২৬শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ১০ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী) চট্টগ্রাম জেলা কমিটির আহবায়ক ও সদস্যসচিব যথাক্রমে কমরেড মানস নন্দী ও শফি উদ্দিন কবির আবিদ আজ  সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক  বিবৃতিতে চট্টগ্রাম ওয়াসার  পানির দাম বৃদ্ধির গণবিরোধী সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন।

নেতৃবৃন্দ বলেন,‘‘চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষ একবছরের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আগামী সেপ্টেম্বর থেকে পানির দাম আবাসিকে ১৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮ টাকা ও বাণিজ্যিকে ৩১ টাকা ৮২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩৭ টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।অর্থাৎ এক লাফে পানির দাম আবাসিকে ৩৮ শতাংশ ও বাণিজ্যিকে ১৬ শতাংশ বাড়ানো হলো।এর পূর্বেও এবছরের জানুয়ারিতে আরেক দফা পানির দাম বাড়ানো হয়েছিল।আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ১৩ বছরে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানির দাম বাড়ানো হয়েছে ১২ বার। এমন সময়ে পানির দাম বাড়ানো হচ্ছে,যখন সাধারণ মানুষ  নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধিতে এবং চরম অর্থনৈতিক সংকটে বিপর্যস্ত।এর ফলে মানুষের আয় কমে গেছে,সঞ্চয় নিঃশেষিত,ঋণ বাড়ছে।এ অবস্থায় পানির মূল্যবৃদ্ধিতে বাড়িভাড়া বাড়বে,হোটেল-রেঁস্তোরায় খাবার খরচসহ পণ্য উৎপাদনে খরচ আরেকদফা বাড়বে।ফলে ওয়াসার এ সিদ্ধান্ত ‘ক্ষুধার্ত মানুষের পেটে লাথি দেওয়ার’ সামিল।পানির উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও ওয়াসার ঋণ পরিশোধের খোঁড়া অজুহাতে ওয়াসা দাম বাড়াচ্ছে।অথচ ওয়াসার ৩০ শতাংশ সিস্টেম লসের নামে পানি চুরি বন্ধের কোনো উদ্যোগ নেই।সরকারি প্রতিষ্ঠান,বেসরকারি শিল্পকারখানা,প্রভাবশালীদের কাছে ওয়াসার প্রায় ১২৫ কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে,যার মধ্যে শুধু সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে বকেয়া আছে ৩০-৪০ কোটি টাকা।ফলে সিস্টেম লস,পানি চুরি,দূর্নীতি,অপচয় কমানো এবং বকেয়া টাকা উদ্ধারে উদ্যোগ নিলে পানির দাম বৃদ্ধির প্রয়োজন হতোনা।আর ‘ঋণের টাকায় ঘি খেয়ে’ তার দায় কেন গ্রাহকদের উপর চাপানো হবে?আমরা দেখেছি,ওয়াসার এমডি একেএম ফয়জুল্লাহর মূল বেতন ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।এরপরও তিনি  তার বেতন বাড়িয়ে সাড়ে চার লাখ টাকা করতে চান,তা পত্রপত্রিকায় এসেছে।এছাড়া ওয়াসা একটি সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান,বাণিজ্যিক দৃষ্টিভঙ্গীতে এটি পরিচালিত হতে পারেনা।গ্রাহকদের মতামত না নিয়ে,ওয়াসা কর্তৃক পানির দাম বৃদ্ধির মতো সিদ্ধান্ত নেয়া,অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক।’’

নেতৃবৃন্দ সর্বস্তরের নগরবাসীকে পানির দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আন্দোলনে সামিল হওয়ার আহবান জানান।