শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশে সফররত শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। বাণিজ্যের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে একমত প্রকাশের পাশাপাশি যুব উন্নয়ন, কৃষি, কারিগরী শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ছয়টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে।

আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছান দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে যৌথ ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আমাদের এখন দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে (এফটিএ) যাওয়া উচিত।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সেক্টর বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করার পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি ধারণার প্রশংসা করে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, প্রায় এক ঘন্টাব্যাপী এ বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক ইস্যুতে আলোচনা হয়। গত বছর আগস্টে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজপাকসের এটাই তাঁর প্রথম বিদেশ সফর ছিল। বিকেলে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত শেষে শনিবার সন্ধ্যায় কলম্বোর উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেছেন শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি মাহিন্দা রাজাপাকসে।

শীর্ষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি সেক্টরের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, শ্রীলঙ্কার বাজারে বাংলাদেশের অনেক পণ্যের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগে শ্রীলঙ্কান উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের পাওয়ার সেক্টরে বিনিয়োগ করছে। আমরা শ্রীলঙ্কান বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক এবং হাইটেক পার্কগুলোতে আরও বেশি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানাই।

শনিবার সকাল পৌনে ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আসেন বাংলাদেশে সফররত শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহেন্দা রাজাপাকসে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের টাইগার গেটে তাঁকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথমে দুই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও মাহিন্দা রাজাপাকসে একান্ত বৈঠকে বসেন।

একান্ত বৈঠকের পর দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন তাঁরা। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ছয়টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। একান্ত ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ভিজিটর বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং কার্যালয় ত্যাগ করেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আরও জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সম্ভাবনার চেয়ে অনেক কম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য হয়। আমাদের এখন দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে যাওয়া উচিত। ধান চাষ, মিঠা পানির মাছ চাষসহ কৃষি ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপরও গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি উপকূল, এ্যাকোয়াকালচার, গভীর সমুদ্র সৎস্য আরোহন বিষয়ে শ্রীলঙ্কা থেকে প্রযুক্তি জ্ঞান আর্জনের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সক্ষমতা অর্জন, কারিগরী প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের জন্য শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশী নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাদারদের প্রশিক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিশ্বমানের ওষুধ আমদানি করে শ্রীলঙ্কা লাভবান হতে পারে। জরুরি রেসপন্স, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন এবং প্রশমন বিষয়ে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বিনিময় করার আগ্রহ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বলেন, সম্পর্কে সামনে এগিয়ে নিতে নিয়মিত সাক্ষাত ও বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেগুলো নিয়মিত হওয়া উচিত। দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে গুরুত্ব সহকারে দেখে। আগামী বছর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তির কথাও বৈঠকে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আগামী বছর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রীলঙ্কা সফরের আমন্ত্রণ জানান রাজপাকসে। বাংলাদেশের ডিজিটাল দেশে রূপান্তরের প্রশংসা করেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। পারস্পরিক লাভের জন্য কৃষি, স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাসহ বিভিন্ন সেক্টরে বাংলাদেশের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সেক্টর বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসে।

আর পড়ুন:   দুর্ঘটনায় বরযাত্রীবাহী বাস, নিহত বেড়ে ৮

বাংলাদেশের ব্লু-ইকোনমি ধারণার প্রশংসা করেন এবং এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন শ্রীলঙ্কান প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা থেকে অভিজ্ঞতা অর্জনের আগ্রহ প্রকাশের পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন- পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন এবং শ্রীলঙ্কার প্রতিনিধি দলে ছিলেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী জি এল পিরিস, রুরাল হাউজিং এ্যান্ড কনস্ট্রাকশন এ্যান্ড বিল্ডিং ম্যাটেরিয়াল ইন্ডাস্ট্রিজ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইন্দিকা আনুরুদ্ধ, বাটিক-হ্যান্ডলুম ফেব্রিক এ্যান্ড লোকাল এ্যাপারেল প্রোডাক্টস বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দায়াসিরি জায়াসেকারা, মানি এ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেট এ্যান্ড স্টেট এন্টারপ্রাইজ রিফর্মস বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আজিথ নিওয়ারড কাবরাল, আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তারক বালাসুরিয়া, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সচিব গামিনি সোদারা সেনারাথ।

বিকেলে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের লক্ষ্যে উন্নয়নের অভিযাত্রায় বাংলাদেশকে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে দুই নেতা গুরুত্বারোপ করেছেন।

৬ দফা সমঝোতা স্মারক সই ॥ দিপাক্ষিক বৈঠক শেষে যুব উন্নয়ন, কৃষি, কারিগরী শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেতে সহযোগিতা বাড়াতে ছয়টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে। সমঝোতা স্মারকগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে যুব উন্নয়ন জোরদারে সহযোগিতা, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা পরিষদ (বিএআরসি) এবং শ্রীলঙ্কার কাউন্সিল ফর এগ্রিকালচারাল রিসার্চ পলিসি (এসএলসিএআরপি) এর মধ্যে সমঝোতা স্মারক, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর এবং শ্রীলঙ্কার টার্সিয়ারি এ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন কমিশন (টিভিইসি) এর মধ্যে কারিগরি দক্ষতা বিনিময়ে সমঝোতা স্মারক।

