স্থায়ীত্বশীল উন্নয়নের জন্য সংগঠন ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন – ইপসা’র উদ্যোগে বাংলাদেশ এনজিও ফা্উন্ডশন- বিএনএফ’র আর্থিক সহযোগিতায় চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী ও সীতাকুণ্ড উপজেলায় ২০০৭ সাল থেকে দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘নারীর ক্ষমতায়ন’ প্রকল্পটি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয়ে আসছে। এ প্রকল্প’র সীতাকুণ্ডের ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা মরিয়ম বেগমকে গত কয়েক বছর আগে প্রশিক্ষণ পরবর্তীতে একটি সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়।

অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী জয়িতা এওয়ার্ড-২০২০ ক্যাটাগরীতে বিজয়ী মরিয়ম বেগম

মরিয়ম বেগম সীতাকুণ্ড উপজেলার পৌরসভাধীন ৭নম্বর ওযার্ডের আমিরাবাদ গ্রামের বাসিন্দা।২০০০ সালে মরিয়ম বেগম এর স্বামী মো. মুছা’র অসুস্থতাজনিত কারণে আকস্মিকভাবে মৃত্যু হলে ৩ মেয়ে ও ১ ছেলে শিশুকে নিয়ে অকুল সমুদ্রে পরে যান।স্বামীর মৃত্যুর চারদিন যেতে না যেতে মরিয়মের শাশুড়ি ছোট ছোট ছেলে মেয়েসহ তাকে নির্দয়ভাবে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করে দেয়। ছোটবেলায় মরিয়ম বেগম পিতৃমাতৃহীন হন।দরিদ্র বাপের বাড়ীতে কোনো ভিটেবাড়ি ছিল না যে, তার ঠাঁই হবে।একমাত্র ভাই ছিল, তাও খুবই গরীব। ভাড়া বাসায় কোনোমতে থাকতেন।শ্বশুর বাড়ি থেকে বের হয়ে আসার সময় বড় মেয়েটি সবে ৭ বছরে পা রেখেছে।কিভাবে এ অবুঝ শিশুদের নিয়ে এগিয়ে যাবেন দিশাহারা হয়ে পড়েন।কিছুদিন পরিচিত জনদের কাছে থাকলেন। অবশেষে ছোট্ট একটা বাসা ভাড়া নিয়ে এবং মানুষের বাসায় ফাইফরমাস খেটে কাজ করে সংসার চালাতে শুরু করেন।এতে সংসারের আর্থিক সংকট মেটাতে সম্ভব না হলে তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে  ভাইয়ের সহযোগিতায় ইপসা’র সীতাকুণ্ড ফিল্ড অফিসে রাধূনী হিসেবে সামান্য বেতনের একটি চাকরী নেন। উক্ত বেতনের পাশাপাশি ইপসা’র প্রধান নির্বাহী মো. আরিফুর রহমান এর মা আয়েশা আক্তার বেগম এর সহযোগিতায় ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখাতে থাকেন।এরিমধ্যে মরিয়ম বেগম সীতাকুণ্ড উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে ইপসা’র সহায়তায় দর্জি কাজের ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।

মরিয়ম বেগম

তিনি প্রশিক্ষণ শেষে অর্থ সঞ্চয় করে নিজের জন্য একটি সেলাই মেশিন কিনতে পারছিলেন না।ইপসা সীতাকুণ্ড অঞ্চলে বিএনএফ’র সেলাই মেশিন বিতরণ কার্যক্রম শুরু করলে মরিয়ম বেগমকে একটি সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়।।উক্ত সেলাই মেশিন পেয়ে মরিয়ম বেগম অফিসের রাধূনী হিসেবে দিনে কাজ করে, বাকী সময় বাসায় দর্জি কাজ করা শুরু করেন।আশপাশের আগ্রহী মানুষকেও কিছু কিছু বিষয়ে দর্জি কাজ শেখাতে লাগলেন।দর্জি কাজের মাধ্যমে তার আর্থিক উপার্জন বেড়ে যায়। এভাবে ইপসা ও বিএ্নএফ’র সহায়তায় তার চার সন্তানের লেখাপড়া ও ভরনপোষণের দ্বার উন্মুক্ত হয়।

আর পড়ুন:   লৌহমানবী শেখ হাসিনাকে আমৃত্যু রাষ্ট্রক্ষমতায় চাই

মরিয়ম বেগম ‘‘আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস-২০২০’’ উদযাপন উপলক্ষে ‘‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’’ কার্যক্রমের আওতায় সীতাকুণ্ড উপজেলার শ্রেষ্ঠ জয়িতা হিসেবে নির্বাচিত হয়ে পুরষ্কৃত হয়েছেন।মরিয়ম বেগম অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী জয়িতা এওয়ার্ড-২০২০ ক্যাটাগরীতে বিজয়ী হন।মরিয়ম বেগম বলেন, ইপসা ও বিএনএফ’র একটি সেলাই মেশিন আমাকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করেছে।মরিয়ম বেগম তার এ বিজয়ে ইপসা ও বিএনএফ’র কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।আমরা মরিয়ম বেগম’র উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।

লেখক- সাদিয়া তাজিন, কথা সাহিত্যিক ও উন্নয়ন কর্মী।