চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেছেন, করোনা জনিত কোভিড-১৯ সংক্রমণ অতিদ্রুত হারে বৃদ্ধির ফলে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রগুলোতে ঠাঁই নেই অবস্থা। এই পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ও অস্বস্তিকর। উদ্ভুত এই পরিস্থিতি সামাল দিতে চসিকের ব্যবস্থাপনায় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান লালদিঘী পাড়ে লাইব্রেরী ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবনে স্থাপিত ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন সেন্টারের যাত্রা শুরু হলো জীবন ছন্দে ফিরে যাওয়ার প্রত্যাশা ও অঙ্গীকার পূরণের স্বপ্ন নিয়ে। তিনি আজ মঙ্গলবার দুপুরে চসিক পরিচালিত আইসোলেশন সেন্টারের যাত্রা শুরুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথাগুলো বলেন। তিনি আরো বলেন, সংক্রমণের দ্রুত বিস্তার সত্ত্বেও দিশেহারা হওয়া বা মনোবল হারানোর অবকাশ নেই। করোনার প্রথম থাবায় অনেক উন্নত দেশ হিমসিম খেলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদক্ষ নেতৃত্ব ও দুরদর্শিতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা সম্ভব হয়েছিল এবং অনেক উন্নত দেশের আগেই এ দেশে করোনা প্রতিরোধক টিকার প্রথম ডোজ প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয় এবং ৮ এপ্রিল থেকে দ্বিতীয় ডোজ প্রয়োগ শুরু হতে যাচ্ছে। এই সাফল্য ও অর্জন আশা জাগানিয়া। আমাদের মনে-প্রাণে এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আমরা কখনো জীবন ও জীবিকা ছন্দ হারাবো না। আমরা যুদ্ধে বিজয়ী জাতি তাই করোনা যুদ্ধেও কিছুতেই হারাতে পারি না। তিনি জানান, সবধরণের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি, সামর্থ্য ও মনোবল উজাড় করে আপাতত ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন সেন্টারটি চালু হলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় এটার সম্প্রসারিত হবে এবং চিকিৎসক ও জনবল বাড়ানো হবে। এছাড়া আরো কয়েকটি আইসোলেশন সেন্টার ও ফিল্ড হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই আইসোলেশন সেন্টারটিতে আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেয়া হবে। তিনি এখানে নিয়োজিত ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরকে সামাজিক ও মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে সেবা প্রদানের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা সেবাদানে নিয়োজিত তাঁদের অবশ্যই মূল্যায়ন করা হবে। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব তহবিল থেকে ১শতাংশ হারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে দেয়ার সিদ্ধান্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দিত জানিয়ে বলেন, এতে নগরীর উন্নয়ন আরো বেগবান হবে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কিছু অংশ চসিককে দেয়ার দাবীটি প্রথম উত্থাপন করেছিলেন সাবেক মেয়র এ. বি. এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী, আমি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আমার সাথে দেখা করতে এলে বিষয়টি তাঁকে অবগত করলে তিনি আমলে এনে বলেন, এ ব্যাপারে একমাত্র সিদ্ধান্ত নিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অতঃপর সিদ্ধান্তটি গৃহীত হওয়ায় চট্টগ্রাম নগরবাসী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞই নয়, তিনি অনন্তকাল অন্তরে চিরঞ্জীব হয়ে থাকবেন।

আর পড়ুন:   কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে চট্টগ্রামে যুবলীগের বিক্ষোভ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্যানেল মেয়র মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, কাউন্সিলর আবু হাসনাত মোহাম্মদ বেলাল, সংরক্ষিত কাউন্সিলর রুমকি সেনগুপ্ত, স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আকতার চৌধুরী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডা. মোহাম্মদ আলী।

চসিক ও চউক প্রতিনিধি দলের সাক্ষাতকালে ঐক্যমত

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আইসোলেশন সেন্টারের উদ্বোধনের পর পরিদর্শন করছেন চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী

চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসণে মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া চলাকালে বর্ষা মৌসুমে পানি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির কারণ হয়ে না দাঁড়ায় সে ব্যাপারে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সুপরিশ ও পরামর্শের সাথে সহমত পোষণ করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষ। আজ মঙ্গলবার দুপুরে চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্দেশে প্যানেল মেয়র মো. গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে প্রকৌশল বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দলের সাথে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী হাসান বিন শামসের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতকালে এই সহমত পোষণ করা হয়। সাক্ষাতকালে চউক কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি দল চসিক প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দেন যে, মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় ৩৬টি খালের যে সকল অংশে বাঁধ দেয়া হয়েছে সে সব স্থানে পানি চলাচলের পথ যাতে রুদ্ধ না হয় সেজন্য বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই পানি চলাচলের বিকল্প পথ তৈরী করে দেয়া হবে। কেননা মেগা প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ প্রায় অর্ধেক সম্পূর্ণ হলেও এ বছর এর পূর্ণ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। তাই এবার বর্ষা মৌসুমে নগরীতে জলাবদ্ধতার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। এই সমস্যা যাতে সহনীয় পর্যায়ে থাকে সে জন্য পানি চলাচলের পথ বাঁধামুক্ত রাখার বিষয়টিকে চউক গুরুত্ব দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আইসোলেশন সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য করছেন চসিক মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী

চট্টগ্রাম নগরীতে জলাবদ্ধতা নিরসণের মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে চসিক ও চউক এখন থেকে নিবিড় সমন্বয় সাধন করে যাবে বলে উভয়পক্ষ একমত প্রকাশ করে বলেন, এতে জন দুর্ভোগ লাঘব হবে ও প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত সম্পন্ন হলে জলবদ্ধতা নিরসণের স্বার্থকতা প্রাপ্তির পূর্ণতা অর্জিত হবে। তাই সমন্বয় সাধন সফলতার শ্রেষ্ঠ উপায়। বৈঠকে চসিক প্রতিনিধি দল প্রকল্প বাস্তবায়নকালে যে সকল নালার পাশের রাস্তা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তা চউককে জানালে তারা এসব রাস্তার ক্ষতিগ্রস্থ অংশ মেরামত করে দেবেন বলে প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্থ করেন। এছাড়া ইতিমধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন কালে চউক শাখা নালাসহ যে কাজগুলো সম্পন্ন করেছে তা বুঝে নেয়ার জন্য চসিককে পত্র প্রেরণ করলে চসিক প্রতিনিধি দল জানান যে, সম্পূর্ণ মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়া কোনো আংশিক কাজ বুঝে নেয়া সমীচীন নয়। তাই আগে পুরো প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়াটাই বড় অর্জন। সাক্ষাতকালে চসিকের পক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম মানিক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুল হুদা, সুদীপ বসাক, নির্বাহী প্রকৌশলী বিপ্লব দাশ, ফরহাদুল আলম, চউকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প তদারককারী সেনা বাহিনীর পক্ষে পিডি লে. কর্ণেল শাহ আলী ও চউকের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

আর পড়ুন:   ইতালিতে ফের বন্ধ হচ্ছে স্কুল-দোকানপাট ও রেস্তোরাঁ  

লকডাউন চলাকালে চসিকের মোবাইল কোর্ট অভিযান

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আজ মঙ্গলবার নগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানকালে নগরীর মেহেদিবাগ, প্রবর্তক মোড়, পাঁচলাইশ থানা মোড়, মুরাদপুর ও বহদ্দারহাট কাঁচা বাজার এলাকায় করোনা ভাইরাসজনিত রোগের বিস্তার রোধে জনসাধারণকে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সচেতন করা হয়।  সে সময় সরকার কর্তৃক ঘোষিত লকডাউনের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাস্ক না পরে বাইরে বের হওয়ায় দশ জনকে এক হাজার পাঁচশত টাকা জরিমানা করা হয় এবং  অভিযানে মাস্ক বিহীন জনসাধারনকে মাস্ক প্রদান করা হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মারুফা বেগম নেলী ও স্পেশাল ম্যাজিস্ট্রেট (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) জাহানারা ফেরদৌসের নেতৃত্বে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। অভিযানকালে সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটকে সহায়তা প্রদান করে।