গ্রামবাসী রাতজেগে পাহারা  ও পুলিশী টহল জোরদার করার পরও সীতাকুণ্ডে ডাকাতির ঘটনায় জনমনে এক ভয়ানক আতঙ্ক ভর করেছে। গেল রাত সীতাকুণ্ডের মুরাদপুরে ২বাড়িতে ডাকতি, গণপিটুনিতে ১ডাকাত নিহত এবং ডাকাতদলকে প্রতিরোধ করতে গেলে অন্তত ৫/৬ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছে।

গতকাল রাত আড়াই-তিনটার সময় ১৫/১৬জনের মুখশধারী  ডাকাতদল সীতাকুণ্ডের মুরাদপুরের বাংলাবাজারের পশ্চিমে প্রফেসর টুটলের ও নুরুন নবী বাড়িতে মুলঘরের দরজা ভেঙ্গে বসতঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে স্বণালঙ্কার, টাকা, মোবাইল নিয়ে নির্ভেঘ্নে স্থান ত্যাগ করার পর তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী ডাকাতদলকে  প্রতিরোধ করার চেষ্টা চালায়।কিন্তু ডাকাতরা স্থানীয় ৫/৬জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে  এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মুরাদপুর থেকে দক্ষিণে বাড়বকুণ্ডের দিকে পালিয়ে যায়।এসময় মসজিদ থেকে মাইকে ‘ডাকাত, ডাকাত’ চিৎকার করলে এলাকাবাসীর জোরালো প্রতিরোধের মুখে ডাকাতদল ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে।  বাড়বকুণ্ডের মান্দারিটোলা এলাকায় রাতজেগে পাহরাদারেরা

ডাকাত দলকে ধাওয়া করে এবং দুই ডাকাতকে ধরে ফেলে। পরে ওই দুই ডাকাতকে গণপিটুনি দিলে তারা গুরুতর আহত হয়। পরে ডাকাত দল আহত একজনকে নিয়ে যেতে পারলেও অপরজন রয়ে যায়।’

‘খবর পেয়ে দায়িত্বরত সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত  ডাকাতকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতের মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।সীতাকুণ্ড সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল করিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ভুক্তভোগিরা বলছেন, সন্দ্বীপ চ্যানেলের  নদীপথে সীতাকুণ্ডের উপকূলীয় এলাকায় প্রায়োতে ডাকাতির চেষ্টায় চালায়।

ডাকাত আতঙ্কে রাত কাটাচ্ছে এখানকার গ্রামীণ জনপদের মানুষেরা। বিশেষকরে যারা একাকী বাড়িতে বসবাস করেন তাদের মধ্যে যেন আতঙ্কের শেষ নেই।

গত এক মাসে  সীতাকুণ্ডে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে ১৩টির মত । ডাকাতরা নিত্যনতুন বিভিন্ন কৌশল অবলম্বর করে ডাকাতি করছে। এর মধ্যে এখানকার বিভিন্ন স্থানে  ৪/৫টি ঘটনায় খাবারের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে স্বর্ণ-টাকা লুট করে নিয়েছে। এতে ওই  পরিবারগুলোর শিশুসহ   অসুস্থ প্রায় ৩৫/৪০জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। ডাকাতের হাত থেকে বাঁচতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের উদ্যোগে পাহারা জোরদার করেন। সীতাকুণ্ডের সৈয়দপুর, রারৈয়াঢালা, মুরাদপুর, বাড়বকুণ্ড ,  বাঁশবাড়িয়া, কুমিরা এলাকায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় যুবকেরা।

আর পড়ুন:   আটকেপড়া পেঁয়াজের ট্রাক ঢুকছে বাংলাদেশে