২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ৮ই ডিসেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

পণ্যবাহী পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর পুনরায় সচল হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। তিনদিন ধরে বন্দরে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও সোমবার রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের সঙ্গে পণ্যবাহী পরিবহন মালিকদের বৈঠক ফলপ্রসূ হওয়ায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হলে রাত ১০টা থেকে বন্দরে পণ্য পরিবহন শুরু হয়।

এর আগে ধর্মঘটের কারণে বন্দরের অভ্যন্তরে জাহাজ থেকে পণ্য উঠা-নামা স্বাভাবিক থাকলেও বাইরে থেকে ভেতরে কিংবা ভেতর থেকে বাইরে পণ্য বের হতে পারেনি। ফলে বন্দরে কনটেইনার জট লাগতে শুরু করে। এখন ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর বন্দর থেকে পণ্য আনা-নেয়া পুরোদমে শুরু হয়। পণ্য পরিবহন করছে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, প্রাইম মোভার, লরিসহ পণ্যবাহী গাড়ি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘সোমবার রাতে পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ার পরপরই বন্দর থেকে পণ্য পরিবহন শুরু হয়। মঙ্গলবার থেকে পুরোদমে পণ্য পরিবহন কার্যক্রম শুরু হয়। তবে পণ্যবাহী পরিবহন বন্ধ থাকার কারণে বন্দরে বেশকিছু সমস্যা তৈরি হয়। জাহাজে ঠিকমতো রপ্তানি পণ্যবোঝাই করা যায়নি। তবে ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাহাজ যাতে ছেড়ে যেতে পারে সেজন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

চট্টগ্রাম বন্দরে দিনে কমবেশি সাড়ে চার হাজার ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-প্রাইম মোভার যাতায়াত করে থাকে। ফলে দিনে প্রায় সমপরিমাণ কনটেইনার খালাস হয়। কিন্তু পরিবহন ধর্মঘটের কারণে রপ্তানি পণ্য জাহাজে পাঠানো সম্ভব হয়নি। এতে ডিপোতে আটকে থাকে বিপুল সংখ্যক বেশি কনটেইনার।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরের ইয়ার্ডে ৪৯ হাজার ১৮ টিইইউএস কনটেইনার রাখার জায়গা আছে। মঙ্গলবার সকালে পর্যন্ত সেখানে কনটেইনার ছিল ৩৯ হাজার টিইইউএস।  সোমবার দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে ১৪টি এবং বহির্নোঙরে ৬৫টি জাহাজ পণ্য নিয়ে অবস্থান করছিল। ধর্মঘটের কারণে জেটি থেকে দু’টি জাহাজ দুপুরে রপ্তানি পণ্যের কনটেইনার না নিয়েই বন্দর ছেড়ে যায়।

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব রুহুল আমিন বিপ্লব জানিয়েছেন, বিভিন্ন ডিপোতে সাধারণত ৭ থেকে ৮ হাজার রপ্তানি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য অপেক্ষায় থাকে। ধমর্ঘটের কারণে ১০ হাজার ৭০০ কনটেইনার আটকে গিয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে ধর্মঘট প্রত্যাহারের পর ডিপো থেকে দ্রুত কনটেইনার খালাসের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

আর পড়ুন:   চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজন আলাদা বন্দর-মন্ত্রণালয়

উল্লেখ্য, জ্বালানি তেলের মূল্যবদ্ধির প্রতিবাদ ও ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে ডাকা ধর্মঘটের কারণে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে গণপরিবহনের পাশাপাশি পণ্যবাহী গাড়ি চলাচলও বন্ধ ছিল।