অন্যান্য সমঝোতা স্মারক হচ্ছে, শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণে সহায়তা, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ এবং লক্ষণ কাদিরগামার ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন এ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজের মধ্যে সহযোগিতা এবং ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল মেয়াদে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি বিনিময় সমঝোতা চুক্তি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সফররত শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসে নিজ নিজ দেশের পক্ষে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।

যুব উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারে সমঝোতা স্মারক সই করে দুই দেশ। বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ও শ্রীলঙ্কার পক্ষে রুরাল হাউজিং এ্যান্ড কনস্ট্রাকশন এ্যান্ড বিল্ডিং ম্যাটেরিয়াল ইন্ডাস্ট্রিজ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইন্দিকা আনুরুদ্ধ।

বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল রিসার্স কাউন্সিল (বিএআরসি) এবং শ্রীলঙ্কার কাউন্সিল ফর এগ্রিকালচারাল রিসার্স পলিসি (এসএলসিএআরপি) এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। বাংলাদেশের পক্ষে এ সমঝোতা স্মারকে সই করেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং শ্রীলঙ্কার পক্ষে সই করেন বাটিক, হ্যান্ডলুম ফেব্রিক এ্যান্ড লোকাল এ্যাপারেল প্রোডাক্টস বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দায়াসিরি জায়াসেকারা।

কারিগরি সহযোগিতা বিনিময়ে বাংলাদেশের ডাইরেকটোরেট অব টেকনিক্যাল এডুকেশন (ডিটিএ) এবং শ্রীলঙ্কার টারশিয়ারি এ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন কমিশন (টিভিইসি) এর একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও শ্রীলঙ্কার পক্ষে দেশটির শিক্ষামন্ত্রী জিএল পিরিস।

আর পড়ুন:   তৃণমূলের দুর্গ বাংলায় রকেট গতির উত্থান বিজেপির

শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশি নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রশিক্ষণে সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ সরকার এবং শ্রীলঙ্কান সরকার। এতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক ও শ্রীলঙ্কার পক্ষে তাদের মানি এ্যান্ড ক্যাপিটাল মার্কেট এ্যান্ড স্টেট এন্টারপ্রাইজ রিফর্মস বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আজিথ নিওয়ারড কাবরাল।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ এবং শ্রীলঙ্কার লক্ষণ কাদিরগামার ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স এ্যান্ড স্ট্রাটেজিক স্টাডিজ এর মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এতে সই করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এবং শ্রীলঙ্কার পক্ষে তাদের আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী তারক বালসুরিয়া।

২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিদলের সফর বিনিময়ে আরেকটি সমঝোতা সই করেন বাংলাদেশের পক্ষে সংস্কৃতি বিষয়ক সচিব এম বদরুল আরেফিন এবং শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সচিব গামিনি সেদারা সেনারাথ।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ॥ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। শনিবার সকালে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান তিনি।

পুষ্পাঞ্জলী অর্পণের পর স্বাধীনতার এই মহান স্থপতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর অংশ হিসেবে সেখানে তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। তিনি পরে পরিদর্শক বইয়েও স্বাক্ষর করেন। পরিবদর্শ বইয়ে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে লেখেন- ‘বাংলাদেশ ও সারাবিশ্বের সকল শান্তিপ্রিয় মানুষের কাছে শ্রদ্ধার এই পবিত্র স্থানটি আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ ও অলোড়িত করেছে। বাংলাদেশে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট এই স্থানে সংঘটিত ট্রাজেডি, বাংলাদেশের জনগণের জন্য স্বাধীনতা রক্ষা এবং লালনে বিভিন্নভাবে শক্তি ও সাহসের প্রতীক হয়ে উঠেছে, বঙ্গবন্ধু যে স্বাধীনতার জন্য তাঁর মূল্যবান জীবন উৎসর্গ করেন। যারাজীবন ও স্বাধীনতাকে সম্মান করেন তাদের জন্য এটি চিরন্তন শ্রদ্ধাঞ্জলি হোক।’

এরপর রাজাপাকসে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি বাড়ি (বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর) ঘুরে দেখেন এবং সেখানে দর্শনার্থী বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এসময় বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দুই দিনের সফরে শুক্রবার সকালে ঢাকায় আসেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। কলম্বো থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় এক টুইটে রাজাপাকসে লেখেন- ‘দুই দেশই যাতে লাভবান হয়, সেজন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চান।’

শ্রীলঙ্কার শিক্ষামন্ত্রী, আঞ্চলিক সহযোগিতা প্রতিমন্ত্রী, তাঁর ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী, গ্রামীণ গৃহায়ণ ও গৃহনির্মাণ সামগ্রী শিল্প প্রতিমন্ত্রী, অর্থ প্রতিমন্ত্রী এবং সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাসহ ২৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই সফরে প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসের সঙ্গে রয়েছেন।

সফরের প্রথম দিনে বিকেল সাড়ে ৪টায় জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের লক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। এর আগে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ বেদীতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন এবং সেখানে একটি গাছের চারা রোপন করেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমিনও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ।