চট্টগ্রাম বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ডের বিতরণ দক্ষিণাঞ্চলে সদ্য যোগদানকারী প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান সামিনা বানু চাটগাঁর বাণীকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বলেছেন, “বর্তমান সরকার মুজিববর্ষে শতভাগ জনগণকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে সচেষ্ট। অবৈধভাবে বিদ্যুতের ব্যবহার ও অপচয় রোধে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধে টাস্কফোর্স গঠন ও ঝটিকা অভিযান চলছে। পোস্টপেইড মিটার পরিবর্তন করে ডিজিটাল ও প্রেপেইড/স্মার্ট মিটার স্থাপন করা হচ্ছে। জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করে বিদ্যুৎ চুরি ও অবৈধ ব্যবহার বন্ধে কার্যকর পদপেক্ষ নেয়া হচ্ছে।”

বিদ্যুতের সার্বিক উন্নয়নে সরকার খুবই আন্তরিক। ২০২১ সালের মধ্যে সরকার দেশের প্রতিটি গ্রাম ও পরিবারে বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছে দিতে আন্তরিকভাবে প্রয়াস চালাচ্ছে। একই সাথে বিদ্যুতের উৎপাদন ক্ষমতা ২৪হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করে গ্রাহক চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে।” নতুন কর্মস্থলে তো যোগ দিলেন, বিদ্যুৎ গ্রাহকদের সেবায় আপনার ভূমিকা কী হবে- এমন এক প্রশ্নের উত্তরে প্রধান প্রকৌশলী সামিনা বানু বলেন, “ বিদ্যুত গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সুযোগ ও সেবা দেয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। এক্ষেত্রে আমাদের আন্তরিকতার কোনো অভাব নেই। গ্রাহকসেবার ক্ষেত্রে যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে সে ব্যাপারে আমি সর্বদা সজাগ ও সচেষ্ট আছি।” একজন নারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বপালনে কোনো সমস্যা অনুভব করেন কি না – জিজ্ঞেস করা হলে সামিনা বানু বলেন, “বোর্ড কর্তৃপক্ষ আমার ওপর আস্থা রেখে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। দায়িত্বপালনে আন্তরিক ও সচেষ্ট হলে যে কেউ (নারী কিংবা পুরুষ) তা অর্জনে সফল হবে। আমি আমার কর্মকর্তা-কর্মচারিদের সাথে নিয়ে কাজ চালিয়ে যেতে কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করি না।” মুজিববর্ষে বিদ্যুৎ গ্রাহকদের প্রতি কী বার্তা দেবেন- জানতে চাইলে প্রধান প্রকৌশলী সামিনা বানু চাটগাঁরবাণীকে বলেন,  “ বিদ্যুৎ অপচয়রোধে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারংবার পরামর্শ দেয়ার পরও আমাদের দেশের সর্বস্তরের মানুষ বিদ্যুৎ ব্যবহার ও অপচয়ের ব্যাপারে সচেতন নয়। বিদ্যুৎ ব্যবহারে গ্রাহকেরা মিতব্যয়ী হতে আগ্রহী নন। অফিস ও ঘর থেকে বের হওয়ার সময় বাতি বন্ধ করা হয় না। দিনের ৯টা বাজেও ঘরের বাইরের দরজা-সিডিতে বাতি জ্বললেও তা নেভানোর গরজ মনে করে না। কিছুক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকলে গ্রাহকেরা অস্থির হয়ে যান। বিদ্যুৎ জমিয়ে রাখা যায় না, এটি টেকনিক্যাল বিষয়। তবে বিদ্যুৎ বিতরণলাইন উন্নয়ন ও মেরামত করতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে লাইন শাটডাউন করে কাজ করতে হয় বলে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎবিতরণে ছন্দঃপতন হয়। তবে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে আমরা বদ্ধপরিকর।”

আর পড়ুন:   এনজিওর চাকরির আড়ালে ইয়াবা পাচার!