১লা কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ || ১৭ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কোন আশায় এবং কোন স্বপ্ন নিয়ে বিএনপিকে ভোট দিবে জনগণ? তাদের আমলে বিএনপি-জামায়াত জোট দেশে যে নৈরাজ্য ও অস্থিরতা তৈরি করেছিলো তা মানুষ এখনো ভুলেনি। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বার বার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। পরাজয় জেনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন দেশবাসীর উদ্দেশ্য। আজ সোমবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যোগ দেন। আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সম্মেলনে যোগ দেন সাংবাদিকরা।

প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান চেয়েছেন বলে জানান। তিনি বলেন এই বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনা করেছি। যা রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখবে বলে আমি আশা রাখি।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা মহামারি শুরু হওয়ার প্রায় দুই বছর পর এবারই প্রথম আমি দেশের বাইরে সশরীরে কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদান করি। নিউইয়র্কে অবস্থানকালে আমার অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনের মূল সভা ও সাইড ইভেন্ট মিলিয়ে আমি সর্বোমোট ১০টি সভা এবং ৮টি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিয়েছি। ৭৬তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্ক পর্বের উদ্বোধনী দিনেও আমি যোগদান করি।

দুই ঘণ্টারও বেশি সময় সংবাদসম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের জাতীয় আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন অত্যন্ত বিচক্ষণতা , দক্ষতা এবং সাবলীল ভাষায়।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সরকার প্রধান  বলেন, ‘আমার কাছে ক্ষমতা ভোগের বস্তু না। আকাঙ্ক্ষা থাকলে আমার বাবা যেমন অনেক আগেই এমপি-মন্ত্রী  হতে পারতেন, আমিও পারতাম। কিন্তু সেটা তো আমি করিনি।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ প্রধান বলেন, ‘সবশেষ যে নির্বাচন হয়েছে তাতে ভোটাররা ছিলো সতস্ফূর্ত। অনেক চেষ্টা হয়েছে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে। এরপরেও নির্বাচন হয়েছে।’

ভোটের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল ছিল বলেই উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের শেষ নির্বাচন প্রসঙ্গও তোলে বলেন, ‘২০০৮ সালের নির্বাচন নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না। তাহলে সেটাতে বিএনটি কেন ভোট পায়নি। এটা তাদের জিজ্ঞেস করেন।’

আর পড়ুন:   সরকারি হাসপাতাল থেকে গণমাধ্যমে তথ্য প্রদানে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি টিআইবির

তিনি বলেন, ‘এত সুবিধা পেয়ে গালিটাও আওয়ামী লীগের উপরে। তা তো হবেই?’

সরকারে আওয়ামী লীগ ও অন্যদের সময়ের তুলনাও করেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘২১ বছরে (১৯৭৫ থেকে ১৯৯৬ সাল) মানুষ কী পেয়েছে? আর আওয়ামী লীগের সময় মানুষ কী পেয়েছে।’

আফগানিস্তান ইস্যুতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তালেবানের উত্থানে ভয়ের কিছু নেই। যেকোনো অবস্থা মোকাবেলা করার মতো ক্ষমতা আমরা রাখি। তবে আফগানিস্তানের বাতাস কোনোভাবেই যেন আমাদের দেশে আসতে না পারে সেজন্য আমরা যথেষ্ট সতর্ক রয়েছি। আমরা আমাদের পররাষ্ট্রনীতি ধরে রেখে এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছি।’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে সন্ত্রাসী হামলার পর আল কায়েদার উত্থান হলে বাংলাদেশ থেকে অনেকে আফগানিস্তানে গিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।

শেখ হাসিনা ওই সময়ের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘বহু লোক তখন সেখানে ট্রেনিং নিয়ে আসে, অর্থ সম্পদ বানিয়ে নিয়ে আসে। আমরা কিন্তু সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদের বিষয়গুলোকে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে এনেছি। একটা দুটা ঘটনার পর অনেকে ভেবেছিল, আমরা তা সমাধান করতে পারব না। কিন্তু আমরা সাথে সাথে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি।’

জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ,সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। এই জঙ্গিবাদ কখনও মঙ্গল বয়ে আনে না, শান্তি নষ্ট করে, উন্নয়নকে ব্যাহত করে, সে কথা বোঝাতে হবে।

সরকারপ্রধান বলেন, দেড় লাখ ঘর (উপহার) দেয়া হলো। এগুলোর সবগুলোই কি ভেঙে পড়েছে নাকি কেউ ভেঙেছে। আমরা নয়টি জায়গায় দুর্নীতি পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়েছি। কিন্তু বাকিগুলোতে কোনো দুর্নীতি ছিল না।

প্রোজেক্টরে ক্ষতিগ্রস্ত কিছু ঘরের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, এগুলো হাতুড়ি-শাবল দিয়ে ভেঙেছে। আপনারা বিষয়টি একটু ভালো করে দেখেন, খোঁজ নেন। আপনারা এটা খুঁজে বের করলেন না, কারা এটা ভাঙলো। করোনাকালে ঘরগুলো তৈরির ফলে এতো মানুষের কাজের সুযোগ হলো, সেটাও দেখলেন না। আমি কি জানতে পারি কেন আপনারা এটা দেখেননি?

আর পড়ুন:   বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রকারীদেরও মুখোশ উন্মোচন হওয়া প্রয়োজন

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বার বার তাগিদ দেয়ার পরও আশাব্যাঞ্জক সাড়া না পাওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কোনো কোনো সংস্থা রোহিঙ্গাদের শরণার্থী করে রাখতেই বেশি আগ্রহী বলে তার মনে হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মনে হয় রিফিউজি পালাটা একটা ব্যবসা কোনো কোনো সংস্থার জন্য। রিফিউজি না থাকলে তাদের চাকরিই থাকবে না। এটা হল আসল কথা।”

রোহিঙ্গা সঙ্কট এবার পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে, কিন্তু নিপীড়িত এই জনগোষ্ঠীর একজনকেও এখন পর্যন্ত মিয়ানমারে তাদের মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে মিয়ানমারে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

এ বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা ও অব্যাহত সহযোগিতা আশা করি। মিয়ানমারকে অবশ্যই তার নাগরিকদের প্রত্যাবর্তনের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সহযোগিতা করতে

অনেক প্রস্তাব আসে রোহিঙ্গাদের জন্য এখানে অনেক কিছু করে দিতে চায়। আমি সোজা বলে দিই, যান মিযানমারে, ওখানে ঘর করেন, ইশকুল করেন, এখানে করা লাগবে না। আমার কাছে যেটা মনে হয়, (তাদের কাছে) সব কিছুই যেন একটা ব্যবসা।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেক সংস্থা আছে, যারা রোহিঙ্গা সঙ্কটের সমাধানে বরাবারই ভালো সাড়া দিয়ে যাচ্ছে। আবার কিছু সংস্থা প্রত্যাবাসন প্রশ্নে সেই আগ্রহ দেখায় না।

বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার এই চাপে কক্সবাজারের পরিবেশ ও প্রতিবেশের যে ক্ষত হচ্ছে, সে কথা জাতিসংঘে তুলে ধরার কথা জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “সেখানে নানা ধরনের অসঙ্গতি চলছে, নারী পাচার, শিশু পাচার, সবচেয়ে বড় ড্রাগ… এই ড্রাগ পাচারের সাথে জড়িয়ে পড়ছে তারা (রোহিঙ্গারা)। যেটা আমাদের জন্য সবচেয়ে আশঙ্কাজনক।