[bangla_date] || [english_date]

চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী-ডবলমুরিং) আসনে চট্টগ্রাম-১০ (পাহাড়তলী, ডবলমুরিং) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চু। তিনি কয়েকমাস আগে অনুষ্ঠিত হওয়া উপ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তিনি ছাড়াও ১৯ জন আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছেন। শীর্ষ নেতাদের মনোনয়ন না দিলে এবারও তার কপাল খুলতে পারে বলে ধারণা ছিল সবার। যদিও উপ-নির্বাচনের এমপি হিসেবেও বল অনেকটা তার কোর্টেই ছিল। তাই হয়েছে, আসনটিতে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য মহিউদ্দিন বাচ্চু। নগর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ছিলেন তিনি।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পেয়েও হাত ফসকে যায় নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজনের। মনোনয়ন বাগিয়ে নেন চট্টগ্রাম চেম্বারের তৎকালীন সভাপতি এম এ লতিফ। জীবনের শেষ সময়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আরেকবার সুযোগ চেয়েছিলেন এক সময়ের ছাত্রনেতা সুজন। তবে এবারও হতাশ হতে হয়েছে তাকে। মনোনয়ন পেয়েছেন তিন বারের সাংসদ এম এ লতিফ।

ব্যবসায়ী নেতা লতিফ ২০০৮ সালের নির্বাচনের মধ্যদিয়ে প্রথম আওয়ামী লীগে সক্রিয় হন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য।
চট্টগ্রাম বন্দর, চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা (সিইপিজেড) ও কর্ণফুলী ইপিজেডের এই আসনে মনোনয়ন চেয়েছিলেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ.জ.ম নাছির উদ্দীনসহ অনেকেই। গুরুত্বপূর্ণ এই আসন থেকে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন অন্তত দুই ডজন মনোনয়ন প্রত্যাশী।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া} ঃ গেল আগস্টে গণভবন থেকে পূর্ণ সভাপতির মর্যাদা নিয়ে চট্টগ্রাম ফিরেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা মোতাহেরুল ইসলাম। এবার আরেক অর্জন তাঁর। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন তিনি।
দুইবারের সংসদ সদস্য হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন চৌধুরী ও কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা বদিউল আলম। মনোনয়ন প্রত্যাশার সারিতে ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি চেমন আরা তৈয়বসহ আওয়ামী লীগের অনেকে।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা} ঃ ‘দলিল যার, ভূমি তার’ — নতুন ভূমি আইনের জন্য দেশজুড়ে প্রশংসিত ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। নিজ নির্বাচনী এলাকা আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে তার জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। আওয়ামী লীগও তার ওপর আস্থা রেখেছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তাকে মনোনীত করেছে। ২০১৩ সালে বাবা আখতারুজ্জামান চৌধুরীর মৃত্যুর পর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ নির্বাচনে ফের বিজয়ী হয়ে ভূমিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। তাঁর মনোনয়ন অনেকটা নিশ্চিত হলেও এ আসনে টিকিট কেটেছিলেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শাহজাদা মহিউদ্দিনসহ আরও একজন। তবে এই আসনে হেভিওয়েট প্রার্থী ছিলেন আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ওয়াসেকা আয়েশা খান।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে নজর পড়েছিল ডজনের বেশি মনোনয়ন প্রত্যাশীর। তালিকায় দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি মফিজুর রহমান থেকে শুরু করে সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আফসার উদ্দিনের ছেলে ব্যারিস্টার ইমতিয়াজ উদ্দিন আহমদ আসিফ, মোহাম্মদ আবদুল কৈয়ম চৌধুরী এম মাসুদ আলম চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম, মোহা. কায়কোবাদ ওসমানী, মোহাম্মদ আবদুল কৈয়ম চৌধুরী, মোহাম্মদ আবদুল জব্বার চৌধুরী, জাহিদুল ইসলাম, মীর মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, আবুল বশর ভূঁইয়া, মাহবুবুর রহমান, মামুন উল হক চৌধুরী, শাহিদা আক্তার জাহান ও আবু আহমেদ চৌধুরীর। সবাইকে পাশ কাটিয়ে মনোনয়ন পেয়ে গেলেন বর্তমান সংসদ সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগড়া) আসনের প্রতিনিধি হয়ে সংসদে বসতে সম্প্রতি উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ ছেড়েছেন সাতকানিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মোতালেব সিআইপি। পদত্যাগ পত্রে ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করলেও মূলত প্রার্থী হতেই পদ ছাড়েন তিনি। বর্তমান সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীকে ঠেকিয়ে মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় তাকে টেকাতে একাট্টা হয়েছিলেন অনেকেই। মনোনয়ন ফরম তোলা প্রভাবশালী এক স্থানীয় নেতাও ভিড়েছিলেন তার দলে। তবে শেষ পর্যন্ত সব অভিযোগের পাহাড় চাপা দিয়ে মনোনয়ন পেলেন প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী। হেভিওয়েট মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতা আমিনুল ইসলাম আমিন তালিকায় থাকলেও রাজনৈতিক দ্বদ্বের কারণে প্রকাশ্য প্রতিযোগিতা চলেছে মোতালেব-নদভীর মধ্যে। তারা ছাড়াও এই আসনে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মঈনুদ্দিন হাছান চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, কেন্দ্রীয় স্বাচিপ নেতা ডা. আ ম ম মিনহাজুর রহমান, সৈয়দ মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন,সাজেদা সুরাত, মঈনুল ইসলাম মামুন, কামরুন নাহার, মোহাম্মদ আমান উল্লাহ জাহাঙ্গীর,এরশাদুল হক, জসীম উদ্দিন চৌধুরী, আমিনুল ইসলাম, আবু সফিয়ান, অহিদ সিরাজ চৌধুরী ও দেলোয়ার হোসেন।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে ঠেকিয়ে দলের টিকিট কেটেছিলেন হেভিওয়েট অনেকে। আঁটসাটভাবে মাঠে নেমেছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক মুজিবুর রহমান সিআইপি। টিকিটের আশায় শেষমুর্হুতে উপজেলা চেয়ারম্যানের চেয়ার ছেড়েছেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের আমৃত্যু সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম অ্যাডভোকেট সোলতানুল কবির চৌধুরীর উত্তরসুরি দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব সাদলী। শুধু তারা নন, এমন হ্যাভিওয়েট আরও ১৭ জন টিকিট কেটেছিলেন নৌকা পেতে। মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী শেষমেশ আবার নৌকার মাঝি হলেন ।