২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর চট্টগ্রামের ১১ আসনের ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীরা সোমবার (১০ডিসেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সংবাদ সম্মেলন নেতৃবৃন্দ ধরপাকড় না করে আইন মেনে সবার প্রতি সমান আচরণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এতে অভিযোগ করা হয়, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া বিএনপির প্রার্থীদের দেশের বাইরে চলে যেতে হুমকি দেয়া হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ২০ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনের বিএনপির প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনের সরওয়ার জামাল নিজাম, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী ও চান্দগাঁও) আসনে বিএনপির প্রার্থী আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের এনামুল হক এনাম, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও বায়েজিদ) আসনের ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ কল্যাণপার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বীরপ্রতীক, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের বিএনপি প্রার্থী কর্নেল (অব.) আজিম উল্লাহ বাহার, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ২০ দলীয় জোটে এলডিপির প্রার্থী নুরুল আলম ও চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনের বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী ও বাকলিয়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রধান সমন্বয়কারী এডভোকেট বদরুল আনোয়ার, বিএনপি নেতা এম নাজিম উদ্দিন, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের সমন্বয়ক এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম দাবি করেন, দেশে এখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তা স্বাধীন বাংলাদেশে ছিল না। পাকিস্তান আমলেও ছিল না। এটার সঙ্গে তুলনা হয় হিটলারের জার্মানির। তিনি বলেন, ‘কর্মকর্তাদের কাছে ফোন করলে তাঁরা ধরছেন না। প্রার্থী হিসেবে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফোন করতেই পারি। কিন্তু তাঁরা ভয়ের মধ্যে আছেন। আমরা তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে পারছি না। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা আমাদের ফোন ধরছেন না। বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় ২০-দলীয় ঐক্যজোটের নেতা-কর্মীদের হয়রানিমূলক গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। মামলা দেয়া হচ্ছে।’

অলি আহমেদ বলেন, সবার উচিত ন্যায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা। দেশকে ধ্বংস এবং অরাজকতার দিকে ঠেলে দেয়া নয়। শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়া কোনো অবস্থায় কাম্য নয়। জনগণ সচেতন এবং সর্বত্র টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সরকারি কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানিয়ে অলি আহমেদ বলেন, ‘২০-দলীয় জোট বা ঐক্যফ্রন্ট কারও বিরুদ্ধে নয়। আমরা প্রতিশোধমূলক বা প্রতিহিংসামূলক কাজে বিশ্বাসী নই। আমরা চাই জনগণ যেন নিরাপদে ভোট দিতে পারে।’

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে অলি আহমেদ বলেন, ‘আপনি বঙ্গবন্ধু কন্যা। সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়া আপনার দায়িত্ব। কেউ চিরদিন বেঁচে থাকবেন না। একদিন সবাইকে বিদায় নিতে হবে। সেই বিদায় যেন সম্মানজনক হয়।’

অলি আহমদ বলেন, প্রতিহিংসামূলক রাজনীতিতে আমরা বিশ্বাস করি না। আমরা চাই জনগণ যেন নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু এখনও বিভিন্নস্থানে মিথ্যা মামলা দিয়ে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অব্যাহত আছে।

তিনি বলেন, ‘হাতের কাছে যাকে পায়, তাকেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। জামিন নেয়ার যখন সময় হয় তখন তাকে আরেকটি মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে। যারা এ কাজ করছেন তাদের বলতে চাই, আপনারা কি সৃষ্টিকর্তাকে ভয় করেন না? আপনারা কি মনে করেন না, অন্যায় কাজে লিপ্ত থাকলে শাস্তি পাবেন। পূর্ববর্তী যারা অন্যায় কাজ করেছেন তাদের সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের অপমৃত্যু হয়েছে। অনেকেই কারাবরণ করেছে। এটি আল্লাহর স্বাভাবিক শাস্তি।’

তিনি বলেন, এখন মনে হচ্ছে আমরা নিজের দেশে পরাধীন। আমাদের কোনো বক্তব্য নেই, ন্যায় বিচার নেই। প্রথমে যখন জামিন নিয়ে জজকোর্টে যাচ্ছে তখন কোর্ট বিচারের জন্য সময় দিচ্ছে না।

বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা সরকারের কথায় কাজ করবেন না। আপনারা জনগণের বন্ধু।

সরকারের উদ্দেশে অলি আহমেদ বলেন, জনগণ যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারে সে ব্যবস্থা করেন। ঘরে ঘরে ঢুকে ভয় দেখাবেন না। দেশ ক্রমশ রক্তপাতের দিকে যাচ্ছে। যদি রক্তপাত হয়, এ জন্য দায়ী সরকার।’

সরকার অশান্তি চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সুষ্ঠু নির্বাচন, চাই শান্তি। কিন্তু সরকার চায় অশান্তি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, আপনি সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেন।’

সংবাদ সম্মেলনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আমরা ঐক্যফ্রন্ট থেকে যে ৭ দফা দাবি করেছি তার একটিও পূরণ হয়নি। নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে এখনও পর্যন্ত সন্ধিহান। এরপরও আমরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি, যাতে দেশে গণতন্ত্র ফিরে আসে। প্রতিটি এলাকায় এখনও পর্যন্ত পুলিশের অভিযান চলছে। গ্রেফতার করা হচ্ছে বহু নেতাকর্মীকে। এর মানে সরকার চাইছে জনগণকে বাইরে রেখে আরও একটি নীলনকশার নির্বাচন। সরকারদলীয় প্রার্থীরা দুই মাস আগে থেকে প্রচারণা চালিয়ে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করছে। কিন্তু আমরা আইনের প্রতি সম্মান রেখে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে বিরত থেকেছি। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবো, তাদের সহযোগিতা করবো। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কখনো শ্রদ্ধাশীল হবো না।’ তিনি বলেন, আমরা কাল থেকে গণসংযোগ করবো, ক্যাম্পেইন করবো- এতে যেন কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন না হই। কাল থেকে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কার্যক্রম জনগণ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে। তারা সাংবিধানিক ভূমিকাটুকু পালন করছে কি-না।

সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, জনগণ এখন ভোট দিতে বদ্ধ পরিকর। তারা বলছে, এবারে কোনো শক্তি তাদের থামাতে পারবে না। সরকার জনগণের ভয়ে এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। বিএনপি প্রার্থীদের ঘরে ঘরে গিয়ে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। শঙ্কা ও আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা পিছপা হবো না। বুলেটের চেয়ে শক্তিশালী ব্যালট। জনগণ নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে সরকারের সকল অপকর্মের জবাব দেবে।

আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন, মিডিয়া (গণমাধ্যম) আগের মতো দায়িত্ব পালন করতে পারছে না। ১০০ ভাগ না পারুক, ৮০ ভাগ প্রকাশ পেলে সত্য প্রতিষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন গ্রেপ্তার হচ্ছে, অভিযান চলছে। কিন্তু কী কারণে এসব হচ্ছে, তা যেন মিডিয়ায় আসে। দলীয় নেতা-কর্মীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে নোমান বলেন, ‘আর পিছু হটার সময় নেই। মামলা-হামলা তো হচ্ছে। কিন্তু আমাদের ভয় নেই। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে আমরা এগিয়ে যাব। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেব।’