১০ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ২৪শে জানুয়ারি, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত হোসেন হাক্বানী বলেছেন, একাত্তরের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের ক্ষমা চাওয়া উচিত। পাকিস্তানের অনেকে মনে করেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের ওপর বিয়োগান্তক যে ঘটনা চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল তার জন্য পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা চাওয়া উচিত।

রবিবার (৫ ডিসেম্বর) ঢাকায় দু’দিনের বিশ্ব শান্তি সম্মেলনের সমাপনী দিন প্যানেল আলোচনায় দেয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান হাডসন সেন্টারের পরিচালক হোসেন হাক্বানী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অপকর্মের জন্য পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক ক্ষমা প্রার্থনার দাবিকে সমর্থন করতেন।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও বঙ্গবন্ধু সমার্থক উল্লেখ করে হোসেন হাক্কানি বলেন, মহাত্মা গান্ধী ও নেলসন ম্যান্ডেলার মতো তিনিও জীবনের এক–পঞ্চমাংশ কাটিয়েছেন কারাগারে। তাকে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বলা হয়। আমি মনে করি, তিনি দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতা।

গত ৫০ বছরে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্জন অন্য দেশগুলোর জন্য মডেল। ভারত ও পাকিস্তানের তুলনায় আর্থসামাজিক নানা সূচকে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

‘পিস থ্রো ইন্টার-ফেইথ ডায়ালগ, কালচার অ্যান্ড হেরিটেজ’ শিরোনামের প্যানেল আলোচনায় আরও অংশ নেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক মন্ত্রী হন ফিলিপ রুডক, সংযুক্ত আরব আমিরাতের গ্লোবাল কাউন্সিল ফর টলারেন্স অ্যান্ড পিসের প্রেসিডেন্ট আহমেদ মোহামেদ রশিদ আলজারওয়ান আলশামসি, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনার সোহা ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. কারেন জুংব্লুট, এথেন্সের ন্যাশনাল অ্যান্ড কাপোডিস্ট্রিয়ান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’র গ্রিস ভাষায় অনুবাদক দিমিত্রিওস ভাসিলিয়াডিস এবং পোল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারশর অধ্যাপক মিশাল পানাসিউক। সভা সঞ্চালনা করেন জেনেভায় ইউএন ইউনিভার্সিটি ফর পিস টু দ্য ইউএন অফিস অ্যান্ড আদার ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশনের স্থায়ী পর্যবেক্ষক ডেভিড ফার্নান্দেজ পুয়ানা।

‘পিস অ্যান্ড ইমার্জিং গ্লোবাল ট্রেন্ডস’ শিরোনামে দিনের দ্বিতীয় প্যানেল আলোচনা সঞ্চালনা করেন ইউনিভার্সিটি অব কলম্বোর উপাচার্য অধ্যাপক চন্দ্রিকা এন উজারটিন। আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের জেনোসাইড ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা এবং জর্জ ম্যাশন ইউনিভার্সিটির জেনোসাইড স্টাডিজের গবেষক অধ্যাপক গ্রেগরি স্ট্যানটন, মালয়েশিয়ার মালয়া ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রাজাহ রাইসা, কোস্টারিকার ইউনিভার্সিটি ফর পিসের রেক্টর ফ্রান্সিস্কো রোজা অ্যারাভিনা, ইন্দোনেশিয়ার সোসাইটি এগেইনস্ট র‌্যাডিকালিজম অ্যান্ড ভায়োলেন্ট এপট্রিমিজমের প্রতিষ্ঠাতা সিতি দারোজাতুল আলিয়া এবং চীনের তিসুংগুয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর সাউথ এশিয়া বিভাগের পরিচালক ড. লি লি।