বাড়িতে ঢুকে সাতকানিয়া উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হককে (৯০)বাড়িতে ঢুকে   হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।  আজ সোমবার (১ মার্চ) সকালে কেওচিয়া চেয়ারম্যান পাড়ায় নিজ বাসা থেকে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকারিয়া রহমান জিকু বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রবিবার রাত ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

নিহত আবদুল হক উপজেলার কেঁওচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান ও কেঁওচিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। তিনি জনার কেঁওচিয়া উকিল বাড়ির মৃত কাছিম আলীর ছেলে।

পুলিশ ও নিহত ব্যক্তির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতে খাওয়া-দাওয়া শেষে আবদুল হক মিয়া নিজের কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন। সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বাড়ির গৃহপরিচারিকা ও প্রহরী এসে দেখেন আবদুল হক এখনো ঘুম থেকে জাগেননি। পরে তারা ডাকাডাকি করেও গৃহকর্তার সাড়া না পেয়ে ঘরের পেছনের দরজা দিয়ে ভেতরে ঢোকেন। এসময় গৃহকর্তাকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় আর গৃহকর্মী জমির উদ্দিনকে মুখ ও দুই পা কাপড় দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান।

নিহত আবদুল হকের ছেলে মঈন উদ্দিন বলেন, গতকাল রাতে বাড়িতে তাঁর বাবা, একজন গৃহকর্মী, গৃহপরিচারিকা ও প্রহরী ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। আজ সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এলাকার লোকজনের মাধ্যমে তিনি তাঁর বাবাকে হত্যার বিষয়টি জানতে পারেন।

নিহত আবদুল হকের ছেলে মো. মঈন উদ্দিন বলেন, ‘বাড়িতে আমার বাবা, একজন গৃহকর্মী, একজন গৃহপরিচারিকা ও একজন দারোয়ান ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে এলাকার লোকজনের মাধ্যমে আমার বাবাকে হত্যা করার বিষয়টি জানতে পেরেছি।’

সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সোমবার দুপুরে কেঁওচিয়ার সাবেক চেয়ারম্যানের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

আর পড়ুন:   ধর্ষক মজনুর ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত

তিনি বলেন, ‘নিহত আবদুল হকের মাথার বাম পাশ, বাম চোখ ও বাম হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রবিবার গভীর রাতে বা সোমবার ভোরের যে কোনো সময় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়ির গৃহকর্মী জমির উদ্দিনকে পুলিশের হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।