা রাখতে পারে ।

অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ ফিজিওথেরাপি পেশাজীবী তৈরি করার জন্য নেই কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান, ফিজিওথেরাপিস্টদের জন্য দেশে নেই কোন সরকারি চাকুরি বা কাউন্সিল । ফিজিওথেরাপি শিক্ষা ও পেশাকে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কোনো কাউন্সিল না থাকায় দিন দিন ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ও পেশার কোনো নিয়ন্ত্রণ না থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার রোগীরা কোয়াকদের হাতে অপচিকিৎসার শিকার হয়ে আর্থিক, শারীরিক, মানসিক ক্ষতিগ্রস্তসহ তাদের জীবনও হুমকির সন্মুখিন হচ্ছে প্রতিনিয়ত ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আইন না থাকার ফলে যেমন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মত শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ ইচ্ছামতো ফিজিওথেরাপি কোর্স পরিচালনা করছে আরেক দিকে সারা দেশে যে কেউ ফিজিওথেরাপিস্ট সেজে চিকিৎসা প্রদান করছে । এমনকি সরকারি হাসপাতাল সমুহে ফিজিওথেরাপির নামে চলতে থাকলো “হিটথেরাপি” । আমাদের অবিরাম দাবির প্রেক্ষিতে  সরকার প্রথমে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে ফিজিওথেরাপি কাউন্সিল গঠনের জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা চিকিৎসকদের একটি অংশের বাঁধার কারণে আর অগ্রসর হতে পারে নি । পরবর্তীতে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় রিহেব কাউন্সিল নামক আইন তৈরি করার নতুন উদ্যোগ নেয়া হলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, ফিজিওথেরাপি পেশার জন্য একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়তে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে মহাখালীতে ফিজিওথেরাপি কলেজের জন্য সরকার সোয়া পাঁচ একর জমি বরাদ্দ দেয়। কলেজ ভবন নির্মাণের দাবিতে ছাত্র ছাত্ত্রীরা কয়েক বছরে রাজধানীতে চার দফায় ২৪ দিন আমরণ অনশনসহ অবস্থান ধর্মঘট, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করার পর ২০০৯ সালে ওই জায়গায় কলেজ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রুহুল হক এবং অতপর বস্তি উচ্ছেদ করা হয় এবং দরপত্র আহাবনের মাধ্যমে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে কাজ করার অনুমতি প্রদান করা হয়। কিন্তু কলেজ ভবনের কাজ গত ৭ বছরে আর শুরু হয় নি। তাই আবারো বস্তি হয় । ইতিপূর্বে  বস্তিবাসীর পক্ষে রিটের নিষ্পত্তি করে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অবৈধ দখলদারদের দুই মাসের সময় দিয়ে ফিজিওথেরাপি কলেজের জন্য জমি ছেড়ে দেওয়ার আদেশ ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ  জারি করলেও এখনও পর্যন্ত কোনো উদ্যোগই নেয়নি। এমনকি মহামান্য রাষ্ট্রপতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ফিজিওথেরাপি কলেজ বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দিলেও কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছেনা ।

আমাদের প্রধান দাবী সরকার কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগ জনস্বার্থে ফিজিওথেরাপি কাউন্সিল ও  বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি  এর দ্রুত বাস্তবায়ন চাই । জনস্বার্থে আমাদের এ যৌক্তিক দাবিসমূহ বাস্তবায়নের জন্য সম্মিলিত ফিজিওথেরাপি পরিষদ এর ব্যানারে আমরা হাজার হাজার ফিজিওথেরাপি পেশাজীবী, শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্ত্রী ও ফিজিওথেরাপি সেবা গ্রহণকারী জনসাধারণদেরকে সাথে নিয়ে আগামী ২২ জুলাই ২০১৮ সাল থেকে মানব বন্ধন, ঘেরাও, অবস্থান ধর্মঘট এর মত রাজপথের কর্মসূচী পালনে বাধ্য হচ্ছি ।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডা. এম এন আলম, ডা. নজরুল ইসলাম, ডা. ফরিদ উদ্দিন, ডা. খাইরুল ইসলাম, ডা. আরিফ জুবায়ের, ডাঃ মাকসুদুল আলম, ডা. মহসিন কবির লিমন, ডা. মাশুক রায়হান, ডা. জাকারিয়া ফারুখ, ডা. সাইফুল ইসলাম, জাকারিয়া তমালসহ আরওঅনেকে ।