২৫শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ || ৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শেষ হয়েছে গত ২২ ডিসেম্বর  । এরপর বেশকিছু দিন ছুটি কাটিয়েছে টাইগার ক্রিকেটাররা। ১ জানুয়ারি থেকে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে ক্রিকেট পাড়ায়। মাঠের ছেলেরা মাঠে ফিরে এসেছে। অনুশীলনে মেতেছে সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, তাসকিন আহমেদরা।  বুধবার (২জানুয়ারি) অনুশীলন করেছেন ওয়ানডে অধিনায়ক ও সদ্য সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া মাশরাফি বিন মুর্তজা।

আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ষষ্ঠ আসর। ৭টি দলের অংশগ্রহণে এবারের আসরে দেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেশের মাঠ মাতাবেন বেশকিছু বিদেশি তারকা। ক্রিস গেইল, শহিদ আফ্রিদি, স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার, এবি ডি ভিলিয়ার্সের মতো ক্রিকেটের বাঘা-বাঘা তারকার উপস্থিতি আসরের জৌলুস বাড়াবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

জৌলুস কম ছিল না বিগত ৫ আসরেও। ২০১২ সাল থেকে শুরু হওয়া এ টুর্নামেন্টের প্রতিটি আসরেই ছিল কম-বেশি নাটকীয়তা।

প্রথম আসরেই সেমিফাইনাল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বাইলেজ পরিবর্তন করে রাজশাহীর পরিবর্তে সেমিফাইনালে জায়গা হয় বরিশালের। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে ঢাকার বিপক্ষে খেলেছিল বরিশাল। প্রথম আসরেরই বরিশালকে ৮ উইকেটে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট পড়ে ঢাকা।

২০১৩ সালে বিপিএলের আসরের মধ্য দিয়ে রচিত হয় বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে কলঙ্কিত অধ্যায়। ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রথম সুপারস্টার মোহাম্মদ আশরাফুলসহ বেশকিছু দেশি-বিদেশি ক্রিকেটার। সেই আসরের টানা দ্বিতীয়বারের মতো মাশরাফির নেতৃত্বে শিরোপা ঘরে তোলে ঢাকা। সেবার তারা ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে চট্টগ্রামকে হারায় ৪৩ রানে।

ফিক্সিং ইস্যুতে স্থগিত হয়ে যায় ২০১৪ সালের আসর।

তবে নতুন উদ্যমে ২০১৫ তে শুরু হয় বিপিএলের তৃতীয় আসর। এবার নিজেদের প্রথম আসরেই বাজিমাৎ করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। এবারও জয়ী দলের অধিনায়কের নাম মাশরাফি। নাফিসা কামালের দলটি প্রতিদ্বন্দিতাপূর্ণ ফাইনালে হারায় বরিশালকে। তিন উইকেটের জয় পায় কুমিল্লা।

চতুর্থ আসর অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ তে। সেই আসরে শিরোপা পুনরুদ্ধার করে ঢাকা। এবার সাকিব আল হাসানের অধিনায়কত্বে মুকুট ফিরে পায় রাজধানীর দলটি। ফাইনালে তারা রাজশাহীকে হারায় ৫৬ রানে।

পঞ্চম ও সবশেষ আসরে ফ্রাঞ্চাইজি বদলে নতুন রূপে ফিরেই শিরোপা ঘরে তুলে নেয় রংপুর রাইডার্স। ক্রিস গেইলের অতিমানবীয় শতকে একমাত্র অধিনায়ক হিসেবে চতুর্থবার শিরোপা ছুঁয়ে দেখেন মাশরাফি।

এবার একনজরে দেখে নেই বিগত পাঁচ আসরের ফাইনালের স্কোর:

প্রথম আসর (২০১২)

বরিশাল বার্নাস-  ১৪০/৭ (ব্রাড হজ- ৭০, শহিদ আফ্রিদি- ৪/২৩)

ঢাকা গ্লাডিয়েটরস- ১৪৪/২ (ইমরান নাজির ৭৫, আলাউদ্দিন বাবু- ১/৯)

ফলঃ ঢাকা গ্লাডিয়েটরস ৮ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: ইমরান নাজির

সিরিজ সেরা: সাকিব আল হাসান।

দ্বিতীয় আসর (২০১৩)

ঢাকা গ্লাডিয়েটরস- ১৭২/৯ (এনামুল হক বিজয়- ৫৮, রুবেল- ৪/৪৪)

চিটাগং কিংস-   ১২৯/১০ (মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ- ৪৪, আলফোনসো থমাস- ৩/১৯)

ফলঃ ঢাকা গ্লাডিয়েটরস ৪৩ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরা: মোশারফ রুবেল

সিরিজ সেরা: সাকিব আল হাসান।

তৃতীয় আসর (২০১৫)

বরিশাল বুলস- ১৫৬/৪ (মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ- ৪৮, ড্যারেন স্টিভেনস- ১/১৯)

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস- ১৫৭/৭ (অলোক কাপালি- ৩৯, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ- ২/২৩)

ফলঃ কুমিল্লা ভিক্টোরিইয়ানস তিন উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরা: অলোক কাপালি।

সিরিজ সেরা: আশহার জাইদি।

চতুর্থ আসর (২০১৬)

ঢাকা ডাইনামাইটস- ১৫৯/৯, (এভিন লুইস- ৪৫, ফরহাদ রেজা- ৩/২৮)

রাজশাহী কিংস-  ১০৩/১০ ( মুমিনুল হক- ২৭, আবু জায়েদ- ২/১২)

ফলঃ ঢাকা ডাইনামাইটস ৫৬ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরাঃ কুমার সাঙ্গাকারা।

সিরিজ সেরাঃ মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ।

পঞ্চম আসর (২০১৭)

রংপুর রাইডার্স- ২০৬/১ ( ক্রিস গেইল- ১৪৬, সাকিব আল হাসান- ১/২৬)

ঢাকা ডাইনামাইটস- ১৪৯/৯ (জহিরুল হক- ৫০, নাজমুল ইসলাম- ২/৮)

ফলঃ রংপুর রাইডার্স ৫৭ রানে জয়ী

ম্যাচ সেরাঃ ক্রিস গেইল

সিরিজ সেরাঃ ক্রিস গেইল